• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৫ দুপুর

জাহাজ চলাচল বন্ধ, সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন দেড় হাজার পর্যটক

  • প্রকাশিত ১২:৫৪ দুপুর নভেম্বর ৮, ২০১৯
সেন্টমার্টিন
ফাইল ছবি সৈয়দ জাকির হোসাইন/ঢাকা ট্রিবিউন/

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে বন্ধ রয়েছে জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল

কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিনে বেড়াতে এসে আটকে পড়েছেন দেড় হাজারের মতো পর্যটক। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র কারণে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় তারা সেখানে আটকা পড়েন। এমনকি এক হাজারের বেশি পর্যটক টেকনাফ ঘাট থেকে ফিরে গেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বাংলা ট্রিবিউন।

পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল অবস্থান করছে। এ কারণে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। ফলে জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন জেলা প্রশাসক। দুর্ঘটনা এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের সমন্বয় কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, “বৈরী আবহাওয়া কারণে এ নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এই রুটে সাতটি জাহাজ চলাচল করছিল। দ্বীপে বেড়াতে এসে আটকা পড়া পর্যটকেরা নিরাপদে রয়েছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

প্রতিবেদনটিতে পর্যটকবাহী জাহাজ কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে আড়াই হাজারের মতো পযর্টক সেন্টমার্টিন বেড়াতে যান। প্রায় এক হাজারের মতো পর্যটক রাতে দ্বীপে অবস্থান করেন। এর আগের কয়েকদিন যাওয়া আরও পাঁচ শতাধিক পযর্টক দ্বীপে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পযর্টকেরা এসে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাটে ভিড় করেন। তবে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এক হাজারের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে চলে যান। আবার অনেকে টেকনাফের হোটেলে অবস্থান করছেন।

সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, “শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন ছিল, ফলে দ্বীপের পর্যটন ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আয়োজন করছিল। আগামী রবিবার পর্যন্ত দ্বীপে হোটেল-মোটেল, জাহাজ ছাড়াও সেখানকার স্থানীয়দের অনেক ঘরবাড়ি বুকিং ছিল পর্যটকদের জন্য। কিন্তু জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় হোটেল মালিকসহ দ্বীপের ব্যবসায়ীদের দেড় কোটি টাকার মতো লোকসান হবে।”

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার  (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “সমুদ্র উত্তাল থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী কোনও জাহাজ সেন্টমার্টিনে যেতে দেওয়া হয়নি। যেসব পর্যটক টিকিট কেটেছিলেন তাদের টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণে এসে দ্বীপে আটকা পড়া পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে রাত্রিযাপন করতে পারেন সেজন্য সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে।”