• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৮ রাত

'এহন একমাত্র ভরসা আল্লাহ'

  • প্রকাশিত ০৪:৫২ বিকেল নভেম্বর ৯, ২০১৯
ঝড় বুলবুল
বরগুনায় ৯ নভেম্বর মাইকিং করে ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।ঢাকা ট্রিবিউন

ময়না রানী বলেন, 'স্বাভাবিক জোয়ারেও মোগো এই সব এলাকা তলিয়ে যায়। এর মধ্যে যদি বইন্যা আয় হেলে মোরা করমু কী'

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় "বুলবুল" ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে। এরই মধ্যে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে জারি করা হয়েছে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত। সংকেত ঘোষণার পরপরই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বরগুনা সদর উপজেলার বেড়িবাঁধের বাইরে নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারীরা। 

ঘুর্ণিঝড় আঘাত হানায় মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বরগুনার ছয়টি উপজেলার ২ লাখ মানুষ। এদিকে জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে জোর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। 

বরগুনা সদর উপজেলার মাঝের চর এলাকার বাসিন্দা আফজাল বলেন, "ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বরগুনায় এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা দেখে মনে হয় সিডরের মতো ভয়াবহ হতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়টিও। মাইকিং করে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু কীভাবে কী করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যাবো না। ঘরের মধ্যেই অবস্থান করবো।"  

উপজেলার পোটকাখালী এলাকার আবুল হোসেন বলেন, "সরকার ঘর দেছে। হেই ঘরে মোরা বেড়িবাঁধের বাইরে থাকি। বইন্যার খবরে মনের মধ্যে ভয় ঢুকেছে। কিন্তু এখানে নিকটবর্তী কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নাই, যেখানে গিয়ে আমরা আশ্রয় নিবো। এহন একমাত্র ভরসা আল্লাহ। মাইয়া-পোয়াগুলো কোনোরহম শেল্টারে পাঠামু। হেরপর আইয়া এইহিনেই থাকমু।" 

একই এলাকার ময়না রানী বলেন, "স্বাভাবিক জোয়ারেও মোগো এই সব এলাকা তলিয়ে যায়। এর মধ্যে যদি বইন্যা আয় হেলে মোরা করমু কী?"

বুলবুল আঘাত হানায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে-বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা,বালিয়াতলী, বদরখালী, নিশানবাড়িয়া, বড়ইতলা, মাঝেরচর, গুলিশাখালী, আয়লা পাতাকাটা ও বুড়িরচর এলাকা। বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ কালিকাবাড়ি, আলিয়াবাদ, উত্তর কালিকাবাড়ি ও ভোড়া এলাকা। আমতলী উপজেলার-বৈঠাকাটা, পশুরবুনিয়া, জেলে পাড়া, কলাগাছিয়া, ও আমতলী পৌরসভার আম্মুয়ার চর এলাকা। তালতলী উপজেলার- খোটকারচর, তেতুলবাড়িয়া, নলবুনিয়া, আশারচর, সখিনা ও আমখোলা এলাকা। পাথরঘাটা উপজেলার- কাকচিড়া ইউনিয়নের কাকচিড়া এলাকা। বামনা উপজেলার- রামনা ও তালেশ্বর এলাকা। 

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে শনিবার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে আকাশ মেঘলা রয়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে দমকা হাওয়া। দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা ৫০৯টি আশ্রয়কেন্দ্র, ৪২টি মেডিকেল টিম, আটটি জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। 

দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) বরগুনা সদর উপজেলার টিম লিডার জাকির হোসেন মিরাজ বলেন, বরগুনা সদরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সিপিপির সদস্যরা মাইকিং করে মানুষজন আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি সিপিপির কর্মীরা তৎপর রয়েছে। 

বরগুনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সিপিপি, রেডক্রিসেন্ট কর্মীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই বেড়িবাঁধের বাইরের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। 

তিনি আরো বলেন, শুধু জেলা প্রশাসনই নয় স্থানীয় সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতি নেতৃবৃন্দসহ জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তারা সকল মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসবে।