• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৮ রাত

“ব্রেক্সিট ব্রিটিশ সংস্কৃতিতে তেমন প্রভাব ফেলবে না”

  • প্রকাশিত ০৭:১৮ রাত নভেম্বর ১৩, ২০১৮
dhaka lit fest logo

ব্রেক্সিট এবং পাংক মিউজিক কর্মজীবী ব্রিটিশদের কাছে জনপ্রিয় কারণ এই দুই-ই ‘উচ্চবিত্তদের’ অপছন্দের

নব্বইয়ের দশকের সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান আড়ম্বরতা ও আশাবাদকে বিবেচনায় নিয়ে ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্রিটিশ  সংস্কৃতির পরিবর্তনের দিকগুলো নিয়ে প্যানেল সদস্যগণ আলোচনা করেন।

ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্রিটিশ সংস্কৃতিতে কি কি পরিবর্তন এসেছে বা আসতে পারে তা নিয়ে এড কামিং এর সঞ্চালনায় ‘আনক্যুল ব্রিটানিয়া?’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় যোগ দেন জেমস মিক, জয়শ্রী মিস্রা, আহসান আকবর এবং অলগা গির্জাসনোভা। 

নব্বইয়ের দশকের সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান আড়ম্বরতা ও আশাবাদকে বিবেচনায় নিয়ে ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্রিটিশসংস্কৃতির পরিবর্তনের দিকগুলো নিয়ে প্যানেল সদস্যগণ আলোচনা করেন।

কামিং এর প্রশ্নের জবাবে ঔপন্যাসিক অলগা গির্জাসনোভা বলেন তার ব্রিটিশ সংস্কৃতির সাথে প্রথম পরিচয় ঘটে স্কুলে থাকতে “হাম্পটি ডাম্পটি” পড়ার সময়। “লৌহ পর্দার পেছনে হাম্পটি ডাম্পটি ভালোই কাজ করে যাচ্ছিলো”, বলেন তিনি।

ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক আহসান আকবর এই আলোচনায় যোগ দিয়ে বলেন, ১৯৯০ এর দশকে ব্লার, ওয়েসিস এবং টনি ব্লেয়ার সেসময়ে বেড়ে ওঠা প্রজন্মের প্রতি উচ্চাশা তৈরিতে অবদান রাখেন।

অপরদিকে, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী জয়শ্রী মিস্রা মনে করিয়ে দেন সেসময়ে লেবার পার্টির ‘শীতল মনোভাব’ একটু বেশি হিসেবি হওয়ায় তারা কোনো সঠিক এজেন্ডা নিয়ে আগাতে পারেনি।

অবশ্য আকবর বলেন, “ব্রেক্সিট ব্রিটিশ সংস্কৃতিতে তেমন প্রভাব ফেলবে না।“

ডান্ডিতে বেড়ে ওঠা ঔপন্যাসিক এবং সাংবাদিক জেমস মিক বলেন, তিনি পাংক মিউজিক শুনে বড় হয়েছেন। তিনি বলেন, “কর্মজীবী ব্রিটিশদের কাছে ব্রেক্সিট পাংক মিউজিকের মতোই জনপ্রিয়। কেননা এই দুই-ই ‘উচ্চবিত্তদের’ অপছন্দের। 

ইউরোপের জনগন, বিশেষত জার্মানির মানুষ ব্রেক্সিটকে কিভাবে নিয়েছে সে বিষয়ে আলোচনা করেন অলগা গির্জাসনোভা। 

যেসকল বাংলাদেশি দৈত নাগরিক যুক্তরাজ্যে ছিলেন তারা অনেকেই ব্যবসায় এবং চাকুরী হারানোর ভয়ে যে ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছেন সে প্রসঙ্গে কথা বলেন আহসান আকবর। 

আলোচনা পরবর্তীতে ইংরেজি ভাষা’র দিকে মোড় নেয়। এড কামিং বলেন ইংরেজি হলো ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক রপ্তানি। এরপরেই  প্যানেল আলোচকগণ ইংরেজি বৈশ্বিক ভাষা হিসেবে টিকে থাকবে কিনা সে আলাপে চলে যান।

জয়শ্রী মিস্রা বলেন, “ভারতে ইংরেজি ভাষাকে নিঃশ্বাস নেওয়ার মাধ্যমের মতো করে দেখা হয়"। তিনি মনে করেন ভারত পৃথিবীর মানচিত্রে যতদিন টিকে থাকবে, ইংরেজি ভাষা ততদিন একভাবে না একভাবে টিকে থাকবেই। 

এড কামিং সহমত পোষণ করে বলেন, চাইনিজ বা রুশ ভাষার চেয়ে সহজ হওয়ায় ইংরেজি গোটা বিশ্বেই একরকম গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। 

অন্যদিকে জেমস মিক ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, “যেকোনো ভাষাই সহজ এবং বৈশ্বিক ভাষা হওয়ার যোগ্য“। 

মিস্রা এবং গির্জাসনোভা ইংরেজির গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন। তারা দুজনই এমন কাউকে বিয়ে করেছেন যারা তাদের ভাষায় কথা বলেনা। ফলে, তাদেরকে ইংরেজির উপর নির্ভর করতে হয়। 

আলোচনার শেষ দিকে এসে প্যানেল সদস্যগণ ইংরেজি ভাষাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ব্রিটিশ মন্ত্রী বোরিস জনসনের উদাহরণ দিয়ে তারা বলেন, বোরিস জনসন যেভাবে ভাষা ব্যবহার করে, বিশেষ করে তার ল্যাটিন শব্দ ব্যবহার করে কথা বলা ঔপনিবেশিক আমলের ব্রিটেনকে মনে করিয়ে দেয়"। 

এড কামিং বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বোরিস জনসনকে দেখার চেয়ে উদ্ভট কিছু ভাবতে পারিনা“।