• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৬ দুপুর

'সময় এখন ধর্ষণ না করার জন্য পুরুষদের বলা'

  • প্রকাশিত ০৮:৩৯ রাত নভেম্বর ৮, ২০১৯
ঢাকা লিট ফেস্ট
ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৯ এর দ্বিতীয় দিনে 'নো ওয়ার্ল্ড ফর উইমেন' শীর্ষক প্যানেলে বক্তারা। ছবি: মাহমুদ হোসেন অপু/ঢাকা ট্রিবিউন

"ধর্ষণের শিকার না হওয়ার জন্য নারীদের বহুবার বলা হয়, এখন সময় হলো ধর্ষণ না করার জন্য পুরুষদের বলা"

ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে 'নো ওয়ার্ল্ড ফর উইমেন' শীর্ষক সেশনে পদ্ধতিগত ধর্ষণের সংস্কৃতি সম্পর্কে কথা বলেন বক্তারা। 

ধর্ষণের প্রবণতা বন্ধ করতে পুরুষদের আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মতামত দেন। 

তাসাফি হোসেনের সঞ্চালনায় 'নো ওয়ার্ল্ড ফর উইমেন' সেশনে অংশগ্রহণ করেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো, বিবিসি সাংবাদিক ও লেখক প্রিয়াঙ্কা দুবে এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অফ গভার্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ফেলো মাহিন সুলতান। 

মিয়া সেপ্পো বলেন, "ধর্ষণের শিকার না হওয়ার জন্য নারীদের বহুবার বলা হয়, এখন সময় হলো ধর্ষণ না করার জন্য পুরুষদের বলা।"

তিনি বলেন, ধর্ষণ করে পার পেয়ে যাওয়ার ফলে ধর্ষণের প্রবণতা আরও বাড়ছে। 

"ধর্ষিতাকে দোষারোপ করা বন্ধ করতে হবে", যোগ করেন সেপ্পো। 

তিনি আরও বলেন, "পুরুষদের কাছ থেকে অধিকাংশ সময়েই ভুল জিনিস প্রত্যাশা করা হয়। এখন সময় হলো নতুন এক পুরুষত্ব যা ক্ষমতাভিত্তিক নয়, বরং সমতাভিত্তিক।"

ধর্ষণের সংস্কৃতি হলো পদ্ধতিগত এবং সংস্কৃতি দ্বারাই এটি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, "এই সমাজ ব্যবস্থা নারীদের এখনো হতাশ করছে।"

নারীদের জন্য নিরাপদ পাবলিক প্লেস তৈরির প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "প্রতিরোধের ওপর আমাদের নজর দিতে হবে। কোনো পাবলিক প্লেস কোনোভাবে যৌন হয়রানি করার উপযোগি কিনা তা দেখতে হবে।"  

ধর্ষণের শিকার নারীদের পক্ষে যেসব নারীরা কথা বলেন তাদেরকে অনেক সময় সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার দিকটিতে নির্দেশ করে প্রিয়াঙ্কা দুবে বলেন, তিনি তার 'নো নেশন ফর উইমেন' বইতে ধর্ষণের শিকার নারীদের একটি চেহারা দিতে চান। 

সেশনে ধর্ষণের ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে কীভাবে উপস্থাপিত হয় সে বিষয়েও আলোচনা হয়। 

দুবে বলেন, গণমাধ্যমে অনেক সময় ধর্ষণের শিকারদের সংখ্যা ও পরিসংখ্যান কমিয়ে দেখানো হয়। 

মাহিন সুলতান বলেন, ধর্ষণের বিচার দ্রুত হওয়ার জন্য আইন সংশোধন করা জরুরি। 

তিনি আরও বলেন, "মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য ধর্ষিতাকে মানসিক ও স্বাস্থ্য সহায়তা এবং তার সঙ্গে সংহতি জানানোও জরুরি।"

ধর্ষণের সংস্কৃতি সম্পর্কে সন্তানদের সঙ্গে অভিভাবকদের কথা বলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন সঞ্চালক তাফাফি হোসেন। 

তিনি বলেন, "আপনি পত্রিকায় ধর্ষণের খবর পড়ছেন আর সন্তানদের কাছে তা লুকাচ্ছেন। আপনার সঙ্গে না হলেও তারা কিন্তু কোনোভাবে এ বিষয়ে ঠিকই কথা বলছে।" 

তাসাফির সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, "লড়াইটা বাসা থেকেই শুরু করতে হবে। আর এটি আপনার জন্য খুব সহজ কাজ হবে না।"