• রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩৭ বিকেল

ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বেনাপোল বন্দর অচলের আশঙ্কা

  • প্রকাশিত ০৪:২৩ বিকেল এপ্রিল ২০, ২০১৯
বেনাপোল চেকপোস্ট
বেনাপোল স্থলবন্দর। ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সংস্থার এমন বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে হতাশ হয়ে পড়েছেন দু'দেশের ব্যবসায়ীরা

ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এক বিতর্কিত নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বেনাপোল -পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বানিজ্যে বড় ধরনের ধ্স নামার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। 

কলকাতার প্রধান কাস্টমস কমিশনার স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয় এখন থেকে ভারত থেকে যত পন্য বাংলাদেশে রফতানি হবে তার প্রতিটি চালানের পন্য পেট্রাপোল বন্দরে ট্রাক থেকে আনলোড করে শতভাগ পরীক্ষা সম্পন্ন করেই রফতানির অনুমতি দেবেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে যে সব পন্য রফতানি হবে সেসব পন্য ট্রাক থেকে খালাশ করে শতভাগ পরীক্ষা করেই খালাশের অনুমতি দেয়া হবে।

হঠাৎ করে ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এ ধরনের নির্দেশনায় আমদানি বানিজ্য অর্ধেকে নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে শুধু আমদানি নয় বাংলাদেশী পন্য রফতানিতেও বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে আসার শঙ্কা রয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।

জানা যায়, এর আগে পেট্রাপোল বন্দর থেকে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের আগে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ ছাড়া  ট্রাক থেকে পণ্য নামিয়ে পরীক্ষা করা হতো না। তবে ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, খুব দ্রুতই এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদেরকে বাণিজ্য সম্পাদন করতে হবে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় এমনিতেই একটি পণ্যের চালান ভারত থেকে আমদানি হয়ে বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত এমনিতেই ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায়। এর উপর সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ ছাড়া পেট্রাপোল বন্দরে প্রতিটি পণ্যের চালানের পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করা হলে এ ভোগান্তি আরও দ্বিগুণ হবে। এতে পণ্য খালাস একদিকে যেমন কঠিন হয়ে পড়বে তেমনি আমদানি খরচও বেড়ে দ্বিগুন হবে যার প্রভাব পড়বে দেশীয় বাজারে। এ বিষয়টি সমাধানের জন্য জরুরি ভিত্তিতেবাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের পদক্ষেপের দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে তারা এখনও পর্যন্ত কোনও চিঠি হাতে পাননি। তবে এ নিয়ম চালু হলে আমদানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যহত হবে তারা জানিয়েছেন।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের স্টাফ এসোশিয়েশনের সাধারন সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র এ প্রসঙ্গে বলেন, "কাস্টমসের এই আদেশে দু'দেশের বাণিজ্যে বিরুপ প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে পচনশীল পণ্যের রফতানি কঠিন হয়ে দাঁড়াবে"।

উল্লেখ্য,  প্রতিবছর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সাথে বাংলাদেশের ৩০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হয়ে থাকে। এখান থেকে সরকার প্রতি বছর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার কারণে প্রথম থেকেই বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাণিজ্যে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বেশি। তবে, গত কয়েক বছর ধরে বন্দরে বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়হীনতা আর ব্যবসায়ী হয়রানির কারণে হতাশ হয়ে অন্যদিকে ঝুকছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে দেশের বৃহত্তম স্থল্বন্দর দিয়ে কাঙ্খিত রাজস্ব আসছে না।