• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:২২ দুপুর

'ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে চাই শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন ও দক্ষ জনশক্তি'

  • প্রকাশিত ০৭:৫৬ রাত আগস্ট ৫, ২০১৯
ঢাকা ট্রিবিউন
জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনে 'ট্রান্সলেটিং ন্যাশনাল ইয়োথ পলিসি ইনটু অ্যাকশন প্লান : কাউন্টিং ইয়ং পিপলস পারসপেকটিভস' শীর্ষক এক বৈঠকে সোমবার (৫ আগস্ট) আলোচনা করেন বক্তারা। ছবি : রাজিব ধর

বাংলাদেশের তরুণদের সব ক্ষেত্রে সংগ্রাম করতে হয় বলে উল্লেখ করেন ফরহাদ।

বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে মোট জনসংখ্যার বেশিরভাগই কর্মক্ষম ( বয়স ১৫ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে), যা দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। কোনো দেশে কর্মক্ষম মানুষের এই আধিক্যকে বলা হয়-ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং দক্ষ ও পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারে এমন মানবসম্পদ তৈরিই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের মূল বলে জানিয়েছে তরুণ নেতা ও বিশেষজ্ঞরা। 

একই সঙ্গে ন্যাশনাল ইয়োথ পলিসি-২০১৭'এর (এনওয়াইপি) বাস্তবায়ন এবং এনওয়াইপি গ্রহণের দুই বছর পরও কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে বিলম্ব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।   

সোমবার (৫ আগস্ট) জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনে 'ট্রান্সলেটিং ন্যাশনাল ইয়োথ পলিসি ইনটু অ্যাকশন প্ল্যান :  কাউন্টিং ইয়ং পিপলস পারসপেকটিভস' শীর্ষক এক বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। 

ঢাকা ট্রিবিউনের ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের উদ্যোগে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। 

উদ্বোধনী বৈঠকে সংবাদপত্রটির নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ জানান, ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা পাবে। এটি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেরও সময়সীমাও।  

তবে আগামী ১০ বছরে পোশাক, চামড়া ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাবারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে সম্প্রতি করা এক গবেষণার দিকে ইঙ্গিত করে রিয়াজ আহমেদ বলেন, "কিন্তু, এর পর কী হবে?" 

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পর যন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার দেশের চাকরির বাজারে বড় প্রভাব ফেলবে। তাই দেশের কর্মীদের নিয়ে অনেক কিছু করার আছে। 

আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একটি দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর জোর দিয়ে এই সংবাদকর্মী বলেন, "দেশ ও দেশের বাইরের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমাদের ভবিষ্যৎ চাকরির বাজারের ওপর নজর দিতে হবে।" 

বাংলাদেশের বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, "বিদেশিদের মতো একই দক্ষতার জনশক্তি কেন আমরা দেশে তৈরি করতে পারবো না?" 

"কোথায় অসামঞ্জস্যটা হচ্ছে তা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে", যোগ করেন রিয়াজ আহমেদ। 

বৈঠকে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাহ আলী ফরহাদ বলেন, কোনো আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমলারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নেন না। এটা বাংলাদেশে গতানুগতিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।   

"এ বিষয়টি ছাড়া এনওয়াইপি প্রণয়নে আমরা সর্বোচ্চ করেছি। পলিসিতে সরকারের চেয়ে তরুণদের বেশি অংশগ্রহণ একটি ব্যতিক্রম।"   

তবে এনওয়াইপি বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে বিলম্বের বিষয়টি সম্পর্কে শাহ আলী ফরহাদ বলেন, "২০১৮ সাল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছর হওয়া সত্ত্বেও, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু তা বিফল হয়।" 

ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারে এনওয়াইপির বিষয়টিতে আলোকপাত করা হয়েছে এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।  

শাহ আলী ফরহাদ এ সময় বলেন, তরুণদের নতুন আবিষ্কার, উদ্যোগ গ্রহণ এবং গঠনমূলক করমকাণ্ডে উৎসাহ দিচ্ছে সরকার। তবে এক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা পর্যায়সহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তদের সহযোগিতা মেলেনা বলে অভিযোগ করেন তিনি।  

বাংলাদেশের তরুণদের সব ক্ষেত্রে সংগ্রাম করতে হয় বলেও উল্লেখ করেন ফরহাদ।

বৈঠকের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডাইরেক্টর ফারাহ কবির। তিনি বলেন, কোনো পলিসি এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যেন তা ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং মানুষের উন্নতি হয়। 

"রাষ্ট্রের অবশ্যই নাগরিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর উন্নতিতে বাজেট বাড়াতে হবে।"

এনওয়াইপির জন্য একটি সফল কর্মপরিকল্পনার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন ফারাহ কবির।