• মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৯ রাত

কাপ্তাই হ্রদের মাছ আহরণ শুরু, প্রথম মাসেই রাজস্ব প্রায় ৩ কোটি

  • প্রকাশিত ১০:৫৯ সকাল সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯
কাপ্তাই
কাপ্তাই লেকে চলছে মাছ আহরণ। ঢাকা ট্রিবিউন

এভাবে মাছ উৎপাদন অব্যাহত থাকলে এ বছর রাজস্ব আয় অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

তিন মাস কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধ থাকার পর গত ১ আগস্ট মাছ আহরণ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) জানিয়েছে, মাছ শিকার তিন মাস বন্ধ রাখার ফলসরূপ মাছের বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। ফলে শুধু আগস্ট মাসেই প্রায় ২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। 

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) জানিয়েছেন, গত মাসে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ থেকে মাছ আহরণ করা হয়েছে প্রায় ১৫০ মেট্টিক টন। আর রাজস্ব আদায় হয় ২ কোটি ৭১ লাখ ৭৯ হাজার ৫৫৫ টাকা। যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এভাবে মাছ উৎপাদন অব্যাহত থাকলে এ বছর রাজস্ব আয় অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাঙামাটি বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলধারা ও বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মৎস্য উৎপাদন ক্ষেত্র রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ। যা দেশের মিঠা পানির মাছের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত। এ হ্রদ থেকে আহরিত মাছ রপ্তানি করা হয় চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। যার সুফল ভোগ করেন এ অঞ্চলের ২২ হাজার মৎস্যজীবী। প্রতিবছর মে থেকে জুলাই এই তিন মাস যাতে কাপ্তাই হ্রদে মাসের সুষ্ঠুপ্রজনন হতে পারে সে জন্য এ সময় হ্রদে মাছ আহরণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনরে উদ্যোগে হ্রদে ছাড়া হয় বিপুল পোনা মাছ। এসব পোনা বড় হওয়ার পর মাছ শিকার শুরু হয় গত ১ আগস্ট । এতে কর্মচাঞ্চল্যতা ফিরে আসে জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর মধ্যে। চলতি বছর সরকারের রাজস্ব যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি দেশে মিঠা পানির মাছের চাহিদাও মিটছে, আর লাভবান হচ্ছে মৎস্যজীবীরা। এরই মধ্যে জমে উঠেছে মৎস্য ব্যবসাও।

এ ব্যাপারে বিষয়ে রাঙামাটি ফিসারি ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলেছেন, রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে মাছ উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলে মাছের উপর নিভর্রশীল লাখো মানুষের দারিদ্র দূর হতে খুব একটা সময় লাগবে না।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের রাঙামাটি জেলা ব্যবস্থাপক লে. কমান্ডার এম. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশ বিস্তারের কারণে বাম্পার আহরণ সম্ভব হয়েছে। তবে এর জন্য বিএফডিসির সকল কর্মকর্তাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। বন্ধকালীন (মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা) সময় অবৈধ মাছ নিধনসহ পোনা মাছের রক্ষণাবেক্ষণে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয় তাদের। এ সময়ে হ্রদের মৎস্য সম্পদ তদারকি করার জন্য ৬টি মোবাইল মনিটরিং সেন্টার ও ৭টি চেকপোস্ট বসানো হয়। যার সুফল এখন মৎস্যজীবীরা ভোগ করছেন। রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে ৬৬টি দেশিও প্রজাতির ও ৬টি বহিরাগত প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। প্রতিবছর রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ থেকে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ মেট্টিক টন মাছ আহরিত হয়। যা প্রতিবছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এ হ্রদে মাছের প্রকৃতিক প্রজনন ধরে রাখতে বিএফডিসি বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” 

প্রসঙ্গত, গত ১ মে দেশের সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলরাশি রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন, পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণসহ কাপ্তাই হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে তিন মাসের জন্য হ্রদ হতে সকল প্রকার মৎস্য আহরণ, বাজারজাতকরণ এবং পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল বিএফডিসি ও রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। এরপর গত ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।