• বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ সকাল

টাঙ্গাইলে বাড়ছে আখের আবাদ, ভালো দামে লাভবান চাষীরা

  • প্রকাশিত ০২:৪৪ দুপুর সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯
আখ
আখ পরিচর্যায় ব্যস্ত একজন কৃষক। ঢাকা ট্রিবিউন

‘কয়েক বছর ধরে আখ চাষ করে আমরা ভালই কয়ডা পয়সার মুখ দেহি’

আখ চাষে লাভবান হওয়ায় টাঙ্গাইলে বাড়ছে আখের আবাদ। বিগত কয়েক বছর ধরে কৃষকরা নিয়মিত আখ চাষ করে প্রত্যাশিত ফলন পাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও জেলার কৃষকরা আখ চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। ফলন ভালো হওয়ায় ক্ষেত থেকে আগেভাগেই আখ কেটে বাজারে বিক্রি করছেন, আশানুরূপ দাম পেয়ে চলতি বছরও খুব খুশি চাষীরা।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের চাড়াবাড়ি এলাকার চাষী জলিল মিয়া বলেন, এ বছর আমি ৪ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। আর জমি তৈরি, চারা কেনা, শ্রমিক, সার, কীটনাশকসহ আমার খরচ হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। আশা করছি দেড় লাখ টাকার উপরে আখ বিক্রি হবে।

চাষী হাসান আলী মিয়া বলেন, এ বছর আমি দেড় বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছি। বাজারে আখের দাম ভালো হওয়ায় আমি লাভবান হতে পারব।

নাগরপুরের চাষী রাজ্জাক মিয়া বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার নাগরপুরে দ্বিগুনেরও বেশি কৃষক আখ চাষ করছে। কারণ গতবার ভাল লাভ হইছে। এবারও বাজার ভাল, লাভই হবে।”

টাঙ্গাইল পার্ক বাজারের আখ বিক্রেতা মনসুর আলী বলেন, আমার এক বিঘা জমিতে নিজে চাষ করি, পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকের জমি থেকেও আখ কিনে বিক্রি করি। তাতে আমি লাভ করতে পারি। কৃষকও লাভ করতে পারে।

তিনি বলেন, “কয়েক বছর ধরে আখ চাষ করে আমরা ভালোই কয়ডা পয়সার মুখ দেহি।”  

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মধ্যে সখীপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা ছাড়া বাকি ১০টি উপজেলাতেই আখের চাষ করা হয়েছে। এ বছর জেলায় আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫৯ হেক্টর, আর আখ চাষ করা হয়েছে ৭৮৬ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২৭ হেক্টর বেশি। এতে ফলন উৎপাদন হয়েছে ২৬ হাজার ৪০৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৮৫ হেক্টর, বাসাইল উপজেলায় ২ হেক্টর, কালিহাতী উপজেলায় ৩০ হেক্টর, ঘাটাইল উপজেলায় ১৬ হেক্টর, নাগরপুর উপজেলায় ২৮০ হেক্টর, মির্জাপুর উপজেলায় ৩২ হেক্টর, মধুপুর উপজেলায় ১১ হেক্টর, ভুঞাপুর উপজেলায় ৫৫ হেক্টর, গোপালপুর উপজেলায় ১২ হেক্টর ও দেলদুয়ার উপজেলায় ৬৩ হেক্টর জমিতে আখের চাষা হয়েছে। অন্যদিকে গত বছর এ জেলায় ৫৫৯ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে জেলায় আখ চাষের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছর আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। আখ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে চাষীরা। আখ ক্ষেতে ‘সাথী’ ফসল আবাদ করে তা থেকে আখ চাষের খরচ উঠে আসে। পরে আখ বিক্রির টাকা এককালীন লাভ হিসেবে চাষীরা পেয়ে যায়। টাঙ্গাইলে চিবিয়ে খাওয়ার জাতটি বেশি চাষ হয়।”

তিনি আরো বলেন, “কৃষি বিভাগ থেকে আখচাষীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। টাঙ্গাইলের আখ জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাবনা, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ থেকে ৩০ ভাগ আখ কাটা হয়েছে। আর প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কৃষক আখ চাষে জড়িত।”