• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৭ রাত

বাংলাদেশি তরুণীর কণ্ঠে মাতোয়ারা ফিনল্যান্ড

  • প্রকাশিত ০৯:০৪ রাত মার্চ ১৮, ২০১৯
ফারজানা তারানা
‘ভয়েস অব ফিনল্যান্ড’-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি শিল্পী ফারজানা তারানা। ছবি: সৌজন্য

সম্প্রতি ভয়েস অব ফিনল্যান্ডে মার্কিন শিল্পী ব্রুনো মার্সের ‘গ্রেনেড’ গানটি গেয়ে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমের নজরে আসেন এই শিল্পী। ঢাকা ট্রিবিউন সাংবাদিক সিয়াম রায়হান-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তারানা বলেছেন তার জীবন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আর সাম্প্রতিক সময়ের অর্জনগুলো নিয়ে।  

ফিনল্যান্ডের সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আসর ‘ভয়েস অব ফিনল্যান্ড’-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পী ও গীতিকার ফারজানা তারানা। প্রতিযোগিতার রাউন্ড ফাইভে পৌঁছেছেন তিনি। এই রাউন্ড ওই প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বও বটে। তারানা জানান, আপাতত প্রতিযোগিতার সেরা ১৬-তে পৌঁছানোর জন্যই লড়ছেন তিনি। 

সম্প্রতি ভয়েস অব ফিনল্যান্ডে মার্কিন শিল্পী ব্রুনো মার্সের ‘গ্রেনেড’ গানটি গেয়ে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। এরপরই স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমের নজরে আসেন এই শিল্পী। ঢাকা ট্রিবিউন সাংবাদিক সিয়াম রায়হান-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তারানা বলেছেন তার জীবন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আর সাম্প্রতিক সময়ের অর্জনগুলো নিয়ে।   

ঢাকা ট্রিবিউন: আপনার কথা বলুন

তারানা: নিজের সম্পর্কে খুব বেশি কিছু বলার নেই। আমি আত্মকেন্দ্রিক মানুষ। গান লিখতে আর সুর করতে ভালোবাসি। অনেকদিন আগে ফিডব্যাক ব্যান্ডের লাবু রহমান আমার লেখা কথা থেকে গান করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ব্যাপারটা একইসঙ্গে আমাকে অবাক ও খুশি করেছিল। তবে কিছু কারণে তারা গানটি প্রকাশ করতে পারেননি। কিন্তু ওই ঘটনায় আমার নিজের প্রতি আস্থা বেড়ে গিয়েছিল। শুন্য ব্যান্ডের ‘রাজাহীন রাজ্য’ গানটিও আমার লেখা। তারপর থেকে নিজেকে আরও বেশি বিশ্বাস করতে শিখলাম। একইসঙ্গে ভিডিও এডিটিং করতেও পছন্দ করি আমি।

ঢাকা ট্রিবিউন: ভয়েস অব ফিনল্যান্ডে আপনার বর্তমান অবস্থান কী?

তারানা: রাউন্ড ফাইভ, এটা আসলে নকআউট রাউন্ড। সেরা ১৬-তে যাওয়ার জন্য লড়ছি।

ঢাকা ট্রিবিউন: বাংলাদেশি দর্শক-শ্রোতারা কীভাবে ওই শো'তে আপনাকে দেখবেন?

তারানা: আমার ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল ‘Farzana T’-তে তারা আমার সব পারফরমেন্স দেখতে পারবেন।

ঢাকা ট্রিবিউন: গান গাওয়া ছাড়া ফিনল্যান্ডে আর কী করছেন?

তারানা: ‘তাম্পেরিন তিওভায়েন তিয়াত্তেরি’ নামে এখানকার একটি থিয়েটারে সাউন্ড টেকনিশিয়ানের কাজ করি।

গাইছেন তারানা। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা ট্রিবিউন: ফিনল্যান্ডেই ক্যারিয়ার শুরু করবেন নাকি বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা আছে?

তারানা: সেটা সময়ই বলে দেবে।

ঢাকা ট্রিবিউন: শিগগিরই নিজের কোনও অ্যালবাম বের করার ইচ্ছা আছে?

তারানা: হ্যাঁ, যতদ্রুত সম্ভব। শিগগিরই নিজের ইপি (সংক্ষিপ্ত অ্যালবাম) বের করার ইচ্ছা আছে।

ঢাকা ট্রিবিউন: ফিনল্যান্ডই কেন?

তারানা: গরম আবহাওয়া আর বৃষ্টি পছন্দ করি না আমি। তাই বিদেশে আবেদন করার সময় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের মতো গরম আবহাওয়ার দেশ কিংবা ব্রিটেনের মতো বৃষ্টিবহুল দেশগুলোকে বাদ দিয়েছি। নর্ডিক এলাকার প্রতি আমার আগে থেকেই একটা আগ্রহ ছিল। আমি ঘন বরফওয়ালা শীতের দেশে থাকতে চাইতাম। ফিনল্যান্ড ফ্রি-তে পড়াশোনা এবং বৃত্তির সুযোগ দেয়। সব মিলিয়ে আমি শুধু এখানে আসার জন্যই আবেদন করেছিলাম।

ঢাকা ট্রিবিউন: আপনার পড়াশোনার বিষয় সাউন্ড ডিজাইন, ভবিষ্যতে সিনেমায় আবহ সঙ্গীতের কাজ করার ইচ্ছা আছে?

তারানা: আমি কেবল সাউন্ড ডিজাইন নিয়েই পড়ছি না। ফিনল্যান্ডের ট্যাম্পেয়ের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস-এ মিউজিক প্রোডাকশন অ্যান্ড সাউন্ড ডিজাইন নিয়ে পড়ছি। আমার মূল লক্ষ্য মিউজিক প্রোডাকশন। হ্যাঁ, সাউন্ড ডিজাইনিং মজার, কিন্তু মিউজিকেই আমার ক্যারিয়ার গড়তে চাই।

ঢাকা ট্রিবিউন: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন আপনি। কেমন সাড়া পাচ্ছেন? ফিনল্যান্ড এবং বাংলাদেশের বন্ধুরা কী বলছেন?

তারানা: আসলে কোনও কিছুর প্রতিনিধিত্ব করছি বলে আমার মনে হয় না। এমন প্রশ্ন শুনলে একটু অস্বস্তি হয়। তবে বাংলাদেশ এবং ফিনল্যান্ড দুই দেশ থেকেই অনেক অনেক উষ্ণ শুভেচ্ছা পেয়েছি, যা আমাকে সত্যিই অবাক করেছে।