• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৭ রাত

আদিবাসীদের নিয়ে বিতর্কিত বিজ্ঞাপন, সমালোচিত নুহাশ

  • প্রকাশিত ০৮:৪৬ রাত মে ২১, ২০১৯
নুহাশ
নুহাশ হুমায়ুন ফেসবুক

কেউ কেউ বলছেন বিজ্ঞাপনচিত্রটি যে বার্তা দিচ্ছে সেটা প্রশংসনীয়। আবার কারো মতে, একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে তাচ্ছিল্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করেছেন পরিচালক।

সম্প্রতি চীনা মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেকনো'র একটি বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করেছেন পরিচালক নুহাশ হুমায়ুন। বাংলাদেশি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছতেই বিজ্ঞাপনটি বানিয়েছিল টেকনো। কিন্তু পরিচালক নুহাশ হুমায়ুনকে ঘিরে দ্বিধাভক্ত হয়ে পড়েছেন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা।

রবিবার (১৯ মে) বিজ্ঞাপনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা এবং সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন বিজ্ঞাপনচিত্রটি যে বার্তা দিচ্ছে সেটা প্রশংসনীয়। আবার কারো মতে, একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে তাচ্ছিল্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করেছেন পরিচালক।

দাবি করা হচ্ছে, ‘রানিং রাফি’ শিরোনামে নির্মিত বিজ্ঞাপন চিত্রটি ‘সত্য ঘটনা অবলম্বনে’ নির্মিত। সেখানে দেখানো হয়েছে- বান্দরবানের আদিবাসী কিশোর রাফি রমজান মাসে সেহরি এবং ইফতারের সময় স্থানীয় মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ডেকে দেওয়ার জন্য দৌঁড়ে দ্বারে দ্বারে যায়। কারণ চট্টগ্রামের পাহাড়ী এলাকায় মসজিদের সংখ্যা কম হওয়ায় মুসলিমরা আজানের শব্দ শুনতে পান না। ফলে তাদের পক্ষে সঠিক সময়ে সেহরি কিংবা ইফতার করতে পারেন না।

বিজ্ঞাপনচিত্রটি প্রকাশ হতে না হতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর গল্পে থাকা অসঙ্গতিগুলোর সমালোচনা করেছেন দর্শকরা। তাদের প্রশ্ন, “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক কিশোরের নাম কীভাবে রাফি হয়?”; “স্থানীয় আদিবাসীদের মতো মুসলিমরাও কেন বাঁশের তৈরি বাড়িতে থাকেন?”

বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরাও। বিজ্ঞাপনচিত্রটির সমালোচনা করে বিখ্যাত ব্যান্ড ‘মেঘদল’-এর ভোকালিস্ট শিবু কুমার শিল ফেসবুকে লিখেছেন, “পূর্বে আমাদের সঙ্গে পাকিস্তানিরা যা করেছে আমরা পাহাড়ের অধিবাসীদের সঙ্গে তাই করে আসছি বহুদিন থেকে। তা ভাষা থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রেই। পাহাড়ে আদিবাসীদের পরিচয় শীর্ষক বিলবোর্ড দেখলেই বোঝা যায় আমাদের কাছে তাদের অবস্থান কোন পর্যায়ের। একটা টুরিস্টিক এপ্রোচ বা 'হোয়াইট সুপ্রিমেসি' ছাড়া আমরা আদিবাসীদের কখনো দেখিনি....যাই হোক নুহাশ হুমায়ুন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না তিনি একটা ধারাবাহিক আগ্রাসনের একজন প্রতিনিধি মাত্র। একটা দগদগে অপ্রিয় নমুনা। যারা নিজেদের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে এই আবহমান আগ্রাসন জারি রাখতে চায়। কিছু বলতে গেলেই পিছলে বের হয়ে যাবার চেষ্টা করে। বার্জার কোম্পানি খায় আবার টিকইল গ্রামও খায়। একটা সহনশীল প্রায় মানবিক ভঙ্গিতে পাহাড়ে মনোরম আগ্রাসন গোড়াপত্তন করাই যাদের ব্রত ।”

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার জয়ী চিত্রগ্রাহক রাশেদ জামান ফেসবুকে লিখেছেন, “আমরা প্রতিনিয়ত ফিল্মমেকিং (??) এর নামে পুরান ঢাকার এবং অন্যান্য জেলার বিশেষ করে পার্বত্য অন্চলের মানুষের ভাষা,সংষ্কৃতি এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে পন্যের এবং নিজের বিক্রি বাড়ানোর জন্য বিকৃত করে ইচ্ছেমতো তুলে ধরি।

এ সবই নির্বিঘ্নে করতে পারি, কারন আমাদের হাতে ক্যামেরা আছে।

ক্যামেরাটা এখন আসলে পুরান ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল অথবা বান্দরবন এর মানুষের পকেটেও আছে। তারা সেটার যথাযথ ব্যাবহার কেন করছেন না বুঝতে পারছি না।

আপনাদের নিজেদের প্রকৃত সংস্কৃতি এবং ভাষাকে আপনারা নিজেরাই ক্যামেরায় বন্দী করে আমাদের অজ্ঞতা এবং অশ্রদ্ধাকে কেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন না?

যথেষ্ট গবেষনা(R&D) এবং অনুশীলন ছাড়া অন্যের গান আমরা গাইলে ভুল গাইবার সম্ভাবনা প্রকট যদি আমাদের ভুল সময়মতো শুধরানো না হয়।”

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুহাশ হুমায়ুন মুঠোফোনে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। শিগগিরই এ বিষয়ে আমার ফেসবুক পেজে অফিসিয়াল বক্তব্য দেব।”