• মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২৯ রাত

র‍্যাপ গেয়ে ভাইরাল ঢাকার ‘গাল্লি বয় রানা’

  • প্রকাশিত ০৪:৪০ বিকেল মে ৩১, ২০১৯
রানা
র‍্যাপ গান গেয়ে ভাইরাল হওয়া রানা। সৌজন্য ছবি

গানের কথার মতোই রানা তার জীবনের গল্পটা দেখতে শিখেছে খুব কাছ থেকে।

যুতসই কাগজের বাক্সের ভেতর আঁটসাট হয়ে বসে আছে দু'টি শিশু। তাদের একজনের মুখে ফুটছে র‍্যাপ গানের তুবড়ি। সেই গানে উঠে এসেছে পথশিশুদের জীবনের দুঃখগাঁথা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এমন একটি ভিডিও। পথশিশুর গাওয়া র‍্যাপ গান প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার। ইতোমধ্যে সে খ্যাতি পেয়েছে ‘ঢাকাইয়া গাল্লি বয়’ হিসেবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)-তে বসে পথশিশু রানা'র গাওয়া গানটি ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তবে রানা'র এই র‍্যাপ গান গাওয়ার পেছনে রয়েছে ছোট্ট একটি ঘটনা। ‘ঢাকাইয়া গাল্লি বয়’ গানটি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান তবীব।

ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি জানিয়েছেন রানা'র গাওয়া এই র‍্যাপ গানের পেছনের ঘটনা।

তবীব বলেন, “আর দশটা পথশিশুর মতোই টিএসসিতে ঘুরেফিরে বেড়ায় রানা। কিছুদিন আগে সে আমার কাছে বাইকে চড়ার আবদার করে। বাইকে নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে ওর কাছে এটা-সেটা জিজ্ঞেস করছিলাম।”

“গান জানে কী না জিজ্ঞেস করতে রানা আমাকে ‘আপ টাউন লোকজ’-এর একটা গান শোনায়,” যোগ করেন তবীব।

রানা'র মুখে র‍্যাপ গান শুনে তিনি চিন্তা করেন বাচ্চাটির প্রতিভা কাজে লাগানোর। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে গিয়ে নিয়মিত অনুশীলন করাতে শুরু করেন। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানেই শিখে ফেলে শিশুটি।

রানার গাওয়া গানগুলো তবীবেরই লেখা ও সুর করা। ভিডিওগ্রাফিও তার।

ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি আরও বলেন, “রানাকে দিয়ে আমি আরও কয়েকটা গান করিয়েছি। সেগুলোর ভিডিও নিয়ে কাজ করছিলাম। এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়েরই কয়েকজন শিক্ষার্থী ওকে ঈদের জামা দেওয়ার কথা বলে টিএসসিতে বসে ‘ঢাকাইয়া গাল্লি বয়’ গানটি গাইতে বলে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে। আমি এসবের কিছুই জানতাম না।”

র‍্যাপের তালে তালে তবীবের কথা ও সুরে রানা তুলে এনেছে নিজের জীবনের নির্মম বাস্তবতা। তার বাড়ি রাজধানীর অদূরে কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসূলপুর এলাকায়। মা লোকের বাড়িতে কাজ করেন, বাবা পেশায় একজন পলো (মাছ ধরার যন্ত্রবিশেষ) কারিগর। তারা দু' ভাই। অভাবের তাড়নায় রানার পড়াশোনা করা হয়নি। সারাদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ করে টিএসসিতে ফুল বিক্রি করে দিন পার করে সে।

গানের কথার মতোই রানা তার জীবনের গল্পটা দেখতে শিখেছে খুব কাছ থেকে।

রানার গাওয়া র‍্যাপ গান-