• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০০ রাত

চট্টগ্রামে নির্মিত হচ্ছে আইয়ুব বাচ্চু চত্বর

  • প্রকাশিত ০৭:৪৯ রাত জুন ১৯, ২০১৯
আইয়ুব বাচ্চু চত্বর
নির্মিতব্য আইয়ুব বাচ্চু চত্বরে বসানো হচ্ছে একটি প্রতীকী রূপালি গিটার সংগৃহীত

নির্মিতব্য আইয়ুব বাচ্চু চত্বরে বসানো হচ্ছে একটি প্রতীকী রূপালি গিটার।

প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর তার জানাজায় উপস্থিত হয়ে চট্টগ্রাম সিটির একটি সড়কের নাম কিংবদন্তী শিল্পীর নামে নামকরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ওই দিন (গত বছরের ২০ অক্টোবর) তিনি জানিয়েছিলেন, আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি সংরক্ষণে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক মোড়ের নাম বদলে রাখা হচ্ছে আইয়ুব বাচ্চু চত্বর। সেখানে বসানো হচ্ছে একটি প্রতীকী রূপালি গিটার।

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের বরাত দিয়ে এমন খবর জানিয়েছে বাংলা ট্রিবিউন।

মেয়র বলেন, ‘‘নগরীকে গ্রিন ও ক্লিন রাখতে আমরা নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় গোলপাহাড় থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষে প্রয়াত সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর নামে প্রবর্তক মোড়ের নামকরণ করা হবে। ওই চত্বরে তার রূপালি গিটারের আদলে একটি গিটার স্থাপন করা হবে।’’

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘গোলপাহাড় থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য অডিওস ইঙ্ক ও স্ক্রিপ্ট নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গত ১৮ সেপ্টেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর হয়। তখন সৌন্দর্যবর্ধন করার কথা হয়েছিল। কিন্তু যখন তারা ডিজাইন নিয়ে আসেন তখন মেয়র তাদেরকে জানিয়েছেন, তিনি এই চত্বরের নাম প্রয়াত সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর নামে করতে চান। সেই অনুযায়ী যেন ডিজাইনটা করা হয়। সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠান ডিজাইন সম্পন্ন করে মেয়র মহোদয়ের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছেন। তখন তিনি প্রবর্তক মোড়ের নাম আইয়ুব বাচ্চু চত্বর করার ঘোষণা দেন।’’

অডিওস ইঙ্ক ও স্ক্রিপ্ট’র সঙ্গে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তি অনুযায়ী, প্রবর্তক মোড় হতে গোল পাহাড় মোড় পর্যন্ত মিড আইল্যান্ড, উভয় পাশের ফুটপাত, গোল চত্বরসহ প্রায় ৪৫০ মিটার এলাকায় আধুনিকায়নের মাধ্যমে সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। পরিকল্পনায় প্রবর্তক গোল-চত্বরে স্কালপচার টাওয়ার স্থাপন, মিড আইল্যান্ড ও ফুটপাতের ল্যান্ডস্কেপিং, গোলপাহাড় মোড় থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত রাস্তার পার্শ্বে সীমানা প্রাচীরের ম্যুরাল/গ্রাফিতি তৈরি, আলোকসজ্জার ব্যবস্থা, বসার স্থান তৈরি, আধুনিক গণশৌচাগার (প্রতিবন্ধীবান্ধব), পুরুষ-মহিলাদের জন্য পৃথক টয়লেট, ওয়াশ-রুম, ইউরিন্যাল ইউনিট, পর্যটন সেবা স্টল ও যাত্রী ছাউনি স্থাপনের কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওডিওস ইঙ্কের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘‘চত্বরের কাজ শেষের পথে। এখন শুধু স্কালপচার তৈরির কাজ বাকি আছে। স্কালপচার তৈরির পর সেটি সংযোজন করে খুব শিগগির এটি উন্মুক্ত করে দেবো। আশা করছি, জুলাই মাসের মধ্যে আমরা এটি উন্মুক্ত করতে পারবো।’’

এ বিষয়ে এলআরবি ব্যান্ডের গিটারিস্ট আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বাচ্চু ভাইয়ের জানাজার সময় চট্টগ্রামের মেয়র এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আইয়ুব বাচ্চু একজন জাতীয় আইকন। তার স্মৃতির স্মরণে যে কোনো কিছু করাকে আমরা স্বাগত জানাই।”

উল্লেখ্য, গত বছর ১৮ অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন গুণী এই শিল্পী। ২০ অক্টোবর সমাহিত করা হয় চট্টগ্রাম নগরীর চৈতন্য গলি কবরস্থানে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড এলআরবি’র দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। গিটারের জাদুকর হিসেবে আলাদা সুনাম ছিল তার। ভক্তদের কাছে তিনি ‘এবি’ নামে পরিচিত।