• বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৪ রাত

প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কারাগারে শিল্পী সালমার দ্বিতীয় স্বামী

  • প্রকাশিত ১১:৩৪ সকাল জুলাই ৫, ২০১৯
সালমা ইসলাম-সালাউল্লাহ নূরী সাগর
স্বামী সালাউল্লাহ নূরী সাগরের সাথে কন্ঠশিল্পী সালমা ইসলাম। ঢাকা ট্রিবিউন

যৌতুক ও মারধরের অভিযোগে ওই মামলাটি করা হয়

যৌতুক ও মারধরের অভিযোগে প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কণ্ঠশিল্পী ও ক্লোজআপ ওয়ান তারকা সালমা ইসলামের দ্বিতীয় স্বামী সালাউল্লাহ নূরী সাগরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যনাল-১। বুধবার (৩জুলাই) আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক মো: নুর ইসলাম। 

সানাউল্লাহ নূরী ওরফে সাগর ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাটের সাখাওয়াত হোসেনের পুত্র ও কণ্ঠশিল্পী সালমা ইসলামের দ্বিতীয় স্বামী। সে ২০১৪ সালে কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকার অধ্যাপক আখতার আলমের মেয়ে তাসনিয়া মুনিয়াত পুস্পীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে নানা অজুহাতে স্ত্রী পুস্পীর পরিবার থেকে যৌতুক, মারধর ও প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে কন্ঠশিল্পী সালমা ইসলামকে বিয়ে করার অভিযোগে প্রথম স্ত্রীর মা দিলারা খানম বাদি হয়ে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-১ এ মামলা করেন।

মামলা এজাহারে বলা হয়, ২০১৪ সালে পুস্পীকে বিয়ের পর সাগর তার কাছে যৌতুক দাবি করেন সাগর। এর প্রেক্ষিতে সাগরকে বিভিন্ন কিস্তিতে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেয় পুস্পীর পরিবার। পরে ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আরো ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে সাগর তার স্ত্রী পুস্পীকে বেদম মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

এ ঘটনায় তাসনিয়া মুনিয়াতের মা বাদী হয়ে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর ৩ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন-সানাউল্লাহ নূরী সাগর, তার পিতা-সাখাওয়াত হোসেন, মাতা-সুরাইয়া।

বিচারক দায়েরকৃত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য কক্সবাজারের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার’কে নির্দেশ দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে মামলার ঘটনা প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া যায় মর্মে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ১ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর আসামিরা জামিনে ছিলেন। এর মেয়াদ শেষ হলেও আসামিরা আত্মসমর্পণ করেননি। তাই একমাস পর বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. নূর ইসলামের আদালতে জামিন চেয়ে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক শুনানি শেষে সানাউল্লাহ নূরী সাগরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। অপর দুই আসামি সানাউল্লাহ নূরী সাগরের পিতা সাখাওয়াত হোসেন ও  মা সুরাইয়া হোসেনকে ১০ হাজার টাকা বন্ডে জামিন প্রদান করেন আদালত।

কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১-এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইনজীবী নুরুল ইসলাম এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, "যৌতুকের মামলায় প্রধান আসামি সানাউল্লাহ নূরী ওরফে সাগর হাইকোর্টের জামিনে ছিলেন। কিন্তু তার জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নিম্ন আদালতে অর্থাৎ কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।"

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমার সঙ্গে বিয়ে হয় সানাউল্লাহ নুরী সাগরের। গত ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নতুন সম্পর্কের কথা বলেন তিনি।