• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১৭ বিকেল

না ফেরার দেশে নির্মাতা-অভিনেতা হুমায়ূন সাধু

  • প্রকাশিত ১০:০৩ সকাল অক্টোবর ২৫, ২০১৯
হুমায়ূন সাধু
মারা গেছেন নির্মাতা-অভিনেতা হুমায়ূন সাধু ফেসবুক

‘ঊন-মানুষ’ টেলিছবিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হন হুমায়ূন সাধু

মারা গেছেন নির্মাতা-অভিনেতা হুমায়ূন সাধু। তিনদিন ধরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। হুমায়ূন সাধুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গুণী এই অভিনেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন অভিনয় জগতের শিল্পী ও কলাকুশলীরা। শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেছেন, ‘‘তুই সময় দিছিলি আমাদের তৈরি হওয়ার। আমরা হয়তো তৈরিও হইছিলাম। কিন্তু মানুষ বোধ হয় কখনোই প্রিয়জনের বিদায়ের জন্য তৈরি হইতে পারে না রে, সাধু!’’

শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর তেজগাঁওয়ের রহিম মেটাল জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে হুমায়ূন সাধুর নামাজের জানাজা। এই মসজিদের কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ঊন-মানুষ’ টেলিছবিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হন হুমায়ূন সাধু। একজন খর্বাকৃতি মানুষকে হেয় করা, সবার তিরস্কার, টিকে থাকার কঠিন বাস্তবতা, মানুষটার আশা-আকাঙ্ক্ষা এসব নিয়ে নিজেই গল্প লিখেছিলেন তিনি। সেখান থেকে চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। টেলিছবিটি ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল।

হুমায়ূন সাধুর জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। নয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সপ্তম। ২০০১ সালে বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান সাধু। একপর্যায়ে কাজ শুরু করেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সহকারী পরিচালক হিসেবে। একইসঙ্গে চালিয়ে যান লেখালেখিও।

তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘মেড ইন বাংলাদেশ’। এরপর অসংখ্য নাটক, টেলিছবি, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০১৯ সালে বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলায় হুমায়ূন সাধুর লেখা একটি বই বেরিয়েছে। বইটির নাম ‘ননাই’।

গত ২ অক্টোবর ঢাকার একটি শুটিং স্পটে কাজ করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৫ অক্টোবর তাকে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৩ অক্টোবর হুমায়ূন সাধুকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার মস্তিষ্কে স্ট্রোক হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করাতে হবে। কিন্তু পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে হুমায়ূন সাধুকে বাসায় নিয়ে যান।

গত রবিবার রাতে শারীরিক অবস্থার আরও খারাপ হয়ে পড়লে দ্রুত রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় হুমায়ূন সাধুকে। ভর্তি করা হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।