• মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৫ রাত

দশ বছর পর ফের দেখা মিলল তুতেনখামেনের

  • প্রকাশিত ০৯:৪২ রাত ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৯
তুতেনখামেন
ফারাও তুতেনখামেনের সমাধি। ছবি: এএফপি

রহস্য আর তুতেনখামেনের পথচলা যেন হাতে হাত ধরেই

মিশরের ফারাও তুতেনখামেনকে নিয়ে রহস্যের যেন শেষ নেই। বিখ্যাত এই ফারাওয়ের মমি প্রায় দশ বছর পর খুলে দেওয়া হল দর্শকদের জন্য। তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে এই বালক ফারাওয়ের মৃত্যু হয়েছিল।

১৯২২ সালে প্রথম বারের মতো তুতেনখামেনের মমিতে ঢুকেছিলেন ব্রিটেনের প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে সেবার খননকার্যের সাথে জড়িত সবারই মৃত্যু হয়েছিল ‘রহস্যজনকভাবে’। প্রশ্ন ওঠে, সেই মৃত্যুর কারণ ছিল অভিশাপ? এ ঘটনা নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন ব্যাখ্যা। লেখা হয়েছে অনেক বই। 

তাই বালক রাজা তুতেনখামেনকে নিয়ে প্রত্নতত্ত্ববিদদের আগ্রহের শেষ নেই।

২০১১ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের সময় কাঠের ফ্লোর, বাতি, র‌্যাম্প, সমাধি সব বদলে ফেলা হয়েছিল। তারও আগে থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বন্ধ ছিল এই সমাধিস্থল। ফলে তুতেনখামেনের সমাধিটি সরানো হয় আগের জায়গা থেকে। এখন আবার দর্শকদের জন্য এই সমাধিক্ষেত্র খুলে দেওয়ার কাজ চলছে।

অন্যতম মূল্যবান এই সমাধি সরানোটাই ছিল বিরাট পরিশ্রমের কাজ। লস অ্যাঞ্জেলসের গেটি কনসার্ভেশন ইনস্টিটিউটের কমিউনিকেশনের প্রধান নেভিলে অ্যাগ্নিউ বলেন, ১২ জন মানুষ মন্ত্র পড়তে পড়তে সমাধিটি সরাচ্ছিলেন। তাদের দাবি, সমাধি একটুও কাত হলেই নাকি অপমৃত্যু ঘটবে ওই কর্মীদের।

অ্যাগ্নিউ বলেন, জলীয় বাষ্পের সঙ্গে পর্যটকদের নিঃশ্বাস মিশে সমাধিক্ষেত্রের ক্ষতি হচ্ছিল। তাই যাতে সমাধিতে সতেজ হাওয়া প্রবেশ করতে পারে, হাওয়া চারপাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

একটা দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা তৈরি করতেই প্রত্নতত্ত্ববিদ, বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদদের সময় লেগে যায় দীর্ঘ নয় বছর, জানান তিনি। লিনেনে মোড়া মমিটি ১৩৩২-১৩২৩ খ্রিস্টপূর্ব আমলের। কেভি৬২ সমাধিতে নীল নদের পশ্চিম দিকে, লুক্সর শহরের বিপরীতে, রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরে এই সমাধিক্ষেত্র।

তুতেনখামেনের কবরে আঁকা ছবি থেকে দেখা গিয়েছে, তার নেতৃত্বে যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার ছবি। যা দেখে অনেকের দাবি, সিরিয়ায় যুদ্ধে মৃত্যু হয়েছিল ফারাওয়ের।

তুতেনখামেনের মৃত্যু ঘিরে রহস্য আজও অমলিন। যেমন রহস্য রয়েছে তার রানি নেফারতিতির কবর নিয়েও। তাই বলা হয়, রহস্য আর তুতেনখামেনের পথচলা যেন হাতে হাত ধরেই।

১৯৬৮ সালে লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পরে ঘোষণা করেন, সম্ভবত মাথায় ভারি কিছুর আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল তুতেনখামেনের।

তুতেনখামেনের মাথায় মিলেছে রক্ত জমাট বাঁধার চিহ্ন, জানান গবেষকরা। স্বাভাবিক ভাবেই উঠে এসেছিল হত্যার তত্ত্ব। বহুদিন পর্যন্ত সেই তত্ত্বই চালু ছিল। কেউ কেউ অবশ্য বলেন, ঘোড়ার গাড়ি থেকে পড়ে গিয়েই মারা গিয়েছিলেন তুতেনখামেন।

পরে অবশ্য মত বদলান গবেষকরা। বলা হয়, হত্যা বা দুর্ঘটনা নয়, রোগের কারণে স্বাভাবিকভাবেই মারা গিয়েছেন মিশরের এই বালক ফারাও।

২০০৫ সালে জাহি হাওয়াস বলেন, সম্ভবত ম্যালেরিয়ায় ভুগেই মৃত্যু হয়েছিল তুতেনখামেনের। পরে ২০১০ সালে জার্মান গবেষকরা দাবি করেন, তার রক্তে লোহিত রক্তকণিকার অভাব ছিল।

২০১৪ গবেষকরা জানান, যেহেতু প্রাচীন মিশরে ভাই-বোনদের মধ্যে বিয়ে বৈধ ছিল, হয়তো সেই কারণেই বাবা-মায়ের কাছ থেকে রক্তের কোনও রোগ পেয়েছিলেন তুতেনখামেন।

সমাধিক্ষেত্রের ভিতরে সোনালি রঙের সমাধি, আর তাতেই শুয়ে রয়েছেন তুতেনখামেন। ২০১৪ সালের ভার্চুয়াল অটোপসি করে দেখা হয়, বাঁ দিকের পায়ে কোনও হাড়ের রোগ ছিল ফারাওয়ের। সেটিও জিনগতই এবং ভাই-বোনের বিয়ে হওয়ার কারণেই বলে জানিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা।

অনেকে বলেন, জন্মসূত্রে পাওয়া সেই রোগ থেকেই মৃত্যু হয় তার। কিন্তু বাতিল করে দেওয়া যায় না হত্যা তত্ত্বও। তাই এই সমাধিক্ষেত্র ও বালক ফারাওয়ের মৃত্যু ঘিরে রহস্য সমাধানে গবেষণা করে চলেছেন আন্তর্জাতিক ইতিহাসবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।