• সোমবার, জুন ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৩৭ সন্ধ্যা

ঈদের পোশাক, দাম পাঁচ টাকা

  • প্রকাশিত ০৫:৫২ সন্ধ্যা মে ৩১, ২০১৯
ফোঁড়
পাঁচ টাকায় ঈদের পোশাক পেয়ে খুশি সবাই। ঢাকা ট্রিবিউন

'সাধ্যমতো ঈদের আনন্দকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রয়াসে স্বস্তি রয়েছে।'

ঈদের সময় দেশের ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই ব্যস্ত দাম বাড়াতে। মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের প্রতাপে মধ্যবিত্তরাই যেখানে হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ঈদ আনন্দ দূরূহ বিষয়। ঈদে প্রান্তিক আয়ের এসব মানুষের কষ্টের কথা ভেবেই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে যশোরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নামমাত্র মূল্যে দুঃস্থ পরিবারের শিশুদের হাতে তারা তুলে দিচ্ছে ঈদের পোশাক।

শহরের শংকরপুর এলাকার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী লিমা আর প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত। লিমার বাবা দিনমজুর, আরাফাতের বাবা পেশায় একজন হোটেল কর্মচারী। স্থানীয় এক বড়ভাই তাদের জানিয়েছিলেন, শুক্রবার সকালে পৌর পার্ক এলাকার চারুপীঠ ক্যাম্পাসে পাঁচ টাকায় কিনতে পাওয়া যাবে শিশুদের পোশাক। খবর শুনে সকাল ১০টার মধ্যে তারা পৌঁছে যায় সেখানে।

শিশুর মন আর বাঁধ মানেনি ঈদের পোশাক কেনার এমন ‘সহজ সুযোগ পেয়ে’। ছুটে গিয়ে নিজেদের পছন্দ মতো পোশাক কিনে নেয় তারা নগদ পাঁচ টাকার বিনিময়ে।

খবর পেয়ে সন্তানদের নিয়ে কাপড় কিনতে এসেছেন সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া এলাকার গৃহবধূ নাসিমা বেগম। ছেলে শাহজাহান (১২) আর মেয়ে লামিয়া (৭)-র জন্য পাঞ্জাবি আর কামিজ কিনে নিয়েছেন তিনি।

ফোঁড়ের পোশাক হাতে লিমা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, এখনও ঈদের বাজার করিনি। স্বামী দিনমজুর, আয় রোজগার তেমন না। পাঁচ টাকায় বাচ্চাদের কাপড় বিক্রির খবর শুনে এসেছি। ভেবেছিলাম কী না কী দেবে! এখন দেখছি, খুবই সুন্দর সুন্দর জামা-কাপড় বিক্রি করা হচ্ছে। পাঁচ টাকায় এতো সুন্দর পোশাক পাওয়া যাবে, ভাবতেই পারিনি।

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। সেই আনন্দ সবার মাঝে বিশেষ করে যশোরের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ভাগ করে নিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটাতে মাত্র পাঁচ টাকায় ঈদের নতুন পোশাক দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ‘ফোঁড়’ নামে একটি ফ্যাশন হাউজ। প্রতিষ্ঠানটি তাদের দোকানের পণ্যই বিক্রি করেছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে। বিশেষ করে দুই থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত শিশুদের ফ্রক, সালোয়ার কামিজ, টপস, পাঞ্জাবি ও পায়জামা এবং বড়দের জন্যে পাঞ্জাবি বিক্রি করে তারা। এসব পোশাক ৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির শো-রুমে। দামি এসব পোশাক নামমাত্র মূল্যে কিনতে পেরে খুশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অভিভাবকরা।

শিশুদের জন্য পোশাক কিনছেন অভিভাবকরা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

ফোঁড় ফ্যাশন হাউজের সত্ত্বাধিকারী মামুনুর রশীদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “শিশুরা যাতে এই পোশাকগুলোকে দান মনে না করে সেজন্য পাঁচ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছি। এতে করে তাদের অংশীদারিত্ব থেকে যায়; তারা কোনো ধরনের হীনমন্যতায় ভুগবে না। সাধ্যমতো ঈদের আনন্দকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রয়াসে স্বস্তি রয়েছে।” ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ আয়োজন সম্পর্কে যশোরের স্থানীয় সংবাদকর্মী প্রণব দাস বলেন, এটি আমার দেখা অত্যন্ত চমকপ্রদ একটি উদ্যোগ। জানামতে, যশোরে এমন উদ্যোগ এটিই প্রথম। নিজেরা পছন্দ করে শিশুরা কাউন্টারে নিজহাতে টাকা দিয়ে কাপড় কিনছে, এ এক অভাবনীয় দৃশ্য। এমন উদ্যোগ সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মন থেকে হীনমন্যতা দূর হবে।

শো-রুম থেকে এনে পাঁচ টাকায় বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে পোশাক। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে সকাল ১০ টা থেকে শুরু হওয়া কেনাবেচা শেষ হয়ে যায় দুপুরেই। এ সময়ের মধ্যে সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ বয়স্করা ৪শ’ নতুন পোশাক কেনে।

পোশাক বিক্রি থেকে পাওয়া টাকা আবার সেখানে আসা হতদরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হয়।