• শনিবার, আগস্ট ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৬ রাত

৬ কোটি ডলারে মিলবে মহাকাশে রাত কাটানোর সুযোগ

  • প্রকাশিত ১০:৪১ সকাল জুন ৯, ২০১৯
নাসা
ছবি: সংগৃহীত

`পর্যটকদের জিরো গ্রাভিটির অভিজ্ঞতাসহ মহাকাশ এবং পৃথিবীর চমৎকার দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হবে, এছাড়াও ব্যাডমিন্টনও হয়তো খেলতে পারবেন তারা'

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পর্যটক পাঠাবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা । তবে যাওয়া-আসা, থাকা সব মিলিয়ে খরচ পড়বে পাঁচ কোটি আশি লাখ ডলার! এমনটিই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। 

প্রতিবেদনে  বলা হয়েছে, নাসার ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে পর্যটকরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রাত কাটাতে পারবেন। প্রতি রাতের ভাড়া দিতে হবে ৩৫ হাজার ডলার। তবে আসল খরচ মহাকাশ স্টেশনের ভাড়া নয়, সেখানে পৌঁছানোর খরচটাই হচ্ছে আসল। তবে খুব অল্প সংখ্যক পর্যটকই প্রতিবছর মহাকাশ ভ্রমণের এ সুযোগ পাবেন বলেও জানিয়েছে মহাকাশ গবেষণাকারী এ সংস্থাটি।

নাসার চীফ ফিনান্সিয়াল অফিসার জেফ ডেউইট বলেন, “এই মুহূর্তে নাসার কোন নভোচারী যখন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যান, তাদের পেছন খরচ পড়ে আট কোটি ডলার। তবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নাসা সেখানে পর্যটক পাঠাতে শুরু করে, তখন গড়ে খরচ পড়বে জনপ্রতি পাঁচ কোটি আশি লাখ ডলার।

মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানোর পর সেখানে নানা ধরণের তৎপরতায় অংশ নিতে পারবেন পর্যটকরা। সেখানে তাদের 'জিরো গ্রাভিটি' অর্থাৎ ওজনহীনতার অভিজ্ঞতা হবে। সেখান থেকে মহাকাশ এবং পৃথিবীর চমৎকার দৃশ্য দেখতে পাবেন। এমনকি ব্যাডমিন্টনও হয়তো খেলতে পারবেন।

নাসা জানিয়েছে, যারা পর্যটক হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাবেন, তারা সেখানে ত্রিশদিন পর্যন্ত থাকতে পারবেন। নাসা দুটি বেসরকারি কোম্পানিকে ভাড়া করেছে পর্যটকদের মহাকাশ স্টেশনে আনা নেয়ার জন্য। এর একটি ইলন মাস্কের 'স্পেস এক্স'। এরা তাদের ড্রাগন ক্যাপসুল ব্যবহার করবে পর্যটকদের পরিবহণের কাজে। আরেকটি হচ্ছে বোয়িং। স্টারলাইনার নামে একটি মহাকাশযান তৈরি করছে বোয়িং এই কাজে।

ধারণা করা হচ্ছে মহাকাশ স্টেশনে কোন পর্যটককে পৌঁছে দেয়া এবং ফিরিয়ে আনা বাবদ ছয় কোটি ডলার ভাড়া দিতে হবে এই দুটি কোম্পানিকে।

তবে পর্যটক হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার আগে খুবই কঠোর শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে সবাইকে। নাসা আশা করছে, পর্যটকদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ তারা মহাকাশে আরও গবেষণা এবং নতুন অভিযানে খরচ করতে পারবেন।

নাসার একজন কর্মকর্তা বিল গেরস্টেনমেইনার বলেন, নীচু কক্ষপথের বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে নাসা ২০২৪ সালের মধ্যে চাঁদে প্রথম মহিলা নভোচারী পাঠানো এবং নতুন করে চাঁদে অভিযান শুরু করার তহবিল যোগাতে পারবে। এরপর মঙ্গলগ্রহেও অভিযানের প্রস্তুতি নিতে পারবে।”