• রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৩৫ দুপুর

ভরণপোষণ জোগাতে ঋণে জর্জরিত, তবুও ৩০০ কুকুরের আশ্রয়দাতা তিনি

  • প্রকাশিত ০৫:০০ সন্ধ্যা জুন ১৫, ২০১৯
কুকুর চীন
নিজ খরচে ৩০০ কুকুরের ভরপোষণ তেন ঝ্যাং সংগৃহীত

শেষ পর্যন্ত এতগুলো কুকুরের ভরণপোষণের ব্যয়ভার ছাড়িয়ে যায় তার মাসিক আয়ের সীমানা। ব্যাংকের কাছে ঋণের জন্য হাত পাততে শুরু করেন ঝ্যাং। তবু চারপেয়ে বন্ধুদের ছাড়তে নারাজ তিনি।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি আর নতুন শুরু করা ট্রাভেল অ্যাজেন্সির ব্যবসা মিলিয়ে দিনকাল ভালোই যাচ্ছিল ৪১ বছর বয়সী চীনা নাগরিক ঝ্যাং কাই এর। কিন্তু বছর দুয়েক আগে ঋণের বোঝা চাপতে শুরু করে তার ঘাড়ে। বর্তমানে প্রায় ৮৭ হাজার মার্কিন ডলার (৭৩ লাখ টাকারও বেশি) ঋণ রয়েছে তার।

ঝ্যাংয়ের এই ঋণগ্রস্ত হওয়ার গল্পটা আসলেই বিচিত্র। ২০১৬ সালে হঠাৎ করেই তার ১৩ বছর বয়সী কুকুরটা মারা যায়। এরপর থেকেই তার মনে মায়া জন্মায় শহরে ঘুরে বেড়ানো অসংখ্য বেওয়ারিশ কুকুরের প্রতি। প্রথমে দুটো বেওয়ারিশ কুকুরকে তার ট্রাভেল অ্যাজেন্সির অফিসে এনে লালন-পালন করতে শুরু করেন। এরপর এক এক করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয় আরও ছয়টি কুকুর। সেই শুরু, এখন তিনি মোট ২৬০টি বেওয়ারিশ কুকুরের অভিভাবক। আর তাদের ভরণপোষণের পুরো খরচই আসে ব্যাংক ঋণ এবং দানের টাকা থেকে।

ট্রাভেল এজেন্সির অফিসে আটটি কুকুর থাকায় ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তাই চেংদু শহরের উপকণ্ঠে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে কুকুরগুলোকে রাখলেন ঝ্যাং। সেখানেও দেখা দিলো বিপত্তি। কুকুরের ডাকে প্রতিবেশীদের সমস্যা, তাই আপত্তির মুখে বেশ কয়েকবার বাড়ি ভাড়া নিয়েও শেষ পর্যন্ত বদলাতে হয়েছে। অবশেষে বাড়ি থেকে মিনিট দশেকের দূরত্বে তিনি পেয়ে যান একটা পরিত্যক্ত কারখানা ভবন। সেটাকেই তিনি এখন রূপ দিয়েছেন ‘লিটল অ্যাঞ্জেল অ্যানিমাল প্রটেকশন সেন্টার’।

প্রতিদিন প্রায় ৪০ কেজি খাবার কিনতে হয় ঝ্যাংকে

আটটি কুকুরের লালন-পালন কষ্টসাধ্য শোনালেও ঝ্যাং কাই শেষ পর্যন্ত পেরেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, প্রায় প্রতিদিনই তার ‘লিটল অ্যাঞ্জেল অ্যানিমাল প্রটেকশন সেন্টার’-এ রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো আশ্রয়হীন কুকুর নিয়ে আসতে শুরু করেন তিনি। এছাড়াও রাস্তায় কোনো অসুস্থ কুকুর দেখলে তিনি সেগুলোকে সেখানে এনে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত এতগুলো কুকুরের ভরণপোষণের ব্যয়ভার ছাড়িয়ে যায় তার মাসিক আয়ের সীমানা। ব্যাংকের কাছে ঋণের জন্য হাত পাততে শুরু করেন ঝ্যাং। তবু চারপেয়ে বন্ধুদের ছাড়তে নারাজ তিনি।

ঝ্যাং এর এই কুকুরপ্রীতির কথা শুনে অনেক পশুপ্রেমীই এগিয়ে আসেন তার পাশে। সাধ্যমতো দিতে শুরু করেন আর্থিক সহায়তা। তবে তা মোটেই যথেষ্ট নয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে ঝ্যাংয়ের আশ্রয়ে ছিল ৩০০ কুকুর। তবে পরে অনেকে সেখানে থেকে ৪০টি কুকুর তাদের বাড়িতে নিয়ে যান।

গত মে মাসে ঝ্যাং সাংবাদিকদের জানান, এই কুকুরগুলোর পেছেন তার মাসিক ব্যয় ২০ হাজার ইউয়ান (প্রায় আড়াই লাখ টাকা)। প্রতিদিন অন্তত ৪০ কেজি ডগ ফুড কেনেন তিনি। এছাড়াও প্রতিমাসে ৬ হাজার ইউয়ান তিনি দেন রক্ষণাবেক্ষণকারীদের। আর চিকিৎসা খরচের তো কোনো হিসেবই নেই।

ঝ্যাংয়ের এই কুকুরপ্রীতির জন্য তার বাবা-মাও তাদের পেনশনের অর্থ থেকে সহায়তা করেন। তাই পুরো পরিবারের ওপরই চেপেছে ঋণের বোঝা।

আর তার কাছে থাকা কুকুরগুলোর বেশিরভাগই হয় অসুস্থ অথবা বৃদ্ধ। তাই অন্য কেউ সেগুলোকে আশ্রয় দেবেন এমন সম্ভাবনাও কম।