• রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৬ দুপুর

ঘাস দিয়ে বানানো সেতু!

  • প্রকাশিত ০৩:৫৩ বিকেল জুন ১৮, ২০১৯
ঘাসের সেতু
পেরুর ইনকা অধিবাসীরা ৬০০ বছর ধরে এই ঘাসের সেতু নির্মান করে আসছে। ছবি: জর্ডি বাস্ক

শুধুমাত্র ঘাস আর মানবশক্তি ব্যবহার করেই এই সেতু তৈরি করা হয়। কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি এতে ব্যবহৃত হয় না।

পেরুর কুসকো অঞ্চলে আপুরিম্যাক নদীর ওপরে প্রতিবছর ঘাস দিয়ে এক সেতু বানানো হয়। কোয়েসওয়াচাকা নামের সেতুটি মূলত ইনকা সভ্যতার দড়ির সেতুর সর্বশেষ নিদর্শন। হাতে বোনা এই সেতুটি গত ৬০০ বছর ধরে ইনকা অধিবাসীরা তৈরি করে আসছে। প্রতিবছর আগের বছরের সেতুটি ফেলে দিয়ে নতুন আরেকটি সেতু স্থাপন করা হয়।

ইনকা অধিবাসীদের মধ্যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই সেতু তৈরির প্রথা চলে আসছে। নদীর দুই পাড়ের মানুষেরাই এতে অংশগ্রহণ করে।

প্রথা অনুযায়ী কেবল পুরুষেরা মূল সেতু তৈরির কাজ করে, আর নারীরা উপরের দিকের ছোট দড়ি বোনার কাজটি করে থাকে।

চলছে দড়ি বোনার কাজ। ছবি: জর্ডি বাস্ক

সেতু বানানোর প্রথম দিনে পুরুষেরা পুরনো সেতুর কাছে জড়ো হয় ও ছোট দড়িগুলো বুনে বড় দড়ি বানানো শুরু করে। সেতুটির মূল অবলম্বন হচ্ছে তিন স্তর বিশিষ্ট ছয়টি বড় দড়ি যা প্রায় ১ ফুট পুরু। প্রতিটি দড়িতে থাকে প্রায় ১২০টি চিকন দড়ি।

প্রতিটি পরিবার এই দড়ি তৈরির কাজে অংশ নেয়। বিশেষ প্রজাতির এই ঘাস বেশ শক্ত, স্থানীয়ভাবে যাকে বলা হয় 'কয়া ইচু'। ঘাসগুলোকে নমনীয় করতে প্রথমে গোলাকৃতির কিছু পাথর দিয়ে পেটানো হয়; তারপর ভেজানো হয় পানিতে।

সবাই যখন কাজে ব্যস্ত থাকে, আশে পাশের গ্রাম থেকে অনান্যরা তাদের জন্য রান্না করে নিয়ে আসে। সেই রান্নায় থাকে মুরগী, "কাই" (গিনিপিগ) আর ট্রাউট নামে পেরুর আপুরিম্যাক নদীর এক মাছ। সবগুলোই আলু দিয়ে রান্না করা হয়।
সেতু বানানোর সময় গ্রামবাসীরা রান্না করে নিয়ে আসে। ছবি: জর্ডি বাস্ক

পুরনো সেতুটি কেটে নিচে ফেলে দেয়া হয়। নিচের ছড়ার পানিতে তা ভেসে যায়। ঘাস দিয়ে তৈরি হওয়ার কারণে তা পচেও যায় খুব দ্রুত।

সেতু তৈরির তৃতীয় দিনে কয়েকজন পুরুষ সেতুতে ওঠে ও ছোট ছোট কিছু দড়ি রেলিং থেকে সেতুর মেঝে পর্যন্ত বেঁধে দেয়। এটি বেড়ার মতো কাজ করে যেন সবাই নিরাপদে সেতু পার হতে পারে।
রেলিং এর বেড়া তৈরির কাজ চলছে। ছবি: জর্ডি বাস্ক

ছয়টি বড় দড়ির চারটি থাকে হাঁটার জন্য। আর দুই পাশে বাকি দুটি লাগানো হয় হাত দিয়ে ধরার রেলিং হিসেবে।

শুধুমাত্র ঘাস আর মানবশক্তি ব্যবহার করেই এই সেতু তৈরি করা হয়। কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি এতে ব্যবহৃত হয় না।

প্রতিবছর কোয়েসওয়াচাকা সেতু নতুন করে নির্মান করা হয়। চতুর্থ দিনে খাবার আর সঙ্গীতের উৎসবের মধ্য দিয়ে এই নির্মানকাজ শেষ হয়। নির্মাণ ও উৎসব এমনভাবেই আয়োজন করা হয় যেন তা জুন মাসের দ্বিতীয় রবিবারে গিয়ে সমাপ্ত হয়।



বিবিসি অবলম্বনে