• বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৪ রাত

তিন সপ্তাহে বিমান বানালো দক্ষিণ আফ্রিকার কিশোর প্রকৌশলীরা

  • প্রকাশিত ০৫:৪৪ সন্ধ্যা জুলাই ১, ২০১৯
আফ্রিকা বিমান
নিজেদের বানানো বিমানে মেগান ও অ্যাগনেস। ছবি: সংগৃহীত

এখন তাদের লক্ষ্য নিজেদের বানানো বিমানে চড়ে ১২ হাজার মাইল পাড়ি দেওয়া

শুরুটা রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের হাত ধরে। তারপর মানুষের আকাশ ভ্রমণের স্বপ্ন পরিণত হয়েছে বাস্তবে। ধীরে ধীরে আকাশযাত্রার পথে আরও এগিয়েছে মানুষ। আকাশযানে এসেছে নিত্যনতুন সংযোজন। সেই ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের কোনো সহায়তা ছাড়াই নিজস্ব প্রচেষ্টায় বিমান তৈরি করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার একদল কিশোর-কিশোরী।

এখন তাদের লক্ষ্য নিজেদের বানানো বিমানে চড়ে ১২ হাজার মাইল পাড়ি দেওয়া।

চার আসনের বিমানটি বানিয়েছে ২০ জন শিক্ষার্থীর একটি দল। যাদের সবার পড়াশোনা ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে।

বিমানটির পাইলট ১৭ বছর বয়সী মেগান ওয়ার্নারের ভাষায়, “মনস্থির করে কোনো কাজ করলে যে কোনো কিছুই সম্ভব। আফ্রিকাকে এটা দেখিয়ে দিতেই আমাদের এ উদ্যোগ।”

বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র তিন সপ্তাহে পুরো বিমানটি বানানোর কাজ সম্পন্ন করে তরুণ নির্মাতা দলটি।

বিমানটির অন্যতম কুশলী ১৫ বছর বয়সী কিয়ামোগেটসে সিমিলা জানায়, “বিমানটির দিকে তাকালে নিজের প্রতি গর্বে আমার বুকটা ভরে যায়, মাঝেমাঝে অবিশ্বাস্য লাগে। বিমানটিকে মনে হয় আমার সন্তান।”

তার ভাষায়, “এটা খুব সুন্দরভাবে চলে আর দেখতেও চমৎকার।”

ছবি: বিবিসি

বিমানটির মাঝের অংশসহ ব্যালেন্সের ডিজাইন এবং পাখার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সিমিলার।

প্রথমে আশপাশের কেউই তাদের আবিস্কারকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। সবাই ভেবেছিল এ হয়ত কিশোর বয়সের নতুন কোনো পাগলামি। তবে, এখন সবাই তাকে নিয়ে গর্বিত।

বিমান বানানোর এই পরিকল্পনা আসে ১৭ বছর বয়সী মেগানের মাথা থেকে। স্বপ্নের এই প্রোজেক্টের নাম দেওয়া হয় `ইউ ড্রিম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ'। এই প্রোজেক্টে সহায়তার জন্য এক হাজারেরও বেশি আবেদনকারীর ভেতর থেকে বাছাই করে নেওয়া হয় যোগ্যদের।

মেগানসহ `ইউ ড্রিম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ'-এর ৬ সদস্যের রয়েছে বিমান চালানোর লাইসেন্স।

মেগানের মতে, “পাইলটের লাইসেন্স পাওয়া একটি ডিগ্রি অর্জনের সমতুল্য। স্কুলের পড়াশোনা ভালো না লাগায় বিমান চালনা প্রশিক্ষণ নিতে যাই আমি।”

মেগানের বাবা ডেস ওয়ার্নারও একজন পেশাদার বিমান চালক। তিনি জানান, বাচ্চাদের বানানো এই বিমানটির জন্য অন্তত তিন হাজার কর্মঘণ্টা প্রয়োজন।