• বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩ রাত

স্মার্টফোনে আসক্তি কাটাবে অ্যাপ!

  • প্রকাশিত ০৪:২৮ বিকেল জুলাই ২২, ২০১৯
স্মার্টফোনে আসক্তি
স্মার্টফোনে আসক্তি কাটাতে অ্যাপ। ছবি: সংগৃহীত

বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিনে কতঘণ্টা মোবাইলে চোখ রেখে কাটছে সেটা হিসেব করতে এইধরনের অ্যাপ কাজে লাগতে পারে

সকালে ঘুম ভাঙা মাত্র হাত চলে যায় মাথার কাছে রাখা মোবাইলের দিকে। কাজ বা পড়াশোনার ফাঁকে মাঝে-মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আনাগোনা। আড্ডা মারতে মারতে বা কোথাও খেতে গিয়েও মন পড়ে মোবাইলে। নতুন কোনও নোটিফিকেশন না এলে সন্দেহ হয়, ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক আছে তো?

বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এসবই হতে পারে মোবাইলে আসক্তির লক্ষণ। শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, এই আসক্তি থাবা বসিয়েছে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও। মোবাইলে আসক্তির প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন জীবনে। বিভিন্ন মানসিক সমস্যার পাশাপাশি মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার ডেকে আনছে নানা রোগও।

সর্বনাশা আসক্তি কাটাতে তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি মোবাইল অ্যাপ। নির্দিষ্ট সময়ের বেশি মোবাইল ব্যবহার করলে কোনও অ্যাপ সতর্কবার্তা পাঠায়, কোনওটি আবার বন্ধ করে দেয় ইন্টারনেট সংযোগ। কোনও অ্যাপ আবার একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারে বাধা দেয়। এভাবেই ধীরে ধীরে মোবাইল ব্যবহারের সময় কমিয়ে ফেলা যাবে বলে দাবি করেছেন ওই অ্যাপ-নির্মাতারা।

তবে, যে বস্তুটির প্রতি আসক্তি রয়েছে, তার মাধ্যমেই কি এই আসক্তি কাটানো সম্ভব?

মনোরোগ চিকিৎসকরা জানান, যেকোনও ধরনের আসক্তি কমানোর পদ্ধতি ব্যক্তিবিশেষে বদলে যায়। যেমন, কেউ ধূমপান ছাড়েন ধীরেধীরে, কেউ আবার একদিনেই ছেড়ে দেন। ফলে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ সকলের মোবাইল আসক্তির জন্য কার্যকর হবে, এমনটা মনে করেন না তারা।

তাদের মতে, যেকোনও ধরনের আসক্তি একটা জটিল, বহুস্তরীয় বিষয়। এইধরনের অ্যাপের ভাবনাটা ভাল হলেও কতটা কার্যকর হবে সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

তাহলে এর থেকে মুক্তির উপায় কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রথম ধাপ নিজে বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন হওয়া, ক্রমাগত মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাসে একটা ধাক্কা দেওয়া। সারাদিনে কতঘণ্টা মোবাইলে চোখ রেখে কাটছে, সেটা হিসেব করতে এইধরনের অ্যাপ কাজে লাগতে পারে।

তারপরে সম্বল একমাত্র মনের জোর। কারণ কোনও অ্যাপ ইন্টারনেটের সংযোগ বা অন্য অ্যাপ আর কিছু বন্ধ করে দিলেও ‘সেটিং’ পাল্টে ফের তা চালু করার উপায় আছে। সেক্ষেত্রে আসক্তি কাটিয়ে উঠতে বিষয়টির রাশ রাখতে হবে নিজের হাতেই। বাইরে থেকে অন্য কোনও ব্যক্তি বা প্রযুক্তির সাহায্যে এর সমাধান সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন তারা।