• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:০১ রাত

ডিভোর্সের ধাক্কায় যেভাবে সামলাবেন নিজেকে

  • প্রকাশিত ১০:১৬ রাত আগস্ট ২২, ২০১৯
ডিভোর্স

ডিভোর্সের আগে খুব ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্তে আসা জরুরি। যদি ডিভোর্স নেওয়াই একমাত্র সমাধানের পথ হয়, তাহলে মনকেও সেইভাবে তৈরি করাটা দরকার

বিয়েটা নিজের পছন্দ করা পাত্রকে হোক কিংবা পরিবারের পছন্দে, একসঙ্গে দিন কাটানোর পর বিচ্ছেদের ঝড়টা প্রায় সব সম্পর্কেই প্রভাব ফেলে। নিজের অজান্তেই মনের চাপ বেড়ে যায় অনেকখানি। ডিভোর্সের আগে তাই খুব ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্তে আসা জরুরি। যদি ডিভোর্স নেওয়াই একমাত্র সমাধানের পথ হয়, তাহলে মনকেও সেইভাবে তৈরি করাটা দরকার। এই ধাক্কা সামলাবেন কী করে? মেনে চলুন কয়েকটি উপায়।

মাথা ঠাণ্ডা রাখুন: মাথা ঠাণ্ডা রাখাই ডিভোর্স সামলানোর প্রথম ধাপ। ভেঙে পড়লে তার রেশ সামাজিক ও পেশাগত জীবনেও পড়বে। তাই প্রথমেই মনকে বোঝান, যে মানুষ আপনার সঙ্গে থাকতে চাইছেন না, তাকে জোর করে আঁকড়ে ধরে রাখায় কোনও কৃতিত্ব নেই। ভুল বোঝা-বুঝি থেকে কোনও চরম সিদ্ধান্তে পৌঁছলে অবশ্যই দু’জন মুখোমুখি বসে আলোচনা করুন। তবে তাতেও কাজ না হলে ভেঙে পড়বেন না। এইসময় মন ভাল রাখা কঠিন হলেও বিষাদকে চেপে বসতে দেওয়া যাবে না। এতেও মনে চাপ পড়ে। যেসব সঙ্গ আপনাকে বারবার পুরনো কথা মনে করায় বা ডিভোর্সের প্রসঙ্গে নানা কথা বলে, তাদের সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন কয়েকটা দিন।

স্মৃতি এড়ান: পুরনো উপহার, বিয়ের চিহ্ন এগুলো কষ্ট দিলে সেসব কিছুদিনের জন্য সরিয়ে ফেলুন অন্যকোথাও। সময়ের সঙ্গেসঙ্গে শোক সামলানোর পর সামনে আনুন সেসব। কেন সম্পর্ক টিকল না তা ভাবুন, ভুল থেকেও শিক্ষা নিন। তবে, সেসব পোস্টমর্টেম করতে বসে অনিচ্ছুক সঙ্গীকে ঘনঘন ফোন বা টেক্সট কিন্তু একেবারেই নয়।

সাহসী হোন: মনে মনে সাহসী হতেই হবে। অন্যের বাঁকা কথা বা ইঙ্গিতের উপযুক্ত জবাব দিন। কাছের মানুষরা ছাড়া আর কেউ যেন আপনার ভেতরের ক্ষত বুঝতে না পারেন। সকলের কাছে নিজের মনের অবস্থা প্রকাশ করতে গেলে বারবার দুঃখের প্রসঙ্গগুলো উঠে আসবে যা মনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতির কারণ। এছাড়া অনেকেই আপনার নরম অবস্থার কথা জেনে আঘাত করতে পারে।

নিজের যত্ন: মনে রাখবেন, এপৃথিবীতে আপনারই প্রথম ডিভোর্স হচ্ছে না। এই প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে বহুজনই গিয়েছেন। তাই নিজেকে কোনভাবেই কষ্ট দেবেন না। নিজের সিদ্ধান্তে ডিভোর্স করলেও অনেকসময় পুরনো সুখের দিনগুলো ঘুরেফিরে এসে কষ্ট দেয়। এসময় বরং নিজেকে একটু ব্যস্ত করে ফেলুন। নিজের কোনও শখ ঝালিয়ে নিতে শুরু করুন নিজের মতো করে। মন খুব অশান্ত হলে লিখে ফেলুন মনের সব কথা। কাউকে দেখানোর দরকার নেই। একসময় মন শান্ত হয়ে এলে ইচ্ছে করলে সেসব আর না-ও জমিয়ে রাখতে পারেন। অন্যকিছু ভাল লাগলে শুরু করুন তা। কোনও সংস্থার সঙ্গে জড়িত থেকেও সাংস্কৃতিক চর্চা করতে পারেন। একান্তই সে সবে মন না থাকলে খুব কাছের বন্ধু বা পরিজনদের সময় দিন। বেড়িয়ে আসুন কোথাও। বাইরে খেতে যান। কেনাকাটা করুন। মোদ্দা কথা, মন একটু অন্যদিকে থাকে এমন কাজে ব্যস্ত রাখুন নিজেকে।

নতুন সম্পর্কের জন্য ব্যস্ততা নয়: ডিভোর্স হল মানেই এখনই নতুন সম্পর্কে জড়াতে হবে, এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। আপনি একা থাকতে পারেন না বলেই এমনটা হচ্ছে। প্রেমের বদলে একটা আঁকড়ে ধরার, অবলম্বন খুঁজে পাওয়ার ইচ্ছে কাজ করছে। তাই নতুন সম্পর্কে জড়ানোর আগে নিজেকে কিছুটা সময় দিন। কোনও নতুন মানুষ জীবনে এলেও নিজেকে কিছুটা সময় দিন আগে। মন শান্ত হয়ে আসার পরেও যদি সেই মানুষটির সঙ্গে ভাললাগে, প্রয়োজনীয় মনেহয়, তবেই এগুবেন, নতুবা নয়।