• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১৩ বিকেল

বিলুপ্তির পথে ভেসাল জাল

  • প্রকাশিত ০৫:৪০ সন্ধ্যা অক্টোবর ২৪, ২০১৯
ভেসাল জাল
৩৫ বছর ধরে ভেসাল দিয়ে মাছ ধরছেন মাদারীপুরের এই মৎস্যজীবী মঞ্জুর হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

তবে মাছ ধরা যে নেশার মতো! তাই এখনও কেউ কেউ এই পুরনো পদ্ধতিতে মাছ শিকার করেন

প্রাকৃতিক জলাশয়ের মাঝে কোথাও কোথাও পুঁতে রাখা বাঁশের মাঝে টাঙানো জাল। জালের পাশেই বাঁশ দিয়ে বানানো ছোট একটি মাচাং। আশপাশে কোথাও খুঁটিতে বেধে রাখা ডিঙি নৌকা। এতসব আয়োজন কেবল মাছ ধরার জন্য। বিশেষ ধরনের এই মাছ শিকারের ব্যবস্থাকে বলা হয় ‘ভেসাল’।

একটা সময় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর গ্রামে খালে বর্ষা মৌসুম জুড়ে ভেসাল দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা যেতো মৎস্যজীবীদের। ঝাঁক বেধে উঠতো নানা জাতের দেশীয় প্রজাতির মাছ। 

একসময় সচরাচর চোখে পড়লেও বর্তমানে কালের বিবর্তনে হারাতে বসেছে ভেসাল।  প্রায় বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার এই মাছ ধরার বিশেষ প্রক্রিয়া। 

তবে মাছ ধরা যে নেশার মতো! তাই এখনও কেউ কেউ এই পুরনো পদ্ধতিতে মাছ শিকার করেন। 

এমনই একজন মৎস্যজীবী মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বালিগ্রামের নুরুল ইসলাম সরদার (৭৫)। আগের তুলনায় জলাশয়ে মাছের পরিমাণ কমে গেলেও দীর্ঘ ৩৫ বছরের অভ্যাস ছাড়তে পারেননি তিনি। বর্ষার শুরুতে খালে পানি বাড়তে শুরু করলেই তিনি ভেসাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করেন। তার দুই ছেলেও মাছ ব্যবসার পাশাপাশি ভেসাল দিয়ে মাছ ধরায় বাবাকে এ কাজে সহায়তা করেন।

ছবি: ঢাকা ট্রিবিউনপ্রতিদিন ভোরে ভেসাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করে দুপুরের দিকে এক-দেড় ঘণ্টার বিরতি নেন তারা। এরপর টানা রাত ৯-১০ টা পর্যন্ত চলে মাছ ধরা। ভেসালে ওঠা মাছ বিক্রি করেন পার্শ্ববর্তী হাট-বাজারে।

স্থানীয়রা জানান, মাদারীপুরের সদর, শিবচর, কালকিনি ও রাজৈর সদর এর প্রতিটি গ্রামের প্রাকৃতিক জলাশয়ে ২০-২৫ বছর আগেও বছরজুড়েই ভেসাল দিয়ে মাছ ধরা হতো। সেই মাছ বিক্রি করেই মৎস্যজীবীরা পরিবারের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতেন। ক্রেতারাও কম দামে তাজা মাছ কিনে সন্তুষ্ট হতেন। 

মৎস্যজীবী নুরুল ইসলাম জানান, বর্ষায় আগের তুলনায় খালে পানি কম হওয়ায় মাছের উৎপাদন অনেক কমে গেছে। এছাড়া ভেসাল তৈরির জন্য বড় বাঁশও পাওয়া যায় না। অন্যান্য সব সরঞ্জামের দামও বাড়তি। তাই অনেকেই ভেসাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেক মৎস্যজীবী পেশা পরিবর্তন করেছেন। সব মিলিয়ে ভেসাল এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। 

গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্যবাহী এই মাছ ধরার প্রক্রিয়ার বিলুপ্তির বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন মাদারীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ। তিনি বলেন, ১৫-২০ বছর আগেও গ্রামে প্রচুর ভেসাল দেখা যেতো। জলাশয়গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদনও অনেক কমে গেছে।