• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২৫ বিকেল

এসক্যাপ ডেন: শহুরে কোলাহল থেকে একটু মুক্তি

  • প্রকাশিত ০২:১৮ দুপুর অক্টোবর ২৫, ২০১৯
এসক্যাপ ডেন
এসক্যাপ ডেন সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

ঘরগুলোতে বিছানা এমনভাবে রাখা হয়েছে যেন সেখান থেকে উপভোগ করা যায় উন্মুক্ত আকাশ আর প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য

ভাবুন তো, শহুরে কোলাহল ছাড়িয়ে বসে আছেন একটি নির্জন খোলা জায়গায়। আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে পেজা তুলোর মতো শুভ্র মেঘ। আর চারপাশ ঘেরা সবুজ বনানীকে ছুঁয়ে দিচ্ছে মৃদু হাওয়া। ভাবতেই যেন স্বর্গীয় অনুভূতি দোলা দেয় মনে।

এমনই এক চিত্র দেখা যাবে রাজধানীর প্রগতি সরণীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে সামান্য দূরত্বে অবস্থিত ব্যাক্তিগত মালিকানাধীন ভবন 'এসক্যাপ ডেন'-এ।  'এসক্যাপ ডেন' এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আর্কিটেকচার ফার্ম 'রিভার অ্যান্ড রেইন লিমিটেড'। 

২০১৭ সালে নিজেদের মালিকানাধীন ২০ কাঠা জমিতে একটি বাড়ি বানানোর পরিকল্পনা করেন তানজিম হক ও আসমা সুলতানা, যেখানে ছুটির দিনে বন্ধু-স্বজনদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানো যাবে। সে অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়া 'রিভার অ্যান্ড রেইন লিমিটেড'-কে।  

জমি পর্যবেক্ষণ করে “রিভার অ্যান্ড রেইন লিমিটেড”-এর আর্কিটেক্ট কাজী ফিদা সেখানে রিসাইকেল করা শিপিং কন্টেইনারের আকৃতিতে একটি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান জমির মালিকদের। 

কাজী ফিদা বলেন, “নতুন পরিকল্পনার একটি স্কেচ ও অ্যানিমেশন নিয়ে আমরা ভূমি মালিকের সঙ্গে দেখা করি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে আমাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাওয়ায় একইসঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য ও চিন্তিত লাগতে শুরু করলো। যদিও বাড়ি নির্মাণে শিপিং কন্টেইনার ব্যবহারের বিষয়টি নতুন নয়। তবে আমরা বাংলাদেশের গ্রামের বাড়িঘরকে অনুসরণ করে আধুনিক কিছু বানানোর পরিকল্পনা করি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম অতিথিদের জন্য আলাদা বসার ঘর, একটি রান্নাঘর, ঘরের ভেতর প্রশস্ত খোলা জায়গা এবং একটি খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে। পাশাপাশি গ্রামের বাড়িগুলোর মতো থাকবে সবুজের ছোঁয়া। এসক্যাপ ডেনের সীমানা প্রাচীরটি বিভিন্ন ধরনের গাছপালা দিয়ে ঘেরা।”

যেমনভাবে সাজানো হয়েছে 'এসক্যাপ ডেন' 

'এসক্যাপ ডেন'-এ ঢুকতেই চোখে পড়বে লাল-নীল রঙের গেট। পুরো স্থাপনাটিকে ঘিরে রেখেছে বিভিন্ন ধরনের সবুজ লতা-গুল্ম আর বাঁশের প্রাচীর। জায়গাটির শ্যামলিমা আর নির্মল হাওয়া মনে এনে দেয় অন্যরকম প্রশান্তি। বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় দাঁড়ালে হারিয়ে যেতে হবে পুরোনো কোনো সুখস্মৃতিতে।

স্টিলের ভিত্তির ওপর তিনটি কন্টেইনার দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মূল স্থাপনাটি। পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের জন্য সেগুলোকে স্থাপন করা হয়েছে বেশ খোলামেলাভাবে। শোবার ঘরগুলোর দেয়ালের স্বচ্ছ কাঁচ ভেতরে এনে দেয় সূর্যের কিরণের উষ্ণ ছোঁয়া।  ঘরগুলোতে বিছানা এমনভাবে রাখা হয়েছে যেন সেখান থেকে উপভোগ করা যায় উন্মুক্ত আকাশ আর প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য। শোবার ঘরের সামনের লবি থেকে নেমে গেছে একটি সিঁড়ি। সিঁড়ি দিয়ে নামলেই রয়েছে সবুজ ঘাসে ঢাকা খোলা উঠান।  

বাড়ির ভেতরকার কারুকাজ আরও মনোমুগ্ধকর। ঘরোয়া পরিবেশের জন্য দ্বিতীয় তলায় আছে একটি রান্নাঘর, ছোট একটি লাউঞ্জ, ডাইনিং স্পেস, স্টোররুম আর টয়লেট। কাঠের তৈরি হওয়ায় ডাইনিং স্পেসটিতে বসলে এনে দেয় জাহাজের ডেকের অনুভূতি।