• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১৩ বিকেল

সাঁতারে মিলবে রোগমুক্তি!

  • প্রকাশিত ০৩:৩২ বিকেল অক্টোবর ২৬, ২০১৯
সাঁতার
সাঁতার কাটলে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস অনেকবেশি সুস্থ থাকে। ছবি: সংগৃহীত

সাঁতার কাটলে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস অনেকবেশি সুস্থ থাকে। নানা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যারা রোজ সাঁতার কাটেন, তাদের হার্টের সমস্যাও কমে অনেকখানি

পানিতে নামতে অনেকেই স্বচ্ছন্দ না হলেও জেনে রাখা জরুরি, সাঁতারের মতো ভাল ব্যায়াম খুব কমই আছে। দিনের জন্য বরাদ্দ নানা রকম ব্যায়ামের পরিবর্তে সাঁতার কাটলেই অনেকটা কাজ সারা হয়ে যায়। পাশাপাশি সাঁতার নানা রোগ থেকে শরীরকে ভালও রাখে। 

সাঁতার কেন উপকারী

• সাঁতার কাটলে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস অনেকবেশি সুস্থ থাকে। নানা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যারা রোজ সাঁতার কাটেন, তাদের হার্টের সমস্যাও কমে অনেকখানি।

• আর্থ্রাইটিসের সমস্যা কিংবা হাঁটু, পায়ের ব্যথা থাকলেও সাঁতার কাটতে পারেন। অনেক সময়ে এই ধরনের রোগে ব্যায়াম করতে সমস্যা হলেও সাঁতারে সাধারণত তা হয় না। অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের মতো রোগে অস্থিসন্ধির যন্ত্রণা, আড়ষ্ট ভাবও কমাতে সাহায্য করে সাঁতার।

• হাঁপানির মতো রোগে সাঁতার খুব ভাল ফল দেয়। আবার সাইনাসের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে সাঁতার। তবে এই দু’টি ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। সাধারণ সুইমিং পুলের জলে ক্লোরিনের মাত্রা কম-বেশি হলে তা কিন্তু রোগের কষ্ট বাড়িয়ে তোলে।

• অতিরিক্ত ক্যালরি বার্ন করতে চাইলে সুইমিং অদ্বিতীয়। সাধারণত কোনও মানুষের ওজন ও ধাতের ওপরে নির্ভর করে, একঘণ্টা সাঁতারে তার কত পরিমাণ ক্যালরি খরচ হবে। তবে সার্বিক ভাবে অন্যান্য সাধারণ ব্যায়ামের তুলনায় সাঁতারে ক্যালরি বার্নের হার বেশি।

সাঁতারের সতর্কতা

• সাঁতার কাটতে গিয়ে অনেক সময়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয় ত্বক। একই সুইমিংপুল একাধিক মানুষ ব্যবহার করার ফলে ত্বকে অ্যালার্জি, র‌্যাশ বেরোতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

• অত্যধিক ক্লান্ত থাকলে, ঠাণ্ডা লাগলে কিংবা প্রচণ্ড গরম থেকে তেতেপুড়ে এলে তক্ষুণি সাঁতারকাটা ঠিক নয়। সামান্য বিশ্রাম নিয়ে করুন।

• সাঁতার কাটার সময়ে কখনওই মুখে চু্ইংগাম জাতীয় কিছু রাখবেন না। এতে বিপদের আশঙ্কা থাকে।

• রাতে সাঁতার কাটতে হলে পুলের অপেক্ষাকৃত আলোকিত জায়গায় সাঁতার কাটাই শ্রেয়।

• সাঁতার কাটার সময়ে লাইফগার্ডের নিয়মাবলি মেনে, তার কথা শুনেই এগোনো ভালো।

• সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বার্ধক্যজনিত অনিদ্রাও দূর করে সাঁতার। ইনসমনিয়ার মতো সমস্যায় যারা ভোগেন, তারা নিয়মিত সাঁতার কাটলে ভাল থাকবেন। আবার ঘুমও হবে ভালো।

• স্ট্রেস, হতাশা কাটিয়ে সাঁতার মুডও ভাল করে তোলে। ডিমেনশিয়া জাতীয় নানা মানসিক সমস্যায় মস্তিষ্ক ও মন ভাল রাখার অন্যতম উপায় হিসেবে সাঁতারকে বেছে নেন বিশেষজ্ঞরা।

• সাঁতার সাধারণত বেশিরভাগ মানুষের জন্যই উপকারী। তবে সোরিয়াসিস জাতীয় ত্বকের রোগে যারা ভোগেন, তাদের সুইমিং পুলের জলে সাঁতার কাটা উচিত নয়। এতে সমস্যা বাড়তে পারে। আবার অন্তঃসত্ত্বা নারীরা ঠিক কতদিন পর্যন্ত সাঁতার কাটতে পারবেন, সেবিষয়েও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।