• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১৭ বিকেল

মানবসেবায় তিনি সাজিয়েছেন সহস্র ঔষধি গাছের বাগান

  • প্রকাশিত ০৪:৩৬ বিকেল নভেম্বর ১, ২০১৯
বগুড়া শওকত মাস্টার
নিজের বাগানে শওকত মাস্টার ইউএনবি

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও গাছ থেকে পাওয়া প্রাকৃতিক ওষুধ দিয়ে রোগ নিরাময় বাড়াতে তার এ প্রয়াস

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট এলাকার বাসিন্দা শওকত আলী। এলাকার সবাই তাকে শওকত মাস্টার বলে চেনে, তবে তিনি এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন বিলুপ্ত ও দুর্লভ প্রজাতির ঔষধি এবং ফলজ বাগান করে। অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক নিজের বাড়িতে বিলুপ্ত ও দুর্লভ প্রজাতির হাজারখানেক ঔষধি ও ফলজ গাছের বাগান গড়ে তুলেছেন। বাগান থেকে উৎপাদিত ওষুধ ও ফল বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করেন তিনি।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও গাছ থেকে পাওয়া প্রাকৃতিক ওষুধ দিয়ে রোগ নিরাময় বাড়াতে তার এ প্রয়াস বলে জানান শওকত আলী।

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শওকত আলী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পেশায়ও জড়িত। বয়স ৯০ এর কাছাকাছি হলেও মানবসেবার কাছে বয়স তাকে পরাজিত করতে পারেনি। মানুষ ও গাছের প্রতি ভালোবাসা তার শৈশব থেকেই। তিন ছেলে, দুই মেয়ে ও স্ত্রীর নিয়ে তার সংসার। তার কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট পরিবারের সদস্যরাও।

শওকত আলী সারাদিন চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি বসতবাড়ির আশপাশে ও পুকুর পাড়ে গড়ে তুলেছেন প্রায় ১ হাজার বিলুপ্ত প্রায় ও দুর্লভ প্রজাতির ঔষধি ও ফলজ গাছ। গ্রামের অন্যান্য এলাকায় এসব বিলুপ্ত প্রায় ও দুর্লভ গাছের চারা ছড়িয়ে দিতে বিনামূল্য বিতরণ করে যাচ্ছেন তিনি। সেইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে পরিচিত করে দেন এসব গাছের সঙ্গে, জানিয়ে দেন বিভিন্ন গাছের গুণাগুণ। গাছের প্রতি এমন মমত্ববোধের কারণে এলাকার মানুষ তার নাম দিয়েছে “বৃক্ষপ্রেমিক শওকত আলী”। তার এই কার্যক্রমে খুশি জেলা কৃষি বিভাগ ও সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল চৌধুরী বলেন, আমরা তো শুধু ধান ও অন্যান্য ফসল চাষ করে নিজের স্বার্থ বড় করে দেখি। নিজের স্বার্থের জন্য জমিতে নানা ফসলের চাষ করে বছরের খাবার জোগাড় করি। কিন্তু শওকত মাস্টার ব্যতিক্রম। নিজের জমিতে তিনি শুধুই খাদ্যশস্যের আবাদ করেন না। মানুষের মঙ্গলের জন্য নিজের অনেক জমিতে লাগিয়েছেন বিরল প্রজাতির ঔষধি গাছ। মানুষ তার গাছের বাগান দেখতে আসেন। মানুষ গাছ দেখতে এলে তিনিও খুশি হন।

শওকত আলী গাছ নিয়ে গবেষণায় অন্যান্য অবদান রাখায় বঙ্গবন্ধু পুরস্কার ছাড়াও জেলা ও উপজেলায় একাধিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছেন।

শওকত আলীর এমন কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে সবাইকে তার মতো গাছ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম ফেরদৌস। তার গাছের সংগ্রহ বাড়াতে বিরল গাছের চারা, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহায়তারও আশ্বাস দেন তিনি।