• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৮ রাত

যে গ্রামে মানুষের ঘুম ভাঙে পাখির কলতানে

  • প্রকাশিত ০৩:৪১ বিকেল নভেম্বর ৯, ২০১৯
নওগাঁ পাখি গ্রাম
পাখিদের আনোগোনার কারণে নওগাঁ আলিদেওনাকে স্থানীয়ভাবে ডাকা হয় "পাখি গ্রাম"আব্দুর রউফ পাভেল/ঢাকা ট্রিবিউন

স্থানীয় উদ্যোগে গ্রামটিকে ঘোষণা করা হয়েছে ‌‌`পাখি শিকার মুক্ত এলাকা' হিসেবে। গ্রামটির সীমানায় প্রবেশ করা মানে পাখিটি নিরাপদ

এ যেন পাখির অঘোষিত অভয়ারণ্য। পুরো গ্রাম জুড়ে সারাবছরই দেখা মেলে হরেক রকম বক, শুমুখইল, রাতচোরা, সারস, মাছরাঙা, পানকৌড়ি ও বিভিন্ন প্রজতির ঘুঘুসহ নাম না জানা শত প্রজাতির হাজার হাজার পাখি।

বলা হচ্ছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আলিদেওনা গ্রামের কথা। সেখানে পাখির মিষ্টি কলতানে প্রতিদিন ভোরবেলা ঘুম ভাঙে মানুষের।

সারাদিনই সেখানকার গাছে গাছে পাখিদের কিচির-মিচির শোনা যায়। উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে সেখানে এমন পাখিদের সমারোহ। পাশাপাশি, গ্রামবাসীও পাখিদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল। স্থানীয় উদ্যোগে গ্রামটিকে ঘোষণা করা হয়েছে “পাখি শিকার মুক্ত এলাকা” হিসেবে। আলিদেওনার সীমানায় প্রবেশ করা মানে পাখিটি নিরাপদ। আর এ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন গ্রামের সবাই। পাখি শিকার রোধে তারা যথেষ্ট সচেতন।

তাই আলিদেওনাকে আশপাশের এলাকার মানুষ চেনেন “পাখি গ্রাম” নামে।

মহাদেবপুর উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার পশ্চিমের এই গ্রামে পাখিদের সমারোহ রীতিমতো মনমুগ্ধকর। প্রতিদিনই সেখানে পাখি দেখতে যান বিভিন্ন এলাকার মানুষ। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে শামুকখৈল ও বক দেখতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে আলিদেওনাতে।

আলিদেওনায় গাছে গাছে সারাবছরই দেখা মেলে হাজার হাজার পাখির। আব্দুর রউফ পাভেল/ঢাকা ট্রিবিউনগ্রামটিতে প্রবেশের সরু রাস্তার দুই ধারে গাছে গাছে লাগানো রয়েছে বিভিন্ন পাখির আদলে সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড। সেগুলোতে লেখা রয়েছে পাখি শিকার রোধে বিভিন্ন আইন ও সচেতনতামূলক উপদেশ। যেমন- ‘‘পাখি শিকার করবেন না, পাখি মারবেন না”, “পাখিরাও আমাদের মতো বাঁচতে চায়, পাখি আমাদের পরম বন্ধু, তাদের আগলে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে” ইত্যাদি।

পাখি সংরক্ষণে গ্রামের মানুষের সচেতনতা বাড়িয়ে প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন “আলিদেওনা পাখি সংরক্ষণ কমিটির” সভাপতি নির্মল বর্মণ।

ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “পাখিদের প্রতি আলিদেওনা গ্রামের মানুষের ভালোবাসার কারণেই এখানে পাখিদের আবাসভূমি গড়ে উঠেছে। তারা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে বাসা থেকে পড়ে যাওয়া পাখির ছানাকে গ্রামবাসী পরম মমতায় মা পাখির বাসায় পৌঁছে দেয়।” গ্রামটিকে সরকারিভাবে পাখিদের অভয়রণ্য ঘোষণার পাশাপাশি একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি।

পাখিদের বাড়তি নিরাপত্তার জন্য একই দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষসহ, পাখিপ্রেমী, সমাজসেবী ও পরিবেশবিদরা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আলিদেওনা গ্রামটি পাখি গ্রাম হিসেবে সারাদেশের মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়েছে। পাখির অভয়রণ্যসহ গ্রামটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করছি।”