• বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩ রাত

মিসরে খোলা হলো দুই হাজার বছরের পুরনো কফিন

  • প্রকাশিত ০৮:১২ রাত জুলাই ২১, ২০১৮
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১২ রাত জুলাই ২১, ২০১৮
b4f3d61fc7e93a90d8b456a-1532182050144.jpg
২ হাজার বছর পুরনো সেই কফিন। ছবি- রয়টার্স

যে প্রবল দুর্গন্ধের কারণে প্রাথমিকভভাবে কফিনের ঢাকনা খোলার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছিল তার কারণ হাজার হাজার বছর ধরে সেখানে থাকা দেহগুলোর গলিত অবশিষ্টাংশ।

মিসরের আলেকজান্দ্রিয়াতে প্রায় দুই হাজার বছর পুরনো একটি প্রস্তরনির্মিত কফিন খোলা হয়েছে। গুজব ছিল সেখানে রয়েছে মহাবীর আলেক্সান্ডারের দেহাবশেষ। এমন কি কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, কফিনটির ‘অবমাননা’ হলে ফারাওয়ের অভিশাপ সত্যি হতে পারে! তবে শেষমেশ সব কুসংস্কারকে উপেক্ষা করে কফিনটি খোলাই হল। আর খোলার পর অবসান হলো সব শঙ্কা, কুসংস্কার ও গুজবের। সেখানে রয়েছে তিনটি গলিত মৃতদেহ দেখা গেল সেখানে। 

বিবিসি জানিয়েছে, একটি ভবন নির্মাণের স্থানে প্রস্তরনির্মিত কফিনটি পাওয়া গিয়েছিল।

মিসরের প্রত্নতত্ত্ববিদরা তিন সপ্তাহ আগে আলেক্সান্দ্রিয়ায় ওই বিশালাকার কফিনটির খোঁজ পেয়েছিলেন। ২ হাজার বছর পুরাতান কফিনটি খুলে দেখার জন্য গঠন করা হয়েছিল বিশেষ কমিটি। কফিনের ঢাকনা ২ ইঞ্চি সরাতেই যে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে তাতে বিশেষজ্ঞরা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে মিসর সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারদের সহায়তায় কফিনের ঢাকনা সরানো হয়। ঢাকনা খুলে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে তিনজন মানুষের দেহাবশেষ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল ওই দেহাবশেষ একটি পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু পরে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেহাবশেষ তিনটি তিন জন সৈনিকের হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি, যারা ফারাওয়ের সময় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিল। এদের মধ্যে একজনের মাথায় তীরের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

কফিনের ভিতরে পাওয়া যায় তিনটি গলিত লাশের অবশিষ্টাংশ। ছবি- এএফপি

যে প্রবল দুর্গন্ধের কারণে প্রাথমিকভভাবে কফিনের ঢাকনা খোলার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছিল তার কারণ হাজার হাজার বছর ধরে সেখানে থাকা দেহগুলোর গলিত অবশিষ্টাংশ।

প্রত্নতত্ত্ববিদ মোস্তফা ওয়াজিরি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বলেন, ‘আমরা কফিনটি খুলেছি এবং দেখুন পৃথিবীতে অন্ধকার নেমে আসেনি! আমিই প্রথম কফিনের ভেতর মাথা ঢুকিয়েছিলাম। দেখুন, কিছুই হয়নি আমার!’

কফিনটি খোলা হলেও সেটি যে স্থান থেকে তুলে আনা হয়েছে সে স্থানে এখনও কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই হাজার বছর পুরাতন কফিন রাখার ওই স্থানটি থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হতে পারে, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।