• সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩১ রাত

মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুডের ৭৫ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

  • প্রকাশিত ০৮:৩২ রাত সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৮
egypt
রায়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের বিপুল সংখ্যক কর্মীর সাজা হলেও নিরাপত্তাবাহিনীর কোনও সদস্যের সাজা ঘোষিত হয় নি। ছবি- এএফপি

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা সর্বোচ্চ কঠিন ভাষায় আজ ঘোষিত রায়ের নিন্দা জানাচ্ছি। নিরাপত্তা বাহিনীর কোনও সদস্যের সাজা না হওয়ায় প্রমাণিত হয়, এটা ছিল বিচারের নামে প্রহসন।’

মিশরের একটি আদালত ২০১৩ সালের এক সহিংসতার ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে প্রায় সাতশ জনের সাজার রায় দিয়েছে। রায়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের ৭৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সংগঠনটির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছন প্রায় ছয়শ জন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ২০১৩ সালের ওই ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে শত শত বিক্ষোভকারী প্রাণ হারালেও শনিবার দেওয়া আদালতের রায়ে নিরাপত্তাবাহিনীর কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষিত হয়নি। সেজন্য মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে এ রায়কে বিচারের নামে প্রহসন আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

২০১২ সালের ৩০ জুন মিশরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন মোহাম্মদ মুরসি। সেনাপ্রধান জেনারেল সিসির ক্ষমতা দখলের পক্ষে সমর্থন ছিল ইসরায়েল, সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের। সেসময় মুরসির সমর্থকরা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছিলে। তখন তাদের ওপর চড়াও হয়েছিল সরকারি বাহিনী। নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ব্রাদারহুডকে। আর মুরসির ঠিকানা হয়েছিল কারাগারে। সাজাপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে হত্যার মতো অভিযোগ ছাড়াও সহিংসতা ছাড়াবার অভিযোগ আনা হয়েছিল। সরকার দাবি করেছিল, বিক্ষোভকারীদের অনেকের কাছে ছিল অস্ত্র এবং তারা নিরাপত্তা বাহিনীর আট সদস্যকে হত্যা করেছে। যদিও প্রথমে সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর ৪০ জন সদস্যের নিহত হওয়ার দাবি করেছিল।

২০১৩ সালে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রায় ৮০০ আন্দোলনকারী প্রাণ হারিয়েছিল। এমন অবস্থায় উল্টো বিক্ষোভকারীদের সাতশ জনের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ায় সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। শনিবার দেওয়ার আদালতের রায়কে ‘লজ্জ্বাজনক’ আখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা সর্বোচ্চ কঠিন ভাষায় আজ ঘোষিত রায়ের নিন্দা জানাচ্ছি। নিরাপত্তা বাহিনীর কোনও সদস্যের সাজা না হওয়ায় প্রমাণিত হয়, এটা ছিল বিচারের নামে প্রহসন।’

তোরা কারাগার প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিশেষ আদালতের দেওয়া রায়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষস্থানীয় একজনসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে এশাম আল এরিয়ান, মোহামেদ বেলতাগি এবং সাফওয়াত হিগাজি। তাছাড়াও মুসলিম ব্রাদারহুডের আধ্যাত্মিক নেতা মোহামেদ বাদিসহ আরও অনেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে পাঁচ বছর থেকে ১৫ বছর মেয়াদী কারাবাসের সাজা ঘোষিত হয়েছে।