• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৩ রাত

ধর্ষণের দায়ে ফরাসি আলোকচিত্রীর কারাদণ্ড; বিপাকে সুইডিশ কমিটি

  • প্রকাশিত ০৮:৩৫ রাত অক্টোবর ১, ২০১৮
ফরাসি আলোকচিত্রী জাঁ-ক্লোদ আর্নো
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফরাসি আলোকচিত্রী জাঁ-ক্লোদ আর্নো। ছবি: রয়টার্স

তার বিরুদ্ধে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

নোবেল বাছাই কমিটির সদস্য কাটারিনা ফ্রস্টেনসনের স্বামী ফরাসি আলোকচিত্রী জাঁ-ক্লোদ আর্নোর বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া ৭২ বছর বয়সী জাঁ-ক্লোদ আর্নোর বিরুদ্ধে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীর নাম ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সবমিলিয়ে বিতর্কের মুখে ২০১৮ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার স্থগিত করেছে সুইডিশ কমিটি।    

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সুইডিশ অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ২০০ বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি।  

আর্নোর রায় ঘোষণার সময় স্টকহোম জেলা আদালত বলেছে, “২০১১ সালের ৫ ও ৬ অক্টোবরের মধ্যে একরাতে একটি ধর্ষণের ঘটনায় আসামি দোষী প্রমাণিত হয়েছে।” রায়ে ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে জরিমানার অর্থ প্রদানের কথাও বলা হয়েছে। ফলে কারাদণ্ডের পাশপাশি জরিমানা হিসেবে আর্নোকে ১২ হাজার মার্কিন ডলার গুনতে হবে।

বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা হ্যাশট্যাগ মি-টু আন্দোলনের অংশ হিসেবেই আর্নোর বিরুদ্ধে বের হতে থাকে অসংখ্য অভিযোগ। অভিযোগে জানানো হয়, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির মতো ঘটনাগুলো অ্যাকাডেমি ভবনে ও আর্নোর সাংস্কৃতিক ক্লাবে ঘটেছে। ওই সময় সব অভিযোগ অস্বীকার করেন আর্নো।

কিন্তু প্রবল চাপের মুখে সরকারের তরফ থেকে আর্নোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। সেখানে সব অভিযোগ বাদ পড়লেও একটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। 

এসব অভিযোগ নিয়ে দ্বন্দ্বের পাশাপাশি নোবেল বিজয়ীদের নাম ফাঁস করে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে অ্যাকাডেমিতে ব্যাপক বিভাজন দেখা দেয়। এর ফলে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অ্যাকাডেমি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তাদের মধ্যে আর্নোর স্ত্রী কবি ও লেখক কাটারিনা ফ্রস্টেনসন এবং অ্যাকাডেমির প্রধান প্রফেসর সারা দানিয়াস অন্যতম। আসলে সুইডিশ অ্যাকাডেমির সদস্যদের পদত্যাগের কোনও সুযোগ নেই। তাদের আজীবনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তারা অ্যাকাডেমির কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন।

এদিকে শুক্রবার নোবেল ফাউন্ডেশনের প্রধান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘এই ধরনের যৌন কেলেঙ্কারির পরও সুইডিশ অ্যাকাডেমি আভ্যন্তরীন কোনো পরিবর্তন না আনলে, সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার কাজটি থেকে অব্যাহতি দিয়ে সুইডিশ অ্যাকাডেমিকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিতে পারে নোবেল ফাউন্ডেশন।’ 

উল্লেখ্য, আর্নোর স্ত্রী ফ্রস্টেনসন সুইডেনের সাংস্কৃতিক মহলে বেশ প্রভাবশালী৷ স্বামী আর্নোর সঙ্গে মিলিতভাবে একটি সাংস্কৃতিক ক্লাব চালাতেন তিনি। ক্লাবটি সুইডিশ অ্যাকাডেমির তরফ থেকে আর্থিক সহায়তাও গ্রহণ করত৷