• বুধবার, নভেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩০ রাত

মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন ২ মুসলিম নারী

  • প্রকাশিত ০৮:০৩ রাত অক্টোবর ৩১, ২০১৮
ইলহান ওমর এবং রশিদা তাইব
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলহান ওমর এবং রশিদা তাইব জয়লাভ করতে যাচ্ছেন। ছবি: এএফপি।

এমন এক সময় এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি ঘটতে চলেছে, যখন দেশটিতে মুসলিম ও অভিবাসন বিরোধী প্রচার প্রচারণা দিন দিনই বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা দুজন মুসলিম নারীকে নির্বাচিত করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। সোমালি শরণার্থী ও ডেমোক্র্যাট নেতা ইলহান ওমর এবং ফিলিস্তিন অভিবাসী বাবা-মার সন্তান ডেট্রোয়েটে জন্মগ্রহণকারী রশিদা তাইব জয়লাভ করতে যাচ্ছেন বলে খবর এএফপির।    

উল্লেখ্য, এমন এক সময় এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি ঘটতে চলেছে, যখন দেশটিতে মুসলিম ও অভিবাসন বিরোধী প্রচার প্রচারণা দিন দিনই বাড়ছে। 

এই দুইজনের মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। প্রসঙ্গত, তাদের নিয়ে কংগ্রেসে মুসলিম সদস্যের মোট সংখ্যা তিন জনে দাঁড়াবে।    

ডেমোক্র্যাট নেতা ইলহান ওমর তার দলের হিসেবে পরিচিত মধ্যপশ্চিম অঙ্গরাজ্য মিনেসোটা থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন এবং বিশিষ্ট সমাজকর্মী রশিদা তাইব একটি হাউসের আসনে বাঁধাহীনভাবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।        

অন্যদিকে, মুসলিম আফ্রিকান আমেরিকান কংগ্রেস সদস্য আন্দ্রে কার্সন ডেমোক্র্যাটদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে সম্ভবত পুনর্নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যখন মুসলিম বিরোধী মনোভাব তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই নির্বাচন একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) জানিয়েছে, ২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসে মুসলিম বিরোধী ঘৃণাজনিত অপরাধ ২১ শতাংশ বেড়েছে।

তাইব ও ওমর দুজনেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির বিরোধী পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

তারা ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরোধিতা করছেন, তারা সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা পদ্ধতিকে সমর্থন দিচ্ছেন। রিপাবলিকানরা এই পদ্ধতির বিরোধী। এছাড়াও এই দুই নেতা অভিবাসন ও সীমান্তে যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে তার বিলুপ্তি চান বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশান এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট(আইসিই) দেশব্যাপী অভিবাসন বিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। এতে অভিবাসী সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে দেশ থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ঐতিহ্যগতভাবে বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে যে মনোনয়ন দেয়া হয় এই দুই নারীর প্রার্থী হওয়া তারই অংশ।

বিশেষত, ট্রাম্প আমলে বর্ণ ও নারী অধিকার এবং ক্ষমতায়নের বিষয়টি ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই দুই নারী যেন তারই প্রতিচ্ছবি।