• শনিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫০ সকাল

বর্ণবাদী মন্তব্যে পদ হারালেন নোবেলজয়ী ওয়াটসন

  • প্রকাশিত ১১:৫৯ সকাল জানুয়ারী ১৪, ২০১৯
জেমস ওয়াটসন
জেমস ওয়াটসন। ছবি: সংগৃহীত

জেমস ওয়াটসন, ফ্রান্সিস ক্রিক ও মরিস উইলকিন্স ডিএনএ'র আণবিক গঠন আবিষ্কার করে জিতেছিলেন নোবেল পুরস্কার।

স্কুলজীবনে জীববিজ্ঞান যারা পড়েছেন, তাদের কাছে 'ওয়াটসন অ্যান্ড ক্রিক' বেশ পরিচিত এক জুটির নাম। সেই জেমস ওয়াটসন যিনি বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিক ও মরিস উইলকিন্সের সাথে ডিএনএ'র আণবিক গঠন আবিষ্কার করে জিতেছিলেন নোবেল পুরস্কার।

১৯৬২ সালে নোবেল পুরস্কার জেতার পর জিনতত্ত্বের রহস্য উন্মোচনের পথিকৃৎ জেমস ওয়াটসনের সাফল্যের তালিকায় এরপর এক এক করে উঠতে থাকে একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মান। জীবনের সিংহভাগ কাটিয়ে দিলেন যে গবেষণাগারে, সেখান থেকেই  ৯০ বছরের এই বিজ্ঞানীর সব সম্মাননা, যাবতীয় পদ কেড়ে নেয়া হল এক এক করে। 

জানা গেছে, একের পর এক বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য তাকে এই খেসারত দিতে হয়েছে।

এবারই প্রথম নয়, এর আগেও বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য ২০০৭ সালে ‘কোল্ড স্প্রিং হার্বার ল্যাবরেটরি’-র কাজ হারাতে হয় ওয়াটসনকে। তবে ‘চ্যান্সেলর এমিরেটাস’-সহ তিনটি সম্মানজনক পদে বহাল ছিলেন তিনি, কেড়ে নেওয়া হয়নি সেগুলো। ২০০৭-এ একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, "আফ্রিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি হতাশ। সমাজ বলে বুদ্ধির দৌড়ে তারা আমাদের সমান। কিন্তু গবেষণায় এমনটা ধরা পড়ে না"। শুধু এইটুকই নয়, তিনি আরও বলেছিলেন, "যারা এই কালো মানুষদের সঙ্গে কাজ করেছেন, তারা জানেন সত্যিটা কী"। 

সম্প্রতি 'আমেরিকান মাস্টার্স' নামের একটি তথ্যচিত্রে ওয়াটসন আবারো বলেন, তিনি এখনও নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। জিনের পার্থক্যের জন্যই সাদা ও কালো মানুষের মধ্যে বুদ্ধ্যঙ্ক (আইকিউ)-এর এত তফাত। ওয়াটসনের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কোল্ড স্প্রিং হার্বার ল্যাবরেটরি জানায়, "খুব 'নিন্দনীয়',  'বেপরোয়া' মন্তব্য। বিজ্ঞান তাকে সমর্থন করে না"। এরপরেই তারা ওয়াটসনের বহাল থাকা বাকি তিনটি সম্মানজনক পদ— ‘চ্যান্সেলর এমিরেটাস’, ‘অলিভার আর গ্রেস প্রোফেসর এমিরেটাস’ ও 'সম্মানার্হ ট্রাস্টি’ কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। 

কোল্ড স্প্রিং হার্বার ল্যাবরেটরির সঙ্গে ওয়াটসনের সম্পর্ক বহু পুরনো। ১৯৬৮ সালে ল্যাবের ডিরেক্টর পদে যোগ দেন ওয়াটসন। ১৯৯৪ সালে হন প্রেসিডেন্ট। এর পরে চ্যান্সেলর। তার নামে একটি স্কুলও রয়েছে ল্যাবটিতে। গত বছর অক্টোবর মাসে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার পর থেকে হাসপাতালে শয্যাশায়ী ওয়াটসন। জ্ঞান প্রায় নেই বললেই চলে। ওয়াটসনের ছেলে রুফাস আপসোস করে বলেন, "যে ল্যাবে বাবা সারা জীবন কাটিয়ে দিলেন, তাদের কাছেই আজ তিনি বোঝা হয়ে গেলেন!"