• রবিবার, মার্চ ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০১ রাত

ভারতে ৬টি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানাবে মার্কিন কোম্পানি

  • প্রকাশিত ০৮:৪৭ রাত মার্চ ১৪, ২০১৯
ভারত-যুক্তরাষ্ট্র
দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে সামনে আনা হয় বিষয়টি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে পরমাণু চুল্লি বানাতে দীর্ঘ দিন ধরেই উৎসাহ দেখাচ্ছিল মার্কিন কোম্পানি ওয়েস্টিংহাউস

নিরাপত্তা এবং অসামরিক পরমাণু শক্তি উৎপাদনে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভারতে ছয়টি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্র। টানা দু’দিন বৈঠকের পর বুধবার ওয়াশিংটনে বিষয়টি নিয়ে একমত হয় দু’পক্ষই। তার পর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে সামনে আনা হয় বিষয়টি।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতে এনার্জি সেক্টরে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি বাড়ানোর পক্ষে প্রশ্ন করে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্য দিকে এখন তেল কেনায় সারা পৃথিবীতে তৃতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত। তাই ভারতকে পরমাণু বিদ্যুৎ চুল্লি-সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ বিক্রি করতে উৎসাহ ছিল যুক্তরাষ্ট্রও। পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে তাই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে চুক্তিবদ্ধ হল এই দুই দেশ।

ওয়াশিংটনে এই বৈঠকে হাজির ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখেল এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি আন্দ্রিয়া থম্পসন। তবে যৌথ বিবৃতিতে ছয়টি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করার কথা ছাড়া অন্য কিছু বলা হয়নি।

২০০৮ সালে ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই ভারতের পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে চাচ্ছিল দেশটি। ২০১৬ সালে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির কথা প্রথম জানানো হলেও তা আটকে ছিল আইনি জটিলতায়। ভারতের আইন অনুযায়ী, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কোনও দুর্ঘটনা হলে তার দায় নিতে হবে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানানোর দায়িত্বে থাকা কোম্পানির। অন্য দিকে আমেরিকার দাবি ছিল, দুর্ঘটনার দায় নিতে হবে, যারা এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র তদারকি করবে তাদের। যদিও এই জটিলতার সমাধান কি করা হয়েছে তা খোলসা করা হয়নি সেই যৌথ বিবৃতিতে।

ভারতে পরমাণু চুল্লি বানাতে দীর্ঘ দিন ধরেই উৎসাহ দেখাচ্ছিল মার্কিন কোম্পানি ওয়েস্টিংহাউস। যদিও আইনি জটিলতার কারণেই সেই উদ্যোগে তেমন গতি ছিল না। ২০১৭ সালে আমেরিকার পরমাণু চুল্লিগুলি চালাতে গিয়ে বিপুল লোকসান করে দেউলিয়া হয়ে যায় এই কোম্পানি। গত বছরেই জাপানের তোশিবা-র কাছ থেকে এই কোম্পানিটি কিনে নেয় কানাডার ব্রুকফিল্ডস অ্যাসেট কোম্পানি। এর পরই ওয়েস্টিংহাউস নামের এই কোম্পানিকে বাঁচাতে উদ্যোগী হয় মার্কিন সরকার। মার্কিন  জ্বালানিমন্ত্রী রিক পেরি এই কোম্পানিকেই ভারতে পরমাণু চুল্লি বানাতে বরাত দেওয়ার পক্ষে প্রস্তাব করেন। তখন ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে ছয়টি পরমাণু চুল্লি বানানোর কথা বলা হয়।

২০২৪ সালের মধ্যে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন তিন গুণ করার পরিকল্পনা করছে। আমেরিকা ছাড়া ভারতে পরমাণু চুল্লি বানাতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে রাশিয়াও। গত অক্টোবরেই ভারতে আরও ছ’টি পরমাণু চুল্লি বানানোর কথা জানিয়েছিল দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লি এবং মস্কো। 

এদিকে ভারতের পরিবেশবিদদের দাবি, পরমাণু বিদ্যুতের বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সভ্যতার জন্য ক্ষতিকারক। এছাড়া পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে কোনও দুর্ঘটনা হলে যে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা সামলানোর পরিকাঠামো বা প্রযুক্তিও  নাগালের বাইরে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের একাংশের।