• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

হামলাকারীর ঘোষণাপত্রে ক্রাইস্টচার্চ হামলার কারণ

  • প্রকাশিত ০৪:০৬ বিকেল মার্চ ১৫, ২০১৯
নিউজিল্যান্ড হামলকারী
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্ট। ছবি: নিউজ এইউ

হামলাকারী টুইটারে নিজেকে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং ‘ব্রেন্টন টারান্ট’ নামে পরিচয় দিয়েছে

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে শুক্রবারের হামলার ঘটনা অনলাইনে সরাসরি দেখিয়েছে হামলাকারী নিজেই। একইসঙ্গে অনলাইনে দেওয়া এক ঘোষণাপত্রে এই হত্যাকাণ্ডের কারণও বর্ণনা করেছে সে।

এখন পর্যন্ত ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯জন মানুষ। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।

অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক গণমাধ্যম নিউজডটএইউ জানিয়েছে, ক্রাইস্টচার্চের ডিনস এভিনিউয়ের আল নুর মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় আর্মড পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০মিনিটের দিকে সেখানে হামলার সূত্রপাত হয়। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই শহরের লিনউড এভিনিউয়ের আরেকটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সশস্ত্র হামলায় ডিনস এভিনিউয়ের আল নুর মসজিদে ৪১জন ও লিনউড এভিনিউয়ে ৭জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান লিনউডে আহতদের আরেকজন।

হামলাকারী টুইটারে নিজেকে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং ‘ব্রেন্টন টারান্ট’ নামে পরিচয় দিয়েছে। হামলার সময় সে ক্যামেরা চালু করে পুরো ঘটনাটি অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করে।

অনলাইনে প্রকাশিত ৭৩ পৃষ্ঠার এক বিশদ ঘোষণাপত্রে নিজেকে ‘শুধুই একজন সাদা চামড়ার সাধারণ মানুষ’ বলে উল্লেখ করেছে সে।

২৮ বছর বয়সী ওই হামলাকারীর বর্ণনানুযায়ী, ‘‘স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী পরিবারে জন্ম তার। নিজের দেশের মানুষের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’

হত্যার অভিযোগে শনিবার সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন নিশ্চিত করেছেন হামলাকারীদের একজন জন্মসূত্রে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। হামলাকারীকে ‘উগ্র ডানপন্থী সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।হামলাকারীর বর্ণনা অনুসারে, ইউরোপের মাটিতে সরাসরি অভিবাসীদের সংখ্যা কমাতেই এই হামলা চালায় সে। এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের পর অভিবাসী ও ইসলামপন্থি জঙ্গিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্রেন্টন।

তার মতে, ‘‘আমাদের দেশ কখনোই তাদের হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন শ্বেতাঙ্গও জীবিত থাকবেন ততক্ষণ আমাদের দেশ আমাদেরই। তারা কখনোই আমাদের ভূমি দখল করতে পারবে না।’’

দু'বছর ধরেই এমন হামলার পরিকল্পনা করে আসছিল বলে জানিয়েছে ব্রেনটন। তিনমাস আগেই ক্রাইস্টচার্চে হামলার সিদ্ধান্ত নেয় সে।

তবে নিউজিল্যান্ডই তার হামলার মূল লক্ষ্য ছিল না বলেও উল্লেখ করে সে। বক্তব্যে ইসলামপন্থি জঙ্গি ও অভিবাসীদের ‘হামলাকারী’ আখ্যা দিয়ে নিউজিল্যান্ডে হামলার মাধ্যমে তাদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে বলে জানিয়েছে।

ব্রেন্টনের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই ‘হামলাকারীরা’ তাদের দেশে (অস্ট্রেলিয়া) থাকবে পৃথিবীর কোথাও অস্ট্রেলীয়রা নিরাপদ নন। এমনকি বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চলও না। শ্বেতাঙ্গদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শ্বেতাঙ্গ শিশুদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করা উচিত বলেও উল্লেখ করে সে।

উল্লেখ্য, ইউরোপ জুড়ে বিদেশি 'হামলাকারী'দের হাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি ব্রেন্টনের। ২০১৭ সালের সুইডেনের স্টকহোমে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ১১ বছর বয়সী শিশু এব্বা একেরলান্ডের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেও এই হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। উজবেকিস্তানের এক অভিবাসী ওই হামলা চালিয়েছিল।