• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ রাত

রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাবে খাদ্য নিরাপত্তাহীন দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

  • প্রকাশিত ০৪:৩৭ বিকেল এপ্রিল ৪, ২০১৯
রোহিঙ্গা
রোহিঙ্গা শরণার্থী। ছবি: সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

এই তালিকায় দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে মিয়ানমার, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান

রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাবে খাদ্য নিরাপত্তাহীন দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিসের ২০১৯ গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস: জয়েন্ট অ্যানালাইসিস ফর বেটার ডিসিশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত ভয়াবহ জাতিগত নিধনযজ্ঞের প্রেক্ষিতে সাড়ে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসায় দেশে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারে শরণার্থীদের স্রোত বাংলাদেশে দরিদ্রতম ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক কাঠামো আরো ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পতিত হচ্ছেন কক্সবাজারের স্থানীয়রা। রোহিঙ্গা শরনার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও উচ্চ মাত্রায় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজারের ১৫ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে লক্ষ্য করা যায় যে কক্সবাজারে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা ১৩ লক্ষ। এদের মধ্যে স্থানীয় ও রোহিঙ্গা উভয় সম্প্রদায়ের সদস্যরাই রয়েছেন। তবে শরণার্থীদের ক্ষেত্রে এ সংকটের তীব্রতা বেশি। ফলে উভয় সম্প্রদায়ের জন্যই খাদ্য সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কক্সবাজারে অনেকেই আবাদী জমি ও মৎস্য ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। তাদের অনেকেই দিনমজুর হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু সস্তায় শরণার্থী শ্রমিকদের সহজলভ্যতার ফলে কাজের সুযোগ কমেছে। শ্রমিকদের দৈনিক মজুরিও কমে গেছে।

এছাড়াও ২০১৭ সালে পুওর বা বর্ডারলাইন ফুড কনজাম্পশন সীমায় অবস্থানরত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিমাণ ৩১ শতাংশ হলেও ২০১৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ তা বেড়ে ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার এই তালিকায় দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে মিয়ানমার, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিস-এর সদস্য।