• সোমবার, জুন ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৩৭ সন্ধ্যা

বিপুল ব্যবধানের জয়ে আবারও ভারতের মসনদে মোদী

  • প্রকাশিত ১১:৪০ সকাল মে ২৩, ২০১৯
মোদি
গত ৮ মে, নয়াদিল্লীতে নির্বাচনি প্রচারণায় নরেন্দ্র মোদি। ছবি: রয়টার্স

গতবার এনডিএ জোটে বিজেপি এককভাবে পেয়েছিল ২৮২টি আসন। আর এবারের নির্বাচনে সেই ফলাফলও টপকে গেছে তারা।

সাত দফায় অনুষ্ঠিত হওয়া ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল আজ গণনা করা হচ্ছে। এতে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয় পাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ। এছাড়া এককভাবে বিজেপিও পেয়ছে বিপুল পরিমাণ আসন। বুথফেরত জরিপের ফলাফলে বিজেপির জয়ের আভাসি পাওয়া যাচ্ছিল। তবে ভোট গণনার ফলাফলে সেই জরিপকেও পেছনে ফেলে ভূমিধ্বস জয় পাচ্ছে বিজেপি।  

২৩ মে, বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয়। 

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গণনার প্রাথমিক ফলাফলেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছোঁয় নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি ও তার জোট এনডিএ। 

বিকাল ০৪টায় গণমাধ্যমটিতে প্রকাশিত সর্বশেষ ফলাফলে দেখা গেছে এনডিএ জোটের প্রাপ্ত আসন ৩৪৩টি। এর মধ্যে বিজেপি একাই পেয়েছে ২৯২টি। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস ও তার জোট ইউপিএ পেয়েছে ৯৩টি আসন। অন্যান্য দল সর্বমোট পেয়েছে ৮৮টি আসন।

গতবার এনডিএ জোটে বিজেপি এককভাবে পেয়েছিল ২৮২টি আসন। আর এবারের নির্বাচনে সেই ফলাফলও টপকে গেছে তারা।

দেশটির রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়সহ বেশির ভাগ রাজ্যেই বিজেপি প্রায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। গতবারের নির্বাচনে এসব রাজ্যের বেশিরভাগ আসন জিতে নিয়েছিল কংগ্রেস। এ ছাড়া কর্ণাটক, পঞ্জাব ও তামিলনাড়ুতেও বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গেও ২০১৪ সালের নির্বাচনের তুলনায় ব্যাপক আসন পেয়েছে বিজেপি। সর্বশেষ ফলাফলে বিজেপি পেয়েছে ১৭টি আসন । মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক দল তৃণমূল কংগ্রেস আসন পেয়েছে ২২টি। 

এর আগে গত ১৯ মে, রবিবার শেষ ধাপে সাতটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৫৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশে গত ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপের নির্বাচন শুরু হয়েছিল। 

এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও অন্যান্য কয়েকটি দল মিলে তৈরি জোট এনডিএ এবং দেশটির সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল ভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ইউপিএ মূল প্রতিদন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনি যুদ্ধে বিজেপির এনডিএ এর নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কংগ্রেস নেতৃ্ত্বাধীন জোট ইউপিএ এর অগ্রভাগে রয়েছেন রাহুল গান্ধী।   

তবে এই নির্বাচনকে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শাসনামলের গ্রহণযোগ্যতার নির্বাচন মনে করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ পেয়েছিল ৩৩৬টি আসন। যার মধ্যে ২৮২টি আসন জিতে নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল বিজেপি। বিরোধী অবশ্য মোদির এক্সিট (বিদায়ী) নির্বাচন হিসেবে প্রচারণা চালিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তর প্রদেশের বারানসী আসনের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। 

অন্যদিকে বিগত পাঁচ বছর কংগ্রেস ও তার জোটের রাজনৈতিক সাফল্য যাচাইয়েরও সুযোগ এনে দিয়েছে এই নির্বচন। গত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস মাত্র ৪৪টি আসন পেয়েছিল। কংগ্রেস ও তার নেতৃত্বে থাকা রাহুল গান্ধী কেরালার ওয়েনাড আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।  

এর আগে সাত দফার নির্বাচনের শেষ দিন ১৯ মে বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। জরিপে অংগ্রহণকারীরা জানায়, বিজেপির বিজয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। যদিও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অভিযোগ করেছেন, তিনি এসব জরিপের গল্প বিশ্বাস করেন না। গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কারসাজি করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

২২ মে, বুধবার বিরোধী কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, বুথফেরত সমীক্ষা ভুয়া। ক্ষমতায় যেতে পারবে না মোদি। সংসদ হতে পারে ঝুলন্ত। 

এদিকে ভোট গণনা বা নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার আশঙ্কার বিষয়ে দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। তবে দু’পক্ষই বিজয় উদযাপনের জন্য লাড্ডু, মিষ্টি, কেক, আতশবাজি নিয়ে অপেক্ষা করছে, প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে বিজয় মিছিলেরও।

প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মধ্যদিয়ে নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশে সাতটি ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা ৯০ কোটি। এবারের নির্বাচনে ১,৮৪১টি রাজনৈতিক দলের ৮০০০ এরও বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এরমধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৭২০, এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী ৪ জন। নির্বাচনে এককভাবে জিতে সরকার গঠন করতে ৫৪৩ আসনের লোকসভায় কমপক্ষে ২৭২টি আসন প্রয়োজন।