• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৪ রাত

সাদাসিধে জীবনের আড়ালে ভয়ঙ্কর প্রতাপ সারেঙ্গি

  • প্রকাশিত ০৩:৪০ বিকেল জুন ১, ২০১৯
তাপ চন্দ্র সারেঙ্গি
মন্ত্রীসভায় শপথ গ্রহণকালে প্রতাপ চন্দ্র সারেঙ্গি। বিবিসি

১৯৯৯ সালে উড়িষ্যায় অস্ট্রেলিয় খ্রিষ্টান মিশনারি গ্রাহাম স্টেইন্স ও তার দুই ছেলেকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন এমন অভিযোগ রয়েছে সারেঙ্গির বিরুদ্ধে। 

উড়িষ্যার এক গ্রামের কুঁড়ে ঘর থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনে দাঁড়িয়ে কেন্দ্ৰীয় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয়বার সরকার গঠন করা নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় ৫৮ জন সদস্যের মধ্যে ৫৬ নম্বরে যখন তার নাম ডাকা হয় তখন রাষ্ট্রপতি ভবন চত্বরে চলছিল তুমুল করতালি। অতন্ত সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত প্রতাপ চন্দ্র সারেঙ্গিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। 

কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া এই বিজেপি নেতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রয়েছে এক কালো অতীত যা তার সাদাসিধে জীবনের আড়ালে ঢাকা পড়ে গিয়েছে। 

বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, ১৯৯৯ সালে উড়িষ্যায় অস্ট্রেলিয় খ্রিষ্টান মিশনারি গ্রাহাম স্টেইন্স ও তার দুই ছেলেকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন এমন অভিযোগ রয়েছে  সারেঙ্গির বিরুদ্ধে। তখন এই ঘটনায় অভিযুক্ত উগ্র হিন্দু সাম্প্রদায়িক দল হিসেবে পরিচিত বজরং দলের নেতা ছিলেন সারেঙ্গি।  

যদিও এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

উড়িষ্যায় হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা বাধানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০০২ সালে উগ্র হিন্দু গোষ্ঠীর দ্বারা দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে সারেঙ্গি ও তার দল বজরং দলের ওপর। এ ঘটনায় ৬৬ জনের সঙ্গে আটক হয়েছিলেন সারেঙ্গিও। 

এছাড়াও সারেঙ্গির বিরুদ্ধে অন্তত ১০টি অপরাধের মামলা রয়েছে, তবে এগুলোর একটিতেও তিনি এখন পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হন নি। 

উল্লেখ্য, লোকসভার সদস্য হওয়ার আগে প্রতাপ সারেঙ্গি উড়িষ্যার নীলগিরি আসন থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন। ২০০৪ ও ২০০৯ সালে বিধানসভা নির্বাচনে জেতেন তিনি। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হেরে যান এ বিজেপি নেতা।

এ বছর লোকসভা নির্বাচনে বালাসোর আসনে জয়ে লাভের পর মোদির দ্বিতীয় মন্ত্রীসভায় পশুপালন দফতরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রতাপ সারেঙ্গি। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরপরই ভার্চুয়াল জগতে আলোচনায় আসেন তিনি।