• মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪০ রাত

মুরসির মৃত্যু: যা বলল বিশ্ব

  • প্রকাশিত ০২:৪২ দুপুর জুন ১৮, ২০১৯
মুরসি
কারাবন্দী নিঃসঙ্গ মুরসি। ছবি: রয়টার্স

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস মুরসির মৃত্যুতে ফিলিস্তিনি জনগণের নিকটতম বন্ধু হারানোর সঙ্গে তুলনা করেছে। সংগঠনটির দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, মুরসি জীবনভর সংগ্রাম করেছেন মিশর ও দেশটির জনগণের জন্য, তার সংগ্রামের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম।

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি মারা গেছেন।

স্থানীয় সময় ১৭, জুন সোমবার দেশটির একটি আদালতে শুনানি চলাকালে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান মুরসি।

মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, আদালতে শুনানির সময় মুরসি ফিলিস্তিনের পক্ষে দীর্ঘ বক্তব্য দিচ্ছিলেন মুরসি। প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার পর এজলাস কক্ষেই হঠাৎ তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ সময় মুরসিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুরসিকে মৃত ঘোষণা করে।

মুরসির মৃত্যুতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, রাষ্ট্রপ্রধান ও নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। প্রিয় নেতার মৃত্যুতে দেশটির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে বহু সাধারণ মানুষকেও।

মিশরের ইতিহাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মুরসির মৃত্যুকে সরাসরি হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছে তার দল তাল ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুড।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মুরসির মৃত্যুতে মুসলিম ব্রাদারহুডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা বলা হয়েছে, মোহাম্মাদ মুরসিকে ক্রমান্বয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার ও পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ শুরুর পর মুরসির শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে এবং এরই ধারাবাহিকতায় তার মৃত্যু হলো।

কারাবন্দী মুরসিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা না দিয়ে মিশরের সরকার তাকে (মুরসিকে) মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

মুরসির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর এক টুইট বার্তায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক সারাহ লি উইটসন বলেন, মুরসির মৃত্যুর ঘটনা ভয়ঙ্কর। মিসরের সেনাশাসিত সরকার মুরসিকে বছরের পর বছর বিনা চিকিৎসায় কারাবন্দী করে রেখেছে। কারাবন্দী অবস্থায় তাকে চিকিৎসা বা ওষুধ খেতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি, তার আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করতেও দেওয়া হয়নি।


ঢাকা ট্রিবিউনে আরো পড়তে পারেন: কে এই মুরসি? 

আদালতে মারা গেলেন মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুরসি


মুসরির মৃত্যুর বিষয়ে নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্ত করতে জাতিসংঘের কাছে দাবি জানিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এই কর্মকর্তা বলেন, মিসরের একনায়ক সরকার মুসরিকে নূন্যতম বন্দি অধিকার থেকেও বঞ্চিত করেছে। তার প্রতি স্পষ্টত মানবাধিকার লংঘন করা হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। সেই সঙ্গে মুরসির স্বাভাবিক মৃত্যুর প্রমাণ দাবি করছি।

মুরসির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। মুরসির মৃত্যুর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরদোগান বলেন, গাড়ি থেকে নামার সময় আমার কাছে মুরসির মৃত্যুর খবর আসে। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের শহীদ ভাইদের জন্য দোয়া করছি, আল্লাহ যেন শহীদদের ওপর রহম করেন। আদালতের এজলাসেই তার মৃত্যু হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি আল্লাহর কাছে রহমত তার জন্য কামনা করি।

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি তার ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্টে শোক জানিয়ে লেখেন, মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুর খবর পেয়ে অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। তার পরিবার ও মিশরীয়দের প্রতি সমবেদনা জানাই। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তার কাছে সবাইকে ফিরে যেতে হবে।

তিউনিশিয়ার এনাহাদা আন্দোলন মুরসির মৃত্যুর খবরে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। আনাদোলুর খবরে বলা হয়, সংগঠনটি এক বিবৃতিতে মুরসির পরিবার ও মিশরীয় জনগণের প্রতি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে বলে, আমরা আশা করছি দুঃখজনক এই ঘটনায় মিশরের হাজরো রাজনৈতিক বন্দী মুক্তির পথ সুগম হবে এবং দেশটি একটি নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা করবে।

জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুডের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মুরসির মৃত্যুর জন্য সরাসরি সিসির সামরিক সরকারকে দায়ী করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, অস্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ায় সাত বছরের কারাদণ্ড প্রদান ও কারাবন্দী করে রাখার মাধ্যমেই মুরসিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এর দায় এড়াতে পারে না।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস মুরসির মৃত্যুতে ফিলিস্তিনি জনগণের নিকটতম বন্ধু হারানোর সঙ্গে তুলনা করেছে। সংগঠনটির দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, মুরসি জীবনভর সংগ্রাম করেছেন মিশর ও দেশটির জনগণের জন্য, তার সংগ্রামের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। তিনি শুরু থেকেই জেরুজালেম ও আল আকসার প্রতি ফিলিস্তিনিদের অধিকারেন ন্যায়সংগত লড়াইয়ের প্রতি কথা বলেছেন।

এদিকে মুরসির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ফিলিস্তিনিদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে আসে। সোমবার বিকেলেই জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গনে মুরসির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ওই জানাজায় অংশ নিতে ফিলিস্তিনিদের ঢল নামে।