• শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫২ রাত

আসামের নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়লো আরও ১ লক্ষ মানুষ

  • প্রকাশিত ০৬:০১ সন্ধ্যা জুন ২৬, ২০১৯
আসাম
আসামের একটি গ্রামে নাগরিক তালিকার জন্য অন্তর্ভূক্ত হতে সরকারের দ্বারা দলিলের সত্যতা যাচাইয়ে গ্রামবাসীদের অপেক্ষা, জুলাই ৪, ২০১৮। ছবি: রয়টার্স

গত বছর ৩০ জুলাই প্রকাশিত এনআরসি তালিকায় দেখা গিয়েছিল ৪০ লক্ষের উপরে মানুষের নাম তালিকায় নেই

ভারতের আসামে এক লক্ষেরও বেশি মানুষকে রাজ্যের খসড়া নাগরিক তালিকা (NRC) থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। 

বুধবার (২৬ জুন) এই তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। মোট ১.০২ লক্ষ মানুষের নাম প্রকাশিত হয়েছে নাগরিক পঞ্জির সংযোজিত বহিষ্কার খসড়া তালিকায়। গত বছরের জুলাইতে প্রকাশিত তালিকায় তাদের নাম ছিল। কিন্তু এবার অন্তর্ভুক্তির জন্য তাদেরকে অনুপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত করা হয়েছে। 

আসামের নাগরিক তালিকা ১৯৫১ সালের পরে আর সংশোধিত হয়নি। এনডিটিভি জানায়, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতেই এই তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে।যাদের নাম তালিকায় রয়েছে, তাদের আলাদা আলাদা করে জানানো হবে বাড়ির ঠিকানায় চিঠি দিয়ে। তবে বাদ পড়া ব্যক্তিরা সুযোগ পাবেন পুনর্বিবেচনার আবেদনের। ১১ জুলাইয়ের মধ্যে এনআরসি সেবা কেন্দ্রে তারা আবেদন করতে পারবেন।

গত বছর ৩০ জুলাই প্রকাশিত এনআরসি তালিকায় দেখা গিয়েছিল ৪০ লক্ষের উপরে মানুষের নাম তালিকায় নেই । এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক দেখা দেয়। তালিকায় তাদের নাম পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। খসড়া তালিকায় ২.৯ কোটি মানুষের নাম রয়েছে। আবেদন জমা পড়েছিল ৩.২৯ লক্ষ মানুষের।

সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে আসামের নাগরিক তালিকা তৈরি হচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে ৩১ জুলাই। 

তালিকায় নাম নেই এমন যে কোন ব্যক্তি বহিষ্কারের অর্ডারের প্রত্যয়িত কপি নিয়ে বিচারের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেই সঙ্গে আবেদনের প্রেক্ষিতটিও পেশ করতে হবে।

তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে যে দলিলগুলো আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে তা হলো, ১৯৫১ এর এনআরসি তালিকার বাদ পড়া নাম, ১৯১৭ সালের ২৪ মার্চ মধ্যরাতের আগ পর্যন্ত করা ভোটার তালিকার নামের প্রত্যায়িত কপি, যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্বারা ইস্যু করা ১৯৭১ এর ২৪ মার্চের মধ্যরাতের আগের নাগরিক প্রত্যয়ণ পত্র ও উদ্বাস্তু প্রত্যয়ণ পত্র। 

এছাড়া ত্রিপুরা ও রেশন কার্ড থেকে ইস্যু করা ১৯৭১ এর আগের ভোটার তালিকার প্রত্যায়িত কপিও গ্রহণ যোগ্য হবে। 

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিক তালিকা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘‘একজনও প্রকৃত ভারতীয়র নাম নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাবে না।''