• রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪৬ দুপুর

মিয়ানমারে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি

  • প্রকাশিত ০৮:০৯ রাত জুলাই ৩, ২০১৯
মিয়ানমার-রোহিঙ্গা
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ইনদিন গ্রামে গণহত্যা চালানোর পূর্বমুহূর্তে ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে হাত মাথার পেছনে রেখেছে হাটুগেড়ে দাঁড় করায় দেশটির সেনাবাহিনী ছবি: রয়টার্স

রাখাইনের ও চিন রাজ্যে আরাকান আর্মির সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে চলা ভয়াবহ সংঘর্ষের ধ্বংসাত্বক প্রভাব বেসামরিক লোকজনের ওপর পড়েছে। বার্মিজ সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক আইন ভঙ্গ করা ছাড়াও যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীকর্তৃক দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইন ও চিন রাজ্যে যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিটি। 

স্থানীয় সময় ২ জুলাই, মঙ্গলবার মিয়ানমারে জাতিসংঘের নিযুক্ত মানবাধিকার বিষয়ক দূত ইয়াং লি এ তথ্য জানান। 

২০১৭ সালে এক নৃশংস সামরিক অভিযানে ৭ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ আশ্রয় গ্রহণ করে। জাতিসংঘের তদন্ত কমিটির মতে, ওই অভিযানে গণহত্যা, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ করা হয়। অভিযানটি মূলত ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যেই’ পরিচালিত হয়েছিল।   

তবে ইয়াংগুনের রাজ্য সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ প্রত্যাখান করে আসছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় বিচ্ছিন্নতাবাদী মিলিশিয়াদের দমন করতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। 

মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী এখনও রাখাইন ও চিন প্রদেশের বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। রাখাইনের ‘আরাকান আর্মি’এমনই একটি বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সংগঠন যারা প্রদেশটির স্বায়ত্ত্বশাসনের জন্য লড়াই করছে। 

গত ২২ জুন, দেশটির পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রাজ্য দুটিতে সেবাপ্রদানরত টেলিকম কোম্পানিগুলোকে ইন্টারনেট সেবা প্রদান বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বখ্যাত টেলিকমিউনিকেশন গ্রুপ টেলিনর।   

এর আগে গত সপ্তাহে ইয়াং লি জানিয়েছিলেন, রাখাইন ও চিন রাজ্যদুটিতে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে নিরাপত্তা বাহিনী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটাতে পারে। কিন্তু মঙ্গলবার তিনি এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানান।  

ইয়াং লি বলেন, রাখাইনের ও চিন রাজ্যে আরাকান আর্মির সঙ্গে গত কয়েক মাস ধরে চলা ভয়াবহ সংঘর্ষের ধ্বংসাত্মক প্রভাব বেসামরিক লোকজনের ওপর পড়েছে। বার্মিজ সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক আইন ভঙ্গ করা ছাড়াও যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।  

সম্প্রতি আরাকান আর্মি বাংলাদেশের নিকটস্থ পালেতোয়া এলাকা থেকে ১২ জন নির্মাণ শ্রমিকসহ ৫২ জন বেসামরিক লোককে অপহরণ করেছে বলেও জানান লি।