• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩১ রাত

যৌন হয়রানিমূলক ফোনালাপ ফাঁসের ‘অপরাধে’ নারীর কারাদণ্ড

  • প্রকাশিত ০৩:০৮ বিকেল জুলাই ৮, ২০১৯
যৌন হয়রানি
যৌন হয়রানির প্রমাণ হিসেবে নিজের 'বস' এর সঙ্গে ফোনালাপ রেকর্ড করে তা ছড়িয়ে দেয়ার দায়ে এক নারীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার আদালত। ছবি: এএফপি

যৌন হয়রানির প্রমাণ হিসেবে নিজের 'বস' এর সঙ্গে ফোনালাপ রেকর্ড করে তা ছড়িয়ে দেয়ার দায়ে এক নারীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার আদালত

ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ আদালত যৌন হয়রানির প্রমাণ হিসেবে নিজের 'বস' এর সঙ্গে ফোনালাপ রেকর্ড করে তা ছড়িয়ে দেয়ার দায়ে ইন্দোনেশিয়ার এক নারীর ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে করা আবেদন বাতিল করেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) এই রায়ের বিরুদ্ধে নিজের পক্ষে নতুন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় ভূক্তভোগী ওই নারীর করা আবেদন নাকচ করে দেওয়া হয়, একইসাথে তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভূক্তভোগী ওই নারীর নাম বাইক নুরিল মাকনুন। তিনি লম্বক দ্বীপের মাতারাম শহরের একটি স্কুলে কাজ করতেন। সেখানকার প্রধান শিক্ষক তাকে ফোন করে যৌন হয়রানিমূলক কথাবার্তা বলতেন বলে অভিযোগ করেন নুরিল। নুরিল একদিনের ফোনালাপ রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেন, যেখানে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আপত্তিকর এবং অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। 

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পরবর্তীতে স্কুলের অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যেও রেকর্ডিংটি ছড়িয়ে দেয়া হয় এবং পরে তা স্থানীয় শিক্ষা বিভাগের কাছেও পৌঁছে যায়। সামাজিক মাধ্যমেও কিছুদিনের মধ্যেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। 

এদিকে, ২০১৫ সালে ফোনালাপটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঐ নারীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। আদালতের নথি অনুযায়ী ঐ রেকর্ডিং ছড়িয়ে পড়ার পরপরই যার চাকরি চলে যায় তার। নুরিলের ফোনালাপ ছড়িয়ে দেয়ার কারণে পুলিশের কাছে অভিযোগও করেন ‍তিনি।

এদিকে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ঐ নারীর বিরুদ্ধে 'অশালীন' জিনিসপত্র ছড়ানোর অভিযোগ আনে। এ ঘটনায় দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।