• মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:২১ দুপুর

আন্তর্জাতিক আদালতে ‘ভারতীয় গোয়েন্দার’ মৃ্ত্যুদণ্ড স্থগিত

  • প্রকাশিত ০৮:৫৮ রাত জুলাই ১৭, ২০১৯
কুলভূষণ যাদব
কুলভূষণ যাদব। ছবি: সংগৃহীত

বালুচিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ২০১৬ সালের মার্চে গ্রেপ্তার হন তিনি

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পাকিস্তানের আদালতে মৃ্ত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার সাজা স্থগিত করেছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত৷

জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, সাজা বাতিলে ভারতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৭ জুলাই) নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নৌবাহিনীর সাবেক কমান্ডার কুলভূষণ সুধীর যাদবের বিষয়ে এই রায় দেয়।

১৬ বিচারকের মধ্যে ১৫ জন ভারতের আবদেনের পক্ষে রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি৷ একইসঙ্গে যাদবকে কনস্যুলার সেবা দেওয়ার রায়ও দিয়েছে আদালত৷

আন্তর্জাতিক আদালতকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তান কর্তৃক যাদবের রায়ের বিষয় কার্যকরভাবে রিভিউ এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আগ পর্যন্ত সাজা স্থগিত থাকবে৷

বালুচিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ২০১৬ সালের মার্চে গ্রেপ্তার হন কুলভূষণ যাদব৷ এরপর ২০১৭ সালে পাকিস্তানের সেনা আদালতে তার মৃত্যুদণ্ড হলে তীব্র প্রতিবাদ জানায় ভারত৷

পাকিস্তান বলছে, ইরান থেকে ঢোকার পর কুলভূষণ যাদবকে ২০১৬ সালের ৩ মার্চ বালুচিস্তান থেকে গ্রেপ্তার করে দেশটির সেনাবাহিনী৷

কিন্তু ভারতের দাবি, ব্যবসার কাজে ইরান গিয়েছিলেন কুলভূষণ যাদব, সেখান থেকেই তাকে অপহরণ করা হয়।

ফেব্রুয়ারিতে মামলার শুনানিতে ভারতের আইনজীবীরা বলেন, ‘বিদ্বেষপ্রসূত প্রচারণার‘ উপর ভিত্তি করে যাদবের বিরুদ্ধে ‘প্রহসনমূলক মামলা‘ করা হয়৷ যদিও যাদবের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করেন পাকিস্তানের আইনজীবীরা৷

পাকিস্তানের সেনা আদালতে মামলার রায়ের পর সাজা কার্যকর স্থগিত চেয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে আবেদন করে ভারত৷ এরপর সাজা কার্যকরে স্থগিতাদেশ দেয় জাতিসংঘের আদালত৷

ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন, পাকিস্তানে, বিশেষ করে চীন-পাকিস্তান করিডোরে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য কাজ করেছিলেন যাদব৷ পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি যাদবের সঙ্গে তার পরিবারকে দেখা করা নিয়েও পরস্পরবিরোধী অভিযোগ করে আসছে ভারত ও পাকিস্তান৷ 

ভারতের অভিযোগ, ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর ইসলামাবাদে দেখা করতে গেলে, কুলভূষণের মা ও স্ত্রী-কে হেনস্থা করে পাকিস্তান।

১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত৷ দুইদেশের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে রায় দিলেও সেটি কার্যকরের ক্ষমতা তাদের নেই৷

পরস্পরের বিরুদ্ধ নিয়মিত গুপ্তচরবৃত্তির  অভিযোগ করে থাকে ভারত ও পাকিস্তান৷ বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরসহ বিভিন্ন কারণে নানা যুদ্ধাবস্থাও বিরাজ করে তাদের মধ্যে৷