• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন বাঙালিসহ তিনজন

  • প্রকাশিত ০৫:১৪ সন্ধ্যা অক্টোবর ১৪, ২০১৯
নোবেল

 চতুর্থ বাঙালি হিসেবে নোবেল পুরস্কার অর্জন করলেন অভিজিৎ

দারিদ্র বিমোচন নিয়ে বিশেষ গবেষণার জন্য চলতি বছর তিনজনকে অর্থনীতিতে নোবেল দেওয়া হয়েছে। পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে  অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় নামে একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাঙালিও রয়েছেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত বাকি দুই অর্থনীতিবিদ হলেন অভিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী ফরাসি নাগরিক অ্যাস্থার ডাফলো এবং মার্কিন নাগরিক মাইকেল ক্রেমার।

বাংলাদেশ সময় সোমবার (১৪) বিকেল সাড়ে ৩টায় রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণা করে। এরমাধ্যমে চলতি বছর নোবেল পুরস্কার বিতরণ শেষ হলো। 

১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হলেও ১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো অর্থনীতিতে নোবেল হয়। চলতি বছর অর্থনীতিতে নোবেল প্রদানের ৫১তম আসরে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নোবেল পুরস্কার অর্জনের মধ্য দিয়ে চারজন বাঙালি নোবেল পুরস্কার পেলেন। তবে অর্থনীতিবিদ হিসেবে অভিজিতের অবস্থান দ্বিতীয়। এর আগে একই বিষয় নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৯৮ সালে নোবেল পেয়েছিলেন ভারতেরই আরেক অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।

প্রসঙ্গত, অমর্ত্য সেন ছাড়া আরও দুজন বাঙালি নোবেল পেয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন সাহিত্যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯১৩) অপরজন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশের ড. মুহম্মদ ইউনূস (২০০৬)।

১৯৬১ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া অভিজিতের বাবা দীপক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং তার মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেসের অর্থনীতির বিভাগের অধ্যাপক। 

তিনি কলকাতার সাউথ পয়েন্ট স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৮১ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৩ সালে দিল্লীর জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এম.এ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৮৮ সালে তিনি হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে যান। তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘এসেস ইন ইনফরমেশন ইকোনোমিক্স।’

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক অধ্যাপক হিসেবে ম্যাসাচুসেট্‌স ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) কর্মরত। ২০১৩ সালে বিশ্বের দারিদ্র নিয়ে গবেষণার জন্য অভিজিৎ ও তার স্ত্রী এস্থার ডাফলো যৌথভাবে ‘আব্দুল লতিফ জামিল প্রভার্টি অ্যাকশান ল্যাব’ গড়ে তুলেছিলেন। তাদের সেই গবেষণার ফলসরূপই নোবেল পুরস্কার অর্জন করলেন।  

অর্থনীতি বিষয়ে বিনায়কের লেখা চারটি বই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তার মধ্যে ‘পুওর ইকোনোমি’ বইটি গোল্ডম্যান সাচস বিজনেস বুক সম্মানে ভূষিত হয়। 

এদিকে অভিজিতের স্ত্রী এস্থার ডাফলো বিশ্বের দ্বিতীয় নারী অর্থনীতিবিদ হিসেবে নোবেল অর্জন করলেন। একইসঙ্গে তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অর্থনীতির নোবেল প্রাপক।  

আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে পুরস্কার বিজয়ী তিনজনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা ভাগ করে দেওয়া হবে।