• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০১ দুপুর

জলবায়ু পরিবর্তন: ম্যার্কেল সরকারকে আদালতে নিচ্ছে জার্মান কৃষক পরিবার

  • প্রকাশিত ০২:২২ দুপুর নভেম্বর ১, ২০১৯
জার্মানি
বার্লিনে গ্রিসপিস কার্যালয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা এক কৃষক পরিবার। ছবি: ইউএনবি

এ মামলাটি জার্মানিতে প্রথম কোনো উদ্যোগ, যেখানে কর্তৃপক্ষকে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসে তাদের প্রতিশ্রুতির বরখেলাপের জন্য আইনিভাবে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য করা হচ্ছে

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকার যথেষ্ট কাজ করছে না অভিযোগে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলকে আদালতে নিয়ে যাচ্ছে দেশটির তিন কৃষক পরিবার।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার শুনানি হতে যাওয়া এ মামলাটি জার্মানিতে প্রথম কোনো উদ্যোগ, যেখানে কর্তৃপক্ষকে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসে তাদের প্রতিশ্রুতির বরখেলাপের জন্য আইনিভাবে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসের সমর্থন পাওয়া কৃষক পরিবারগুলোর যুক্তি হলো, তাদের খামারগুলো ইতোমধ্যে মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে আক্রান্ত এবং এ জন্য বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহাসিক গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী জার্মানি আংশিকভাবে দায়ী।

তাদের আইনজীবী রোদা ভেরহেইন বলেন, তার মক্কেলদের চাওয়া হলো নিঃসরণ হ্রাস বিষয়ে সরকারের নিজে থেকে ঠিক করা ২০২০ সালের লক্ষ্যমাত্রাটিকে বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না তা বিচারকরা ঠিক করে দিক।

তিনি এপিকে জানান, জার্মান সরকার ২০০৭ সালে এবং এমনকি তারও আগে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল যে ১৯৯০ সালের তুলনায় তাদের নিঃসরণের হার ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনবে।


আরো পড়ুন - গবেষণা: বন্যার ঝুঁকিতে বাংলাদেশের ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ


“প্রথমে এটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল, পরে তা পরিকল্পনায় পরিণত হয়”, উল্লেখ করে ভেরহেইন বলেন, তারা বাস্তবায়নে বাধ্যবাদকতা থাকা একটি অঙ্গীকার পেতে আদালতে যাচ্ছেন।

জার্মানির পরিবেশ মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে যে তারা ২০২০ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে না। তবে তারা এখন ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫ শতাংশ নিঃসরণ হ্রাসের জন্য আরও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রায় মনোযোগ দিচ্ছে।

তবে গ্রিনপিসের সাথে কাজ করা জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এনিক পিটার্স বলেন, নতুন লক্ষ্যমাত্রার মানে হলো ২০২০ সালের আসল অভীষ্টের পাঁচ বছর পিছিয়ে যাওয়া। যা জার্মানি ও বিশ্বের অন্যান্য এলাকার মানুষের যথেষ্ট ক্ষতি করবে।

“জলবায়ু পরিবর্তনে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়ে জার্মান সরকার জার্মানির মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। আমরা সেটা মেনে নেব না,” বলেন তিনি।