• সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ দুপুর

বিজেপি ও বলিউড

  • প্রকাশিত ০২:১৯ দুপুর জুন ৪, ২০১৯
মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বায়োপিকের একটি পোস্টার। ছবি : সংগৃহীত

রাজনীতি এবং চলচ্চিত্র দুটোই মানুষের মনস্তত্ত্বে গভীর প্রভাব ফেলে। ‘প্রোপাগান্ডা ফিল্ম’ বলে একটা কথা আছে। বাস্তবকে অস্বীকার করে নিজস্ব মতাদর্শের প্রচার।

ভারতে লোকসভা নির্বাচনে টানা দ্বিতীয় বারের মতো জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করছে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি। ভারতীয়দের মনে বিজেপির জায়গা যতটা পোক্ত হয়েছে,তেমনি কংগ্রেসের অবস্থানও নড়বড়ে হয়েছে। রাজনীতির মাঠে শুধুমাত্র কথার ফুলঝুরি ফুটিয়ে নয়, কংগ্রেস বিরোধিতা এবং নিজেদের উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচারে বিজেপি কোনো কমতি রাখেনি। 

চারটি বিষয়ের প্রতি ভারতের সর্বস্তরের মানুষের আগ্রহ প্রবল। ক্রিকেট, রাজনীতি, ধর্ম এবং সিনেমা। ক্রিকেটের মাঠ বাদে বাকি সবক্ষেত্রই বিজেপি তাদের রাজনৈতিক মতবাদ প্রচারে ব্যবহার করেছে। হিন্দুত্বাবাদী অর্থ্যাৎ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রকে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করা। অপর দিকে এবার কংগ্রেস সমর্থন করে সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা। একদিকে কট্টরপন্থী বিজেপি অন্যদিকে উদারপন্থী কংগ্রেস। তবে ভারতীয় জনমত কট্টরপন্থার দিকেই ক্রমশ ঝুঁকছে। কেন? কারণ, বিজেপি গণমানুষের মনস্তত্ত্বে উগ্রজাতীয়তা বাদ, ধর্মান্ধতা ইত্যাদি স্লো-পয়জনিংয়ের মত গেঁথে দিয়েছে। 

রাজনীতি এবং চলচ্চিত্র দুটোই মানুষের মনস্তত্ত্বে গভীর প্রভাব ফেলে। ‘প্রোপাগান্ডা ফিল্ম’ বলে একটা কথা আছে। বাস্তবকে অস্বীকার করে নিজস্ব মতাদর্শের প্রচার। সেখানে শুধু শোসকের যুক্তিই অকাট্য, অন্য কোনকিছু গ্রাহ্য নয়। নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশে আগ্রাসন চালায়। যার অন্যতম আফগানিস্তান এবং ইরাক। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকে আক্রমনের কথা স্বীকারও করে নেয়। অর্থ্যাৎ, ইরাকে রাসায়নিক অস্ত্রের কোন অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিজেদের ভুল ঢাকতে নিজেদের গল্প দিয়ে ছবি বানানো হয়েছে হলিউডে। যাতে মার্কিন জনগণের কাছে মার্কিন যোদ্ধাদের মহৎ করে তোলা যায়। এসব ছবি ভুরি ভুরি পুরস্কার পেয়েছে, অস্কার জিতেছে। যেমন, দ্য হার্ট লকার। এছাড়াও আছে ডেভিলস ডাবলস, আমেরিকান স্নাইপার, গ্রিন জোন। এরকম আরও অনেক ছবি আছে। আবার ১৯৭৯ সালে ইরানে আমেরিকান দূতাবাসে হামলা নিয়ে ‘আরগো’ ছবির কথাও বলা যায়।

এছাড়াও হিটলারের উগ্র জাতীয়তাবাদকে জায়েজ করতে ‘ট্রিম্ফু অব দ্য উইল’ নামের এক ডকুমেন্টারি তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে দেখানো হয়েছিল হিটলারের সব সিদ্ধান্তই ছিল সঠিক! এসবই প্রোপাগান্ডা ফিল্মের উদাহরণ। 

বলিউডে বিজেপি ঠিক এই কাজটাই খুব সুন্দরভাবে করেছে এবং করে যাচ্ছে। সিনেমার কাহিনীর মাধ্যমে উগ্রবাদী রাজনীতির মহাত্ম্য, উগ্র দেশপ্রেম প্রচার করছে, মানুষের মনে এসব বিষবাষ্প ছড়িয়ে নিজেদের জায়গা পোক্ত করেছে এবং এতে যে তারা সফল তাতো দ্বিতীয় মেয়াদে বিজেপির বিশাল জয় দেখেই বোঝা যায়। 

বিজেপির প্রোপাগান্ডা ছবিগুলোর দুটো উদ্দেশ্য আছে। ১. দেশপ্রেমের ছদ্মবেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ, দাঙ্গাকে জায়েজ করা, ২. কংগ্রেস পার্টি এবং গান্ধী পরিবারকে আক্রমণ। 

এরকম কয়েকটা ছবির নাম করা যাক, ‘বাদশাহো’, ‘ইন্দু সরকার’, ‘উড়ি’, ‘রাজি’, ‘দ্য গাজি অ্যাটাক’, ‘পরমাণু: দ্য স্টোরি অব পোখরান’, ‘দ্য অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’, ‘ঠাকরে’এবং খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বায়োগ্রাফি মুভি ‘পি.এম. নরেন্দ্র মোদি’ এবং ওয়েব সিরিজ ‘মোদি: জার্নি অব আ কমন ম্যান’। 

‘বাদশাহো’ ছবিটির গল্প মূলত এক রাজ পরিবারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে এবং সেই সম্পদ রক্ষা করার গল্প। কিন্তু এখানে পরতে পরতে দেখানো হয়েছে ইন্দিরা গান্ধীর সময়কালে জরুরি অবস্থার সময়টি। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে ১৯ মাস পুরো ভারতজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। ‘বাদশাহো’ ছবিতে সঞ্জীব নামের দূর্নীতিগ্রস্ত এবং চরিত্রহীন এক কংগ্রেস নেতাকে দেখানো হয়েছে। যিনি কিনা রাজকুমারীকে বশে আনতে না পেরে তাদের পৈতৃক সব সোনা-দানা বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়। সেই নেতার চরিত্রটি আবার সাজানো হয়েছে ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর মত করে। ছবিটিতে ইন্দিরা গান্ধী এবং সঞ্জয় গান্ধীকে নেতিবাচকভাবে দেখানো হয়েছে। 

‘ইন্দু সরকার’ ছবিটিও পুরোপুরি কংগ্রেসবিরোধী ছবি। এই ছবিরও পটভূমি সেই জরুরি অবস্থা। ইন্দু সরকারের স্বামী সরকারি কর্মকর্তা, জরুরি অবস্থাকে সমর্থন করেন এবং সুযোগ লুটতে চান কিন্তু ইন্দু সরকার, জরুরি অবস্থার ঘোরবিরোধী অবস্থান নেন এবং আন্দোলন শুরু করেন। এই ছবিতে ইন্দিরা গান্ধী এবং তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধীকে দেখানো হয়েছে নেতিবাচক চরিত্রে। 

ইন্দিরা গান্ধীর পরে তার ছেলে সঞ্জয় গান্ধী কংগ্রেসের কাণ্ডারি হবেন এমনটাই সবাই ভেবেছিলেন। মায়ের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন সঞ্জয়। রাজনীতির পথে বেশ অনেকটা এগিয়েও ছিলেন কিন্তু বিমান দূর্ঘটনায় তিনি মারা গেলে কংগ্রেসের হাল ধরেন তার বড় ভাই রাজিব গান্ধী। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে গান্ধী পরিবারের দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে ওঠে। এমনকি সঞ্জয়ের স্ত্রী মানেকা এবং ছেলে বরুন দুজনেই পরে বিজেপিতে যোগ দেন এবং মেনেকা লোকসভার সদস্য ও মন্ত্রী হয়েছিলেন বিজেপি থেকে। অপরদিকে বরুন বিজেপি থেকে লোকসভায় জিতেছেন। 

গান্ধী পরিবারের পরের প্রজন্ম অর্থ্যাৎ এখন যারা কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী, তাদেরকেও আক্রমণ করা হয়েছে ‘দ্য অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ ছবিতে। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নিয়ে বানানো হয়েছে এই বায়োপিক। তবে এখানে মোটেও কংগ্রেসের গুণগান গাওয়া হয়নি, বরং দেখানো হয়েছে মনমোহন সিং দায়িত্ব পালনকালে কীভাবে গান্ধী পরিবার ও কংগ্রেসের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। যা রটে তার কিছুতো ঘটে। এটা সত্যি যে, সোনিয়া গান্ধী এবং কংগ্রেস পার্টির সাথে মনমোহন সিংয়ের দূরত্ব ছিল। আবার সোনিয়া গান্ধীর প্রতি মনমোহন সিংয়ের আনুগত্যও ছিল শতভাগ, সেটাও সত্যি। তবে ‘দ্য অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ ছবিতে বারবারই কংগ্রেস এবং গান্ধী পরিবারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে সরকার পরিচালনায় নাক গলানোর অভিযোগে। ছবিতে বিজেপি নেতা অটল বিহারি বাজপেয়ী এবং এলকে আদভানির চরিত্রও এসেছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচকভাবে। যেখানে দেখানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ডক্টর সিং যে পারমানবিক চুক্তি করেছিলেন সেখানে কংগ্রেস এবং গান্ধী পরিবার তার বিরোধিতা করলেও বিজেপি এবং অটল বিহারি বাজপেয়ি, মনমোহন সিংকে সমর্থন করেন। 

এবার আসা যাক আরেকটি উপাদান অর্থ্যাৎ দেশপ্রেমকে পুঁজি করে নির্মিত সিনেমাগুলোর ক্ষেত্রে। ‘উড়ি’, ‘রাজি’, ‘দ্য গাজি অ্যাটাক’ এবং ‘পরমাণু: দ্য স্টোরি অব পোখরান’ চারটি ছবিতেই দেশপ্রেমকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে উগ্র দেশপ্রেমকেও প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। যেমন ‘উড়ি’ ছবিতে মোদির আমলে পাকিস্তানে ঢুকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কাহিনী দেখানো হয়েছে। যেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনী কত সাহসী এবং সরকারপ্রধান হিসেবে মোদি কতটা সাহসী মূলত এসবই ঘুরে ফিরে দেখানো হয়েছে এবং পাকিস্তানকে জঙ্গি রাষ্ট্র দেখানো হয়েছে। এই ছবির একটা সংলাপ আছে অনেকটা এইরকম, ‘এটা নতুন ভারত। এরা ঘরের ভিতরে ঢুকে মারবে।’ অর্থ্যাৎ, মোদির ভারত নতুন ভারত যারা আগ্রাসী হবে। এই বার্তাটি ছবির মাধ্যমে খুব সুন্দরভাবে মানুষের মনে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। 

‘রাজি’ ছবিতে দেখানো হয়েছে এক ভারতীয় নারী চরের গল্প। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে এই ছবিতে ‘ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ’ বলে চালানো হয়েছে।

‘দ্য গাজি অ্যাটক’ ছবিতেও তাই। ১৯৭১ সালের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তৈরি ছবিটিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ এসেছে খুবই সামান্য। বড় করে দেখানো হয়েছে নৌ যুদ্ধে ভারতের বীরত্বকে। ভারতীয় বাহিনী কীভাবে পাকিস্তানের সাবমেরিন ধ্বংস করেছে সেই গল্প দেখানে হয়েছে ছবিটিতে। 

‘পরমাণু: দ্য স্টোরি অব পোখরান’ ছবিটিও দেশপ্রেমের গল্প। তবে এখানে যুদ্ধ নেই। এখানে আছে পারমাণবিক শক্তি। ভারত কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তানের চোখ ফাঁকি দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হলো সেই গল্প দেখানো হয়েছে। ১৯৯৮ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনী পোখরানে অত্যন্ত গোপনে পারমাণবিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায় এবং এর মাধ্যমে নিজেদেরকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে ভারত। সে সময়ে ভারতের ক্ষমতায় ছিল বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ি। মূলত ছবিটিতে বাজপেয়ি সরকারের সাহস এবং দূরদর্শীতার প্রশংসা করা হয়েছে। 

‘উড়ি’, ‘রাজি’, ‘দ্য গাজি অ্যাটাক’এবং ‘পরমাণু: দ্য স্টোরি অব পোখরান’ সবকটি ছবির একটা মিল আছে। সব ছবিতেই ভারতকে শান্তিপ্রিয়, নিরীহ রাষ্ট্র হিসেবে দেখানো হয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই উপমহাদেশ ও বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের আগ্রাসী ভূমিকার কোনো নজির দেখানো হয়নি। 

এরপর আসা যাক বায়োপিকে। ‘ঠাকরে’ ছবিটি করা হয়েছে উগ্রবাদী রাজনীতিক এবং শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরের জীবনী অবলম্বনে। যেখানে আদালতে দাঁড়িয়ে ঠাকরে বাবরি মসজিদ ভাঙার পক্ষে জোর গলায় যুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন। ধর্মীয় এবং আঞ্চলিক উগ্রবাদ প্রচার করা হয়েছে পুরো ছবিজুড়ে। আবার ছবিতে বালঠাকরের চরিত্র করার জন্য বেছে নেয়া হয়েছে একজন মুসলিম অভিনেতা নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকিকে। যে বালঠাকরে কট্টর মুসলিমবিরোধী, মুসলিম হত্যাকারী, ধর্মীয় দাঙ্গার হোতা তাকেই কিনা মহান বানানো হয়েছে এই ছবির মাধ্যমে। হতেই হবে, কারণ বালঠাকরে, মোদি, এলকে আদভানি, মোদি সবার চরিত্র একই, ধর্মীয় উগ্রবাদকে পুঁজি করে সহিংস রাজনীতি। 

এত কিছু নিয়ে যখন এত ছবি হলো তখন বিজেপির নতুন দিনের কাণ্ডারি নরেন্দ্র মোদিই বা বাদ যাবেন কেন? সম্প্রতি দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। লোকসভা নির্বাচনের আগেই মোদির বায়োপিক ‘পি.এম. নরেন্দ্র মোদি’ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা লোকসভা নির্বাচনের পরে গত ২৪মে মুক্তি দেওয়া হয়। এই ছবিজুড়ে মোদির উগ্র রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার করা হয়েছে। এই মোদিই ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার মূল হোতাদের অন্যতম ছিলেন। মোদির জীবনী নিয়ে আরেকটি ওয়েব সিরিজ করা হয়েছে ‘মোদি: জার্নি অব আ কমন ম্যান’ নামে। দুটোতেই সামান্য চা-ওয়ালা থেকে মোদির ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার ইতিহাস দেখানো হয়েছে।যার পরতে পরতে রয়েছে ধর্মীয় উগ্রবাদের প্রচার, ধর্মীয় দাঙ্গা এবং হত্যাকাণ্ড। এই উগ্রবাদই বিজেপির শক্তি। তাই একে আরো ছড়িয়ে দিতে কোন কার্পণ্যই করবে না তারা।