• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

বার কাউন্সিল নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় বিএনপি অপপ্রচার ছড়াচ্ছে: আ. লীগ

  • প্রকাশিত ০৭:৪০ রাত মে ১২, ২০১৮
বার কাউন্সিল নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় বিএনপি অপপ্রচার ছড়াচ্ছে: আ. লীগ
আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলন

আগামী সোমবার (১৪ মে) অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা নিজেদের পরাজয়ের আশঙ্কায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রার্থী সিনিয়র অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার। শনিবার (১২ মে) বিকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের উত্তর হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বার কাউন্সিল নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী প্রার্থী অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন।

অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, ‘সারাদেশের আইনজীবীরা তাদের (বিএনপির নীল প্যানেল) সমর্থন করছে না। মাসব্যাপী প্রচার-প্রচারণা করে তারা এ বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। আর এ কারণে নিজেদের (বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী প্রার্থীরা) নিশ্চিত পরাজয় জেনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে আমি মনে করি, সচেতন আইনজীবীরা এতে কান দেবে না।’

বার কাউন্সিলের বর্তমান এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমরা কিছু নিয়ম করেছি। ছবিসহ ভোটার তালিকা করা হয়েছে। ভোটারদের ভোটের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি নিয়ে আসতে বলেছি। এ কারণে এ নির্বাচনে জাল ভোটের কোনও সুযোগ নেই।’

নির্বাচনে ফলাফল মেনে নেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফলাফল যা হোক আমরাও মেনে নেবো।’

ভোট গণনা শেষে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল সিটের একটি কপি চেয়ে বিএনপি প্রার্থীদের দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, ‘বার কাউন্সিল নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা থাকেন একজন করে জেলা জজ। তিনি যা ভালো মনে করেন, তা-ই করবেন। এতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। আইন অনুযায়ী যেভাবে ফলাফল দেওয়ার বিধান রয়েছে সেভাবেই হবে। আমরা সেটাই মেনে নেবো।’

ঝালকাঠি জেলায় ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে বিএনপির প্রার্থীদের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে তিনি বলেন, ‘এ কথা সম্পূর্ণ অবান্তর, অযৌক্তিক। তাদের ভয়ভীতি দেখানোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের বার কাউন্সিলের নির্বাচন অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে হয়। এখানে ভয়ভীতি দেখানোর কোনও সুযোগ নেই।’

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ অনুসারে প্রতি তিন বছরে একবার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন হয়।বার কাউন্সিল মূলত ১৫ সদস্যের কমিটি দিয়ে পরিচালিত হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে ১৪ জন সদস্য নির্বাচিত হয়ে বার কাউন্সিল পরিচালনার দায়িত্ব পান। তবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনী কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধীকার বলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

এবারের নির্বাচনে ভোটার ৪৩ হাজার ৭১৩ জন। নিয়ম অনুসারে ১৪টি পদের মধ্যে আইনজীবীদের ভোটে সাধারণ আসনে ৭ জন এবং আঞ্চলিকভাবে (গ্রুপ আসনে) ৭ জন আইনজীবী বার কাউন্সিল পরিচালনার জন্য সদস্য নির্বাচিত হন।

পরে নির্বাচিত ১৪ সদস্যের মধ্যে থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও মতামতের ভিত্তিতে একজনকে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।

এবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের প্যানেল

সাধারণ আসনে আছেন বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুয়ায়ুন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বার কাউন্সিলের ফিন্যান্স কমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম, বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম (জেড আই) খান পান্না, অ্যাডভোকেট পরিমল চন্দ্র গুহ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল।

পাশাপাশি গ্রুপ আসনের প্রার্থীরা হলেন (গ্রুপ- এ) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বর্তমান কমিটির নির্বাচিত সদস্য ও লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, (গ্রুপ- বি) মো. কবির উদ্দিন ভূঁইয়া, (গ্রুপ- সি) ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুল, (গ্রুপ- ডি) এ. এফ. মো. রুহুল আনাম চৌধুরী, (গ্রুপ- ই) পারভেজ আলম খান, (গ্রুপ- এফ) মো. ইয়াহিয়া এবং (গ্রুপ- জি) রেজাউল করিম মন্টু।