• রবিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০২ রাত

জামালপুরে শুরু হয়েছে ৩দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা

  • প্রকাশিত ১০:২১ রাত মার্চ ১৬, ২০১৯
জামাই মেলা
জামালপুরে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী জামাই মেলা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন।

মেলা উপলক্ষে এই অঞ্চলের বিবাহিত নারীরা তাদের স্বামীদের নিয়ে নিজেদের বাবা-মায়ের কাছে বেড়াতে আসেন

জামালপুর সদর উপজেলার পূর্ব এলাকার ৭নং ঘোড়াধাপ ইউনিয়নের গোপালপুর বাজারে শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা। বৃটিশ আমল থেকে গোপালপুরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই জামাই মেলা। প্রতিবছর ১লা চৈত্র থেকে শুরু হয়ে এই মেলা ৩রা চৈত্র পর্যন্ত চলে এই মেলা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী গোপালপুর মেলার প্রচলন শুরু হয় বৃটিশ আমল থেকে। গোপালপুর বাজারে ছিল একটি বিরাট বটবৃক্ষ। সেই বটবৃক্ষের নিচে বারুনি স্নান উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জমায়েত হতো সেখানে। সেই উপলক্ষে সেখানে মেলা বসতো। পরবর্তীতে হিন্দুদের পাশাপাশি এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনও সেখানে মেলা বসাতে শুরু করে। সেই থেকে মুসলমানরা গোপালপুর মেলাকে ইসলামি মেলা নাম দিয়ে প্রতিবছর বাংলা ১ চৈত্র এই মেলার আয়োজন করা শুরু করে। তবে যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসা এই মেলা এখন আর ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত নয়। জাতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে গোপালপুর মেলা এখন সবার জন্য উন্মুক্ত এবং সার্বজনিন।


প্রতিবছর গোপালপুরের এই মেলাকে কেন্দ্র করে আনন্দে মেতে আশে[আশের ৪-৫ ইউনিয়নের মানুষ। মেলা উপলক্ষে বাড়ির মেয়ে ও জামাইকে দাওয়াত করার প্রচলন রয়েছে এই এলাকায়। মেলা উপলক্ষে এই অঞ্চলের বিবাহিত নারীরা তাদের স্বামীদের নিয়ে নিজেদের বাবা-মায়ের কাছে বেড়াতে আসেন। এই সুবাদে এই মেলার নাম এখন জামাই মেলা।

ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় গেলে পাওয়া যাবে নানা প্রকার মিষ্টি-মন্ডা, চমচম, গোল্লা, সন্দেশ, মুড়ি-মুড়কি, ঝুরি, বাতাসা, কদমা, নৈ-টানা ও সাজ ইত্যাদি। এছাড়াও মেলায় বিভিন্ন লোহার সামগ্রী এবং হসিহসুদের খেলনা পাওয়া যায়। অন্যদিকে পোষাক, মৃৎশিল্পের বিভিন্ন পণ্য, তৈজসপত্র, আসবাপত্র, বিভিন্ন প্রকার ফার্নিচার, সিসার ও মাটির তৈরী হাড়ি-পাতিল এই মেলায় পাওয়া যায়। এসবের পাশাপাশি বিনোদনের ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে এই মেলায়। এর মধ্যে রয়েছে পুতুল নাচ, নাগর দোলা ও লাঠি খেলা ইত্যাদি।