• শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৩ রাত

একেই বলে বন্ধুত্ব! (ভিডিও)

  • প্রকাশিত ০৭:৫৬ রাত এপ্রিল ১২, ২০১৯
ঝ্যাং
ছয় বছর ধরে এভাবেই বন্ধুকে কাঁধে চাপিয়ে স্কুলে নিয়ে যায় ঝু। ছবি: সংগৃহীত

সেই ছোট্টবেলায় ফার্স্ট গ্রেডে পরিচয়, তারপর ক্লাসে নিয়ে যাওয়া, স্কুলের সময় খাবার খেতে সহায়তা করা কিংবা টয়লেটে নিয়ে যাওয়া আবার বাড়িতে নিয়ে আসা গত ছয় বছর ধরে বন্ধুর জন্য হাসিমুখে এসব করে যাচ্ছে জু।

‘জলছবি, রঙ মশাল...রূপকথার পায়রাদের গল্প বল...বন্ধু চল’- বিখ্যাত এই গানটি দূরন্ত কৈশোরের দুর্দান্ত বন্ধুত্বের কথা বলে। বাংলা ভাষায় গাওয়া এই গানটি সম্ভবত কখনোই শোনেননি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের কিশোর জু বিংইয়াং। তবে বন্ধুর প্রতি সহমর্মিতা আর ভালোবাসার অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে সে।

মাত্র চার বছর বয়সে দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগে পায়ের পেশীর জোর হারিয়ে ফেলে জু-এর বন্ধু ঝ্যাং জি। ফলে হাঁটাচলা করা ঝ্যাংয়ের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য। স্কুলে ভর্তির পর শুরুর দিকে বাবা-মা তাকে স্কুলে নিয়ে যেতেন। কিন্তু স্কুলের এক কক্ষ থেকে আরেক কক্ষ কিংবা স্কুলের টয়লেটে যাওয়ার সময় তারা কেউই সঙ্গে থাকতে পারতেন না। 

তবে ঝ্যাংয়ের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তার বন্ধু। সেই ছোট্টবেলায় ফার্স্ট গ্রেডে পরিচয়, তারপর ক্লাসে নিয়ে যাওয়া, স্কুলের সময় খাবার খেতে সহায়তা করা কিংবা টয়লেটে নিয়ে যাওয়া আবার বাড়িতে নিয়ে আসা গত ছয় বছর ধরে বন্ধুর জন্য হাসিমুখে এসব করে যাচ্ছে জু।

১২ বছর জুয়ের ভাষায়, “আমি ওর চেয়ে বড়সড়। তাই মনে হল, আমি ওকে সাহায্য না করলে আর কেউই হয়ত করবে না।”

খানিকটা লজ্জা পেয়ে সাংবাদিকদের সামনে সে বলে, “আমার ওজন ৪০ কেজির বেশি আর জুয়ের মাত্র ২৫। তাই ওকে বয়ে বেড়াতে আমার কোনও কষ্টই হয় না।”

মেঘ কিংবা রোদ্দুর, শীত অথবা গ্রীষ্ম প্রতিদিনই ঝ্যাং কে কাঁধে নিয়ে স্কুলে যাওয়া, তার পানির বোতল ভরে দেওয়া, হোমওয়ার্কে সহায়তা এমনকি দুপুরের খাওয়ায় সহায়তা একদিনের জন্যও থেমে থাকে না। এজন্য কোনও অভিযোগ নেই জু-এর। এমনকি নিজের মাকেও ঝুয়ের ব্যাপারে প্রথমে কিছুই জানায়নি সে। মুখ বুজে নিঃস্বার্থে বন্ধুর জন্য কাজ করে যাওয়াতেই তার আনন্দ।

সিচুয়ান অনলাইনকে ঝ্যাং জানায়, “জু আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু। প্রতিদিন ও আমার সঙ্গে পড়াশোনা করে, গল্প আর খেলাধুলা করে। আমি ওর প্রতি কৃতজ্ঞ।”

ভিডিও-