• রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৮ রাত

শত নারীর ভরসা কুড়িগ্রামের মরিয়ম বুবু

  • প্রকাশিত ০৫:২৬ সন্ধ্যা এপ্রিল ২৭, ২০১৯
মহিলা উন্নয়ন সমিতি
মরিয়ম বেগমের প্রতিষ্ঠা করা মহিলা উন্নয়ন সমিতিতে নারীদের প্রশিক্ষণ। ছবি: ইউএনবি

আর্থিক অনুদান পেলে তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় মিনি গার্মেন্টস দিয়ে এলাকার হতদরিদ্র যুব-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চান

কুড়িগ্রামের বেকার নারীদের মাঝে আশার আলো ছড়াচ্ছে 'মহিলা  উন্নয়ন সমিতি'। জেলার বেকার যুবতী ও বিধবা মহিলাদের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছেন এই সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মরিয়ম বেগম। বাড়তি আয়ের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য ফেরাতে দূর দূরান্ত থেকে নারীদের পাশাপাশি পুরুষরাও ছুটে আসছেন তাদের মরিয়ম বুবু’র কাছ থেকে কাজ শিখতে।

জেলার বেকার এবং হতদরিদ্র মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এ লক্ষ্যে খুলেছেন মহিলা উন্নয়ন সমিতি। বর্তমানে এই সমিতির সদস্য সংখ্যা তিনশ' জনে দাঁড়িয়েছে। তারা সবাই মিলে চেষ্টা করছেন জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর। 

তবে, জীবনের শুরুটা মোটেই সহজ ছিল না মরিয়ম বুবু'র জন্য। মাত্র ১৫ বছরে বয়সে দর্জি দেলোয়ার হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের দু'জনের বাড়ী কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের আস্করনগর বাণিয়াটারী গ্রামে। দরিদ্র স্বামীর সংসারে সন্তান আসার পর তাদের সংসারের দারিদ্রতা আরো তীব্র আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে সংসারের দৈন্যতা দেখে স্বামীর কাছ থেকে দর্জির কাজ শিখে নেন উদ্যমী মরিয়ম বেগম।

এরপর বিভিন্ন জনের কাছে পরামর্শ নিয়ে প্রশিক্ষণ নেন আধুনিক পোষাক তৈরীর কলা কৌশলের। হয়ে ওঠেন একজন দক্ষ প্রশিক্ষক। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তার সুনাম। প্রশিক্ষণের জন্য উৎসাহীরা ভিড়তে থাকেন তার কাছে। এসবের প্রেক্ষিতে ২০০৬ সালে মরিয়ম বেগম গড়ে তোলেন ‘আস্করনগর বাণিয়াটারী মহিলা উন্নয়ন সমিতি’। তার এই প্রতিষ্ঠানের দিকে সহায়তার হাত বাড়ায় সরকারি সেবা সংগঠনগুলো। পরবর্তীতে তিনি নাগেশ্বরী উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে সমিতি’র রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত হন। এরপর উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও উপজেলা সমবায় অফিস থেকে রেজিষ্ট্রেশনও পান তিনি। 

এক পর্যায়ে এলাকার গরীব ও বিধবা মহিলাদের ডেকে এনে তিনি সেলাই প্রশিক্ষণসহ ১৬ ধরণের কুটির শিল্পের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। তার এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি তিনশ' নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণসহ টেইলারিং ব্লক, বাটিক, এম্বয়ডারি, কারচুপি, বাঁশের তৈরী মোড়া, কার্পেট, পুতির বিভিন্ন ধরণের ভ্যানেটি ব্যাগ, পার্সব্যাগ, শোপিস, বেতের শীতল পাটি, বিভিন্ন ডিজাইনের হাতপাখা, প্যান্ট, শার্ট, বোরকা, লেহেঙ্গা, কামিজ, পায়জামা, সাফারী শার্ট, রাজ কোট, পাঞ্জাবী, ফতুয়া তৈরী প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এর পাশাপাশি কাটিং মাস্টার হিসেবেও গোটা জেলায় সুনাম ছড়িয়ে পড়ে মরিয়ম বুবু'র। 

তার এই উদবুদ্ধকরণ কর্মকান্ডের প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন থেকে জয়িতা সম্মাননা পান তিনি। ২০১৫ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর নারীদের আর্থিক উন্নয়নে সহযোগিতা করার উদ্দেশে ঘরের বাইরে বেরিয়ে পড়েন তিনি।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মরিয়ম বেগম জানান, আর্থিক অনুদান পেলে তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় মিনি গার্মেন্টস দিয়ে এলাকার হতদরিদ্র যুব-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন। এজন্য সরকারের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা চান তিনি। 

এই জয়িতা ও উদ্যোমী নারী মরিয়ম বেগম বর্তমানে লালমনিরহাট,  দিনাজপুর, রাজশাহী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং ও লিফলেট প্রচারণার মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে হাজার হাজার তরুনী ও যুবতী মহিলাদের ট্রেইনার হিসেবে সেলাই প্রশিক্ষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।