• রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩৭ বিকেল

এক পায়ে পরীক্ষা দিয়েই জিপিএ-৫!

  • প্রকাশিত ০৪:৫৯ বিকেল মে ৬, ২০১৯
তামান্না আক্তার নূরা
এক পা দিয়ে পরীক্ষা দিয়ে যশোর বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে তামান্না আক্তার নূরা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

এর আগে পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিল জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী তামান্না

ইচ্ছেশক্তি আর পরিশ্রম করলে প্রতিবন্ধকতা যে কোন বাধা নয়, তা প্রমাণ করেছে যশোরের তামান্না আক্তার নূরা। জন্ম থেকেই দুই হাত এবং ডান পা নেই তামান্নার। এক পা দিয়েই লিখেই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তামান্না ঝিকরগাছার বাঁকড়া জনাব আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা মোড়লপাড়া এলাকার রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী জ্যেষ্ঠ সন্তান তামান্না। তার বাবা স্থানীয় ছোট পোদাউলিয়া দাখিল মাদ্রাসার বিএসসির শিক্ষক।

রওশীন আলী জানান, ২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তামান্না জন্মগ্রহণ করে। জন্মের পরে শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে দেখে খুব কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি এবং তার স্ত্রী। কিন্তু সে কারও বোঝা হোক- এটি তারা কখনও চাননি। তাই ছয় বছর বয়স থেকে অনেক চেষ্টা করে তামান্নার মা পায়ের ভেতর কাঠি ও পরে কলম দিয়ে তামান্নাকে লেখা শেখানোর চেষ্টা শুরু করেন। ভর্তি করান বাঁকড়ার একটি স্কুলে। মাত্র দু’মাসের মধ্যেই পা দিয়ে লেখা ও ছবি আঁকা রপ্ত করে ফেলে অদম্য মেয়েটি। বাবা-মা'ই তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসার কাজ করতেন।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালে পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায় সে, সেটাও পা দিয়ে লিখেই। পিইসির ফলাফলে উৎসাহ বেড়ে যায় তামান্না ও তার পিতা-মাতার। পরে জেএসসিতেও সে জিপিএ-৫ পায়। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেলো তামান্না।

এদিকে তামান্নার এমন ফলাফলে অভিভূত হয়েছেন তার স্কুলের শিক্ষকেরা। জনাব আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তামান্নার ফলাফল নিয়ে বলেন, "তামান্না খুব প্রতিভাবান। তার লেখা খুব স্পষ্ট ও চমৎকার। এর আগেও সে পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষাতে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। তার এই ফলাফলে আমরা সবাই খুশি। তামান্নার প্রতি শিক্ষক ও তার সহপাঠীদের দারুণ সহযোগিতা ছিল। সে অনেক দূর যাবে বলে আশা করি"।

এদিকে মেয়ের এমন কীর্তি গড়ার কারিগর হিসেবে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তার মাকে দিয়েছেন তামান্নার বাবা রওশন আলী। তিনি বলেন, "মেয়ের মা একজন মহান ব্যক্তি। তিনিই মেয়েটিকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। বহু প্রতিকূলতা বয়ে গেছে তার জীবনের উপর দিয়ে"।

অনুভূতি জানতে চাইলে তামান্না জানায়, "আশা ছিল গোল্ডেন মার্ক হবে। তবুও এই ফলাফলে আমি খুব খুশি। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা আমার। চিকিৎসক হয়ে দেশের মানুষকে সেবা করতে চাই"।